আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ন্যূনতম ৩৫ এবং শর্ত সাপেক্ষে উন্মুক্ত করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন ৩৫ প্রত্যাশীরা। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে ৩৫ প্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ৩৫ প্রত্যাশী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মো. হারুন বলেন, ‘দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বয়স বৃদ্ধির এই আন্দোলন চলে আসছে। সাম্প্রতি মুয়ীদ চৌধুরীর কমিশন চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স পুরুষদের ৩৫ ও নারীর ৩৭ করার সুপারিশ করলেও বয়সসীমা ৩২ করা হয়। আমরা বয়সসীমা ৩২ প্রত্যাখ্যান করলাম। আমরা ১১ ডিসেম্বর রাজু ভাস্কর্যে সকাল ১০টার দিকে ৩৫ বাস্তবায়নে সমাবেশ ডেকেছি। আমরা মুয়ীদ স্যারের যে কমিশন তার বাস্তবায়ন চাই।’
আরেক সংগঠক মামুন রশিদ রতন বলেন, ‘এই সরকার আমাদের সরকার, রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত সরকার। আমরা চাই এবং আশা করি, অবিলম্বে এই সরকার আমাদের দীর্ঘদিনের এই দাবি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ এবং শর্ত সাপেক্ষে উন্মুক্ত তা বাস্তবায়ন করবেন। আমরা প্রত্যাশা করি, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিষয়টি সমাধান করবেন।’ এ সময় অন্যদের মধ্যে ৩৫ প্রত্যাশী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মো. মমিন, মওদুদ আহমেদ মিঠু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন- ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা জানানো হয়। পরে সংবাদ সম্মেলন করে এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন ৩৫ প্রত্যাশীরা।