মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতাধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইসে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ২ জুন ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, ডিএমটিসিএল-এর সব কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং আওতাধীন সব আউটসোর্সিং কর্মীকে আবশ্যিকভাবে নিয়মিত ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স ডিভাইসে হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে। এই সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতেই সবার বেতন-ভাতা সংক্রান্ত হিসাব প্রস্তুত করা হবে। বিভিন্ন স্টেশনে কর্মরত কন্ট্রোলারদের এই হাজিরা নিয়মিত তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই নতুন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মেট্রোরেলের নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ আউটসোর্সিং কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ডিজিটাল হাজিরার কারণে দীর্ঘদিনের ‘সুপারভাইজার ও স্টেশন কন্ট্রোলারদের স্বেচ্ছাচারিতা’ বন্ধ হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। তবে কয়েকজন অন্যদিকে কর্মকর্তা ও আউটসোর্সিং কর্মী বেতন ও মর্যাদার বৈষম্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হাজিরার নামে ‘ চাপিয়ে দিত অন্যায় সিদ্ধান্ত’
আউটসোর্সিং কর্মীদের হাজিরা কিছু দিন আগেও ম্যানুয়াল শিটের মাধ্যমে নেওয়া হত। তাদের অভিযোগ, এই সুযোগটি কিছু স্টেশন কন্ট্রোলার ও সুপারভাইজার নিজেদের ইচ্ছামতো কর্মীদের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আউটসোর্সিং কর্মী অভিযোগ করে বলেন, ‘আগে ছোটখাটো ভুলের জন্য ডিউটি করার পরেও আমাদের অনুপস্থিত দেখিয়ে দেওয়া হতো। কোনো কারণে একদিন ডিউটিতে আসতে না পারলে শাস্তিস্বরূপ এক দিনের বদলে তিন দিন, এমনকি সাত দিনেরও অনুপস্থিতি রেকর্ড করা হতো।’
নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে এ ধরণের জালিয়াতি ও ব্যক্তিগত আক্রোশের সুযোগ কমবে বলে মনে করছেন সাধারণ কর্মীরা। তবে ডিজিটাল ব্যবস্থার শতভাগ সুফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে এখনো তাদের মনে সংশয় রয়েছে।
বৈষম্যের অভিযোগ ও চাপা ক্ষোভ
ডিজিটাল হাজিরা চালুর এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট মহলে আউটসোর্সিং কর্মীদের মর্যাদা নিয়ে বৈষম্যমূলক মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। ‘সিকিউরিটি গার্ড বা ক্লিনিং স্টাফরা আদৌ ডিএমটিসিএলের কর্মচারি কি না’-এমন উপহাসমূলক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা।
তাদের অভিযোগ, ডিএমটিসিএলের নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স অনেক আগে থেকেই চালু রয়েছে এবং তাদের কখনো এভাবে বেতন কাটার মুখোমুখি হতে হয় না। অথচ আউটসোর্সিং কর্মীদের সামান্য অজুহাতে বেতন কেটে নেওয়া নিয়মিত ঘটনা।
এক ভুক্তভোগী কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে, কারণ সুপারভাইজার আমাকে নাস্তা করতে বলেছিলেন আর আমি যাইনি। পরে জানতে পারলাম সুপারভাইজার নিজে দেননি, দিয়েছেন স্টেশন কন্ট্রোলার। এই তীব্র গরমের মধ্যে ৮ ঘণ্টা পাবলিক সার্ভিস দিয়ে যদি সামান্য কারণে বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে অ্যাবসেন্ট দেওয়া হয়, তবে এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না।’
ডিএমটিসিএলের এই নতুন অফিস আদেশের পর মাঠ পর্যায়ের আউটসোর্সিং কর্মীরা আশা করছেন, ডিজিটাল হাজিরার মাধ্যমে শুধু বেতন-ভাতার হিসাবই নয়, বরং তাদের ওপর হওয়া মানসিক ও আর্থিক হয়রানিরও অবসান ঘটবে।
জয়ন্ত সাহা/এসএন