সিলেট শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটিই কমেছে। গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে এবং মানবিক বিভাগে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডসংশ্লিষ্টরা।
এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬১৪ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ হাজার ৮৫৭ জন কম। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বেলা ২টায় সিলেট শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করা হয়। গত বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ১৩১ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ২ হাজার ২১৯ জন। পাস করেছে ৭০ হাজার ৯১ জন। সিলেটে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬১৪ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ১ হাজার ৭৯১ জন আর মেয়ে ১ হাজার ৮২৩ জন। এই বোর্ডে এবার বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এ হার ৭৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
এবার সিলেটের সাতটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল নেই। গত বছর শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩১টি। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ছিল ২৩টি।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাসের সাফল্য দেখিয়েছে সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তিন বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল হয়েছে বিজ্ঞান বিভাগে। মানবিক বিভাগে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে। গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে না পারায় পাসের হার কমেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ফেল করা শিক্ষার্থীর হার বেশি।’
তিনি বলেন, ‘দুর্গম হাওরাঞ্চল ও গ্রামের অনেক প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন গণিত ও ইংরেজি শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী প্রবণতা, অমনোযোগিতা এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবও খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ। সব দিক বিবেচনায় সার্বিক ফলাফলে আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। যেসব বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’