জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত ক্রীড়াসংগঠক ও ফুটবলার রণজিত দাস আর নেই। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রণজিত দাসের কন্যা, নাট্যকার রীমা দাস। তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯৩ বছর।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন রণজিত দাস। সম্প্রতি সর্দি–কফজনিত জটিলতা দেখা দিলে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মরদেহ সিলেট নগরীর করেরপাড়া এলাকার বাসায় নেওয়া হবে। পরে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। রাতেই নগরের চালিবন্দর এলাকার শশ্মানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, সিলেটের বাসিন্দা রণজিত দাস স্বাধীনতা-উত্তর এ উপমহাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিপুল সম্মান ও খ্যাতি অর্জন করেন। ফুটবলার হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেলেও হকি ও ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবেও তার সুখ্যাতি ছিল। ১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর সিলেট শহরের জিন্দাবাজার কুড়িটুলা এলাকায় তার জন্ম। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।
রণজিত দাস ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের গোলকিপার হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি দুইবার পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় তিনি নিয়মিত খেলেছেন। ১৯৫৭ সালে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়েও মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান হকি দল ও প্রথম বিভাগ হকি লিগেও তিনি খেলেছেন।
খেলোয়াড় জীবনের পাশাপাশি ক্রীড়াসংগঠক হিসেবেও রণজিত দাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল সম্পাদক ও কোচ, পূর্ব পাকিস্তান যুব ফুটবল দলের কোচসহ নানা দায়িত্ব পালন করেন। ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত করে। তার মৃত্যুতে সিলেটসহ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নাঈম/