২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। গত সাত বছরে তার ঘোষিত সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে।
ওই নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় তার নগদ অর্থ এবং স্থায়ী আমানতের কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে সর্বশেষ দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী বর্তমানে তার হাতে রয়েছে নগদ ৩ কোটি ৩১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৪ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৯ হাজার ৯৮০ টাকা এবং স্থায়ী আমানত দেখানো হয়েছে ৯৫ লাখ টাকা, যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ১৫০ গুণ বেশি। একই সময়ে তার বার্ষিক আয় কমেছে প্রায় ৮ লাখ টাকা।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামা বিশ্লেষণে এই তথ্য জানা গেছে। সাত বছরের মাথায় অস্থাবর সম্পদের এমন বৃদ্ধির বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের তুলনায় বর্তমানে তার অস্থাবর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৫৪ টাকা। ২০১৮ সালে তার অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ সাত বছরে এই খাতে তার সম্পদ বেড়েছে ৫ কোটি ২১ লাখ ৩ হাজার ৯৫৪ টাকা। তার কাছে ৫০ তোলা স্বর্ণ থাকলেও এর মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
বর্তমানে তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ৩ কোটি ৩১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ২ কোটি ২৪ লাখ ৯ হাজার ৯৮০ টাকা, স্থায়ী আমানত ৯৫ লাখ টাকা, কোম্পানি শেয়ার ৮৫ লাখ টাকা, ৫০ লাখ টাকা মূল্যমানের গাড়ি, ৫ লাখ ৯৭ হাজার ২০০ টাকা মূল্যমানের আসবাবপত্র, ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিকস পণ্য, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দামের তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫০ তোলা স্বর্ণ (দামের উল্লেখ নেই)।
গত সাত বছরে সরোয়ারের স্থাবর সম্পদের অর্থমূল্য কমেছে ১ দশমিক ১৩ গুণ। ২০১৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী তার স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ছিল ৩ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৪৬২ টাকা। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৮ টাকায়।
২০১৮ সালে তার নামে ৩ দশমিক ৬৫ একর জমি ছিল, যার মূল্য ছিল ১২ লাখ ৯ হাজার ৪২৬ টাকা। চলতি বছরের হলফনামা অনুযায়ী বর্তমানে তার নামে রয়েছে ৩ দশমিক ২৫ একর কৃষিজমি, যার মূল্য ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৮ টাকা। এ ছাড়া তিনটি ফ্ল্যাট ও একটি টিনশেড দালান রয়েছে, যার মোট মূল্য ৩ কোটি ২৬ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৮ টাকা।
২০১৮ সালে মজিবর রহমান সরোয়ারের বার্ষিক আয় ছিল ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৮ টাকা। চলতি বছরে তার ঘোষিত আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখ ২৪ হাজার ৯৩৯ টাকায়।
২০১৮ সালে তার আয়ের উৎস ছিল কৃষি খাত থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ১২ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা, ব্যবসা থেকে ১০ লাখ টাকা, কোম্পানি থেকে সম্মানী ভাতা ২৪ লাখ টাকা, ব্যাংক সুদ থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৮৮ টাকা।
চলতি বছরের হলফনামা অনুযায়ী তার আয়ের উৎসগুলো হলো কৃষি খাত থেকে ২ লাখ টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ১৩ লাখ ৫০০ টাকা, ব্যবসার লভ্যাংশ থেকে ৬ লাখ টাকা, কোম্পানির শেয়ার থেকে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকা, কোম্পানি থেকে সম্মানী ভাতা ১২ লাখ টাকা।
২০১৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে হত্যা, প্রতারণা, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৮টি মামলা ছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৯টি। এ ছাড়া তিনি আগের ১৪টি মামলায় খালাস পেয়েছেন।
সচেতন নাগরিক কমিটি বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি খুবই মজার এবং একই সঙ্গে আশ্চর্যজনকও। যেখানে তার বার্ষিক আয় কমেছে, সেখানে নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা ও স্থায়ী আমানতের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা বেড়েছে। এই অর্থের উৎস কী, সেটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। এটা কীভাবে সম্ভব?’