রাসুলুল্লাহ (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতে পছন্দ করতেন। তিনি সাধারণত তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। সেটা না পেলে শুকনা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণে মুমিন-মুসলমানরাও খেজুর দিয়ে ইফতার করেন। কিন্তু বর্তমানে খেজুরের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কালোবাজারি রুখে দিতে কেউ কেউ বলছেন, খেজুর ছাড়া ভিন্ন কিছু দিয়ে ইফতার করতে। অনেকে বলছেন, খেজুর দিয়েই ইফতারি করতে হবে। অন্যথায় নবিজি (সা.)-এর সুন্নত আদায় হবে না। চলুন ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা জেনে নিই—
রোজা রেখে ইফতার করা সুন্নত। আমাদের দেশে ইফতারে নানা রকম মুখরোচক খাবারের সঙ্গে খেজুর থাকে প্রধান খাবার হিসেবে। রাসুলল্লাহ (সা.) নিজে ইফতারে খেজুর খেতেন এবং সাহাবিদেরও তিনি ইফতারে খেজুর খেতে উৎসাহ দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত রয়েছে।’ (মেশকাত, হাদিস: ১৮৯৩)
আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, ‘নবি (সা.) নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তা হলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত, তা হলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৬৩২)
খেজুর ছাড়াও রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতারে তৎকালীন আরবের প্রচলিত খাবার খেয়েছেন। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আউফ (রা.) বলেন, ‘‘রোজায় আমরা রাসুল (সা.)-এর সফরসঙ্গী ছিলাম। সূর্যাস্তের সময় তিনি একজনকে ডেকে বললেন, ‘ছাতু ও পানি মিশিয়ে ইফতার পরিবেশন করো।’’ (মুসলিম, হাদিস: ১০৯৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) যেসব কাজ নবি হিসেবে করেছেন, তা বিশ্বাসী মানুষের জন্য পালন করা আবশ্যক। তিনি মানুষ বা ব্যক্তি হিসেবে যা করেছেন, তা পালন করা আবশ্যক নয়। তবে এগুলো পালনেও সওয়াব ও বরকত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) খেজুর খেতেন পুষ্টিগুণ এবং তৎকালীন মদিনার প্রধান খাবার হিসেবে। শরিয়তের বিধান হিসেবে খেজুর খেতেন না। খেজুর দিয়ে ইফতার করা রোজাদারের জন্য আবশ্যকীয় নয়; এটি সুন্নত।
লেখক: শাইখুল হাদিস, সিরাজনগর মাদরাসা নরসিংদী; সদস্য, তানযীম ফতোয়া বোর্ড নরসিংদী