বছর ঘুরে আবারও আমাদের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদ। আনন্দের এই দিনটিকে আমরা মনের মতো করে সাজাতে কত কিছুই না করি! কিন্তু আপনি কি জানেন, আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) ঈদের সকালটা কীভাবে শুরু করতেন? কোন বিশেষ নিয়মগুলো মেনে চললে আমাদের ঈদের আনন্দই হয়ে উঠতে পারে একেকটি মূল্যবান ইবাদত? চলুন, প্রিয় নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী ঈদের দিনের পূর্ণাঙ্গ রুটিনটি জেনে নিই সহজ ভাষায়।
ঈদুল আজহার বরকতময় দিনটি শুরু হয় এর আগের রাত থেকেই। ঈদের রাতে জেগে থেকে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে ইবাদত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এরপর ঈদের সকালের পূর্ণাঙ্গ সুন্নাহ রুটিনটি হলো—
১. ঈদের দিন ভোরে দ্রুত ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক ও গোসল করা সুন্নাত। তবে মনে রাখবেন, ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে গোসলের আগে নখ বা চুল কাটা যাবে না; এগুলো নিজের কোরবানি সম্পন্ন করার পর পরিষ্কার করতে হবে।
২. সাধ্যমতো নিজের সবচেয়ে উত্তম পোশাক পরিধান করা, শরিয়তসম্মত সাজসজ্জা করা এবং খুশবু বা সুগন্ধি লাগানো সুন্নাত।
৩. ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান সুন্নাহ হলো—নামাজের আগে কোনো কিছু না খাওয়া। নিজের কোরবানির গোশত দিয়ে দিনের প্রথম খাবার গ্রহণ করাই নবীজির আদর্শ।
৪. সম্ভব হলে হেঁটে হেঁটে এবং আগে আগে ঈদগাহে যাওয়া উচিত। যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে। এছাড়া এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরা সুন্নাত। মনে রাখবেন, ঈদগাহে ঈদের নামাজের আগে বা পরে কোনো নফল নামাজ পড়া মাকরূহ।
অনেকেই ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের সুন্নাহ গুলিয়ে ফেলেন। দুটি ঈদের মৌলিক নিয়ম প্রায় এক হলেও প্রধান পার্থক্য দুটি জায়গায়। প্রথমত, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করতে হয় এবং মিষ্টিমুখ বা বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খেয়ে বের হতে হয়। দ্বিতীয়ত, ঈদুল ফিতরে যাওয়ার পথে নিম্নস্বরে তাকবীর পড়তে হয়, যেখানে ঈদুল আজহায় পড়তে হয় উচ্চস্বরে।
ঈদের নামাজ শেষে একে অপরের সাথে দেখা হলে সাহাবিদের সুন্নাহ অনুযায়ী শুভেচ্ছা বিনিময় করা উচিত। তারা বলতেন— তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম, অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের ও আপনার নেক আমলগুলো কবুল করুন। শরিয়তের গণ্ডির ভেতরে থেকে এই আনন্দ প্রকাশ করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।
ঈদ মানেই শুধু নতুন জামা আর ঘোরাঘুরি নয়; ঈদ মানে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা। আসুন, এবারের ঈদে নবীজি (সা.)-এর এই সুন্নাহগুলো মেনে চলি এবং আমাদের আনন্দকে সওয়াবে রূপান্তর করি। ঈদ মোবারক!
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক