ঘুমের ওপারে কি কোন বাড়িঘর আছে?
আছে।
অবচেতন মনে সেই বাড়িতে একদিন ঘুরতে গেলাম। গিয়ে দেখি বিশাল আকৃতির সেই ঘরে ষোড়শীরা সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে। সবার হাতে সরাবের গ্লাস। ষোড়শীরা বলল পান করুন। একঝাঁক তন্বী সুহাসিনী দেখে আমার তো বেহাল অবস্থা।
আমার করুণ অবস্থা দেখে ওদের মায়া হলো। একজন এগিয়ে এল আমার খুব কাছে। মেদহীন শরীর থেকে সুমিষ্ট সুবাস ছড়াচ্ছে। বিনয়ের স্বরে সরাবে গ্লাস এগিয়ে সে বলল, এই নিন পান করুন।
আমি বললাম, এতদিন জেনে এসেছি ওসব পান করা হারাম। ষোড়শীরা সহাস্যবদনে বলল, এখানে কোনো কিছুই হারাম নয়, সবকিছুই হালাল। বলছি পান করুন।
অবশেষে সরাব পান করলাম। ঠিক যেন অমৃতের স্বাদ। এবার ষোড়শীরা আমাকে নিয়ে উল্লাস করতে লাগল। একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইল আমার গায়ের ওপর। ভয় পেয়ে গেলাম। সেখান থেকে দৌড় দিলাম। প্রাণপণ দৌড়াচ্ছি। ঘুম ভেঙে দেখি বাইরে পাখি ডাকছে।
আমার ছটফটানি দেখে ডেপুটি কমান্ডার গনি ভাই বলল, কীরে শান্তনু অমন করছিস কেন?
একটা গল্প শুনবেন ওস্তাদ?
ঘুমের বাড়িতে কী ঘটেছিল সেসব গল্প বলতেই গনি ভাই বলল, মশার কামড় খেতে খেতে আমাদের জান যাচ্ছে আর তুমি শোনাচ্ছো ষোড়শীদের গল্প। রাখো তোমার আজগুবি কাহিনি।
আজগুবি বলছেন কেন? সত্যি আমি ওদের স্বপ্নে দেখেছি।
দেখেছ ভালো কথা। এবার ডিউটিতে যাও। গড়াই ব্রিজ রেকি করে এসো। সোলেমান আর রঞ্জুকে সঙ্গে নিও। মনটা খারাপ হলো শান্তনুর। গনি ভাইয়ের আদেশ বলে কথা। শান্তনু উঠে দুজনকে সঙ্গে নিয়ে মাঠের আলপথ দিয়ে হাঁটা শুরু করল। মাঠজুড়ে ধান আর ধান। ধানের কচি কচি পাতাগুলো যেন পায়ে লুটিয়ে পড়ছে। বুক সমান পাট গাছের মধ্যে নেমে পড়ে ওরা। একটু দূরে দুটো শেয়াল ওদের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। শান্তনুর হাতের ইশারায় সরে গেল ওরা। পাকিস্তানি আর্মিরা গড়াই ব্রিজ পার হয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করবে। কাশিমপুর গ্রামের ঘনবাঁশ ঝাড়ের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলে ওরা। চারিদিকে বাঁশ আর বুনো গাছপালা। খালি পা। মাথার মধ্যে সাপ খোপের ভয়। ঠিকমতো পা চলে না। হিস হিস শব্দ করতে করতে সামনের দিকে অগ্রসর হয় ওরা। কোন দিকে যাবে ওরা? একটু ফাঁকা জায়গা দেখে সূর্যের অবস্থান জানার চেষ্টা করে। সূর্য তখনো মাথার ওপর। ওরা বাঁশঝাড়ের মধ্যে বসে অপেক্ষা করে কিছুক্ষণ। সূর্য পশ্চিম আকাশে গড়লে সেদিকে হাঁটা ধরবে ওরা। শান্তনুর সহ-যোদ্ধা সোলেমান বেতস বনের কাছে এগিয়ে যায়। বনজুড়ে বেতোস ফলের ছড়াছড়ি। ইচ্ছামতো ফল তোলে সোলেমান। ফলগুলো পাকা আর রসাল। তিনজনে মজা করে খায়। তৃষ্ণায় কাতর ছিল ওরা। বেতস ফলের রসে তৃষ্ণার ছটফটানি কিছুটা হলেও কমে।
সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। ওরা আবার হাঁটতে থাকে। চোখের সামনে খসখস শব্দ করে একটি সাপ দ্রুত স্থান বদলাল। একটু থমকে দাঁড়িয়ে আবার হাঁটতে থাকে ওরা। কাছাকাছি খোলা মাঠের দেখা মেলে। ওরা আবার মাঠের আল পথে নেমে পরে। ক্ষুধার জ্বালায় পেটের মধ্যে চুঁ চুঁ করে। দূরে চরপাড়ার বাড়িঘর দেখা যায়। দ্রুত পা ফেলে ওরা হুরমত মাঝির বাড়িতে গিয়ে ওঠে। মাঝি তাদের পূর্বপরিচিত। বাড়িতে যা খাবার ছিল তাই দিয়ে ওদের আপ্যায়ন করে। খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে ওরা। সজীব মনে হয়। দেরি না করে আবার বেরিয়ে পড়ে। চারপাশ ঘুরে ঘুরে দেখে। ব্রিজের কাছাকাছি যায়। জনশূন্য। কোথাও কেউ নেই। ব্রিজঘাটে পারাপারের নৌকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটি নৌকাও ঘাটে নেই। সারা দিন তেজ বিলিয়ে নবারুণ ডুবু ডুবু। ক্যাম্পে ফিরতে হবে। এবার ওরা কাঁচা রাস্তা ধরে রুদ্ধশ্বাসে হাঁটতে থাকল।
কয়েকদিন পর। বিকেলে সবাই এক জায়গায় গোল হয়ে বসেছে। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ আড্ডা আর গল্প চলছে।
শান্তনু হঠাৎ করে বলে উঠল, আজ রাতে আবার ঘুমের ওপারের বাড়িতে গিয়েছিলাম।
কমান্ডার হাসতে হাসতে বলল, ওপারে গিয়ে কী করলে শুনি? সবার চোখ শান্তনুর দিকে।
শান্তনুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা বলার জন্য সে উদগ্রীব।
শান্তনু পই পই করে বলতে লাগল, একটা সুদৃশ্য বালাখানা দেখলাম। সবকিছু সুসজ্জিত। সেখানে আমাকে নিয়ে বসতে দেওয়া হলো। দেখলাম ১০-১২ জন পরমা সুন্দরী মেয়ে আমাকে ঘিরে ধরেছে। ওরা আমাকে সুগন্ধি পানি দিয়ে গোসল করাল। গোসল শেষে আমাকে নিয়ে একটি জলচৌকির ওপর বসানো হলো। একজন অপ্সরীর মতো মেয়েকে আমার পাশে বসিয়ে দেওয়া হলো। মেয়েগুলো আমাদের দুজনকে কবুল পড়াল। মনে হচ্ছিল ওরা আমাকে সম্মোহন করে ফেলেছিল। ওরা যা বলছিল আমি তাই করছিলাম। ওদের শরীরের কাপড়গুলো ছিল ফিনফিনে পাতলা।
এবার কবুল বলা মেয়েটি হাত ধরে আমাকে হেরেমখানায় নিয়ে গেল। চারদিকে ম-ম গন্ধ। পানপাত্র আর ফলের সমারোহ। ফুল বিছানো বাসর ঘর। টেবিলজুড়ে সরাব আর সরাব। পিনপতন নীরবতা। একসময় দেখলাম আমাদের দুজনের শরীরে কোনো পোশাক নেই। বিবসনা। লজ্জায় আমি ছোটাছুটি করতে লাগলাম। আমার দুরবস্থা দেখে মেয়েটি উচ্চ কণ্ঠে হাসছে। হাসতে হাসতে আমার গায়ের ওপর লুটিয়ে পড়ছে। আমি তার বহুপাশ থেকে মুক্ত হয়ে প্রাণপণ ছুটছি। ছুটছি ছুটছি.....
হুরপরীর মতো মেয়েটিও আমার পেছনে দৌড়াচ্ছে।
সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শান্তনুর দিকে। সবাই সমস্বরে বলছে, তারপর–তারপর কী হলো?
কমান্ডার হাসতে হাসতে বলল এই শান্তনু থামো, একটা মেয়ের ভয়ে পালাচ্ছ, যুদ্ধ করবে কেমন করে?
শান্তনু একবার ভেবে নিল, তাইতো। আমি পালাচ্ছিলাম কেন? একটা ভালো কিছু হতেও তো পারত।
শান্তনু যুদ্ধে আসার আগে কলেজ দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত। দারুণ মেধাবী সে। প্রচুর বই পড়ে। সবকিছুর খবরাখবর রাখে। সুযোগ পেলেই গল্প করে সে। মাথা ভরা তার রাজ্যের গল্প। মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার চিরাচরিত স্বভাব। কেউ বিপদে পড়লেই তার পাশে ছুটে যায় শান্তনু। কমান্ডার মাঝে মাঝে বলেন, শান্তনু–তুমি বাড়িতে ফিরে যাও। মায়ের সেবা করো। তোমাকে অনেক বড় হতে হবে। লেখাপড়া শিখতে হবে। সবার কপালে তো লেখাপড়ার ভাগ্য থাকে না। তুমি মেধাবী মানুষ। যুদ্ধ শেষে দেশ গঠনে তোমার মতো মেধাবীদের কাজে লাগবে।
কমান্ডারের কথা শুনে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে শান্তনু বলে, কী যে বলেন ওস্তাদ? নাম লিখিয়েছি, ট্রেনিং নিয়েছি, যুদ্ধ শেষ না করে বাড়ি ফিরে যাব না।
কমান্ডার শান্তনুর কথা শুনে ভাবনার অতলে ডুব দেন। ছেলেটা মাঝে মাঝে এমন সব অদ্ভুত গল্প করে শুনে মনে হয় ওকে কি আমরা হারিয়ে ফেলব! বেহেশতের হুররা ওকে বারবার ডাকছে কেন? ভয় হয় কমান্ডারের। বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে ওঠে।
মৃদু শ্বাস নিয়ে কমান্ডার বলল, ঠিক আছে তোমার আর যেতে হবে না, এবার তুমি আমাদের একটি গান শোনাও। ওস্তাদের কথা শুনে শান্তনু মাথা চুলকাতে লাগল। একটু ভেবে নিয়ে শুরু করল গান --
ও ভাই --
এই দেশটা আমার তোমার আমরা আমরা বাংলাদেশি
যুদ্ধ জয়ের পরে দেশকে বাসব ভালো বেশি
মা মাটি আর জন্মভূমি সেরা সবার থেকে
যুদ্ধ শেষে দেশ গড়তে বলব ডেকে ডেকে
ও ভাই --
এই দেশটা আমার তোমার আমরা বাংলাদেশি
কারা ওরা বিরোধীরা করে রেষারেষি
সোনার আলোয় গড়ব এ দেশ হাতটা হাতে রেখে
বিশ্ববাসী তাকিয়ে রবে বাংলাদেশটা দেখে।
শান্তনুর কণ্ঠে দেশের গান শুনে অবাক সবাই। গান শেষে কমান্ডার বলল, বাহ! আমাদের শান্তনু শুধু গল্প বলে না খুব ভালো গানও করে। এমন একটি খাঁটি দেশের গান শোনানোর জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ওস্তাদের কথা শুনে শান্তনুর মুখটা খুশিতে ছোলকে ওঠে।
বার্তাবাহক মোসলেম এল ক্যাম্পে। কমান্ডারের কানে কানে কী যেন বলল সে। কমান্ডার বার্তাবাহককে বিদায় দিয়ে সবার উদ্দেশে বলল, এখনই মার্চ করতে হবে আমাদের। আমাদের গন্তব্য গড়াই নদীর ওপারে। যেতে হবে করিমপুর। নদীর ওপারে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। তাণ্ডব চালাচ্ছে পাক আর্মিরা। স্থানীয়ভাবে ট্রেনিংপ্রাপ্ত ২০ জনের একটি দল নিয়ে উত্তর দিকে রওনা দিল কমান্ডার। চাপড়া ঘাটে আগেই পাঠিয়েছিল একজন। সে ফিরে এসে কমান্ডারকে জানাল, ঘাট ক্লিয়ার আছে। আমরা এখন অগ্রসর হতে পারি।
মাঠের আইলপথ দিয়ে এগিয়ে চলেছে ওরা। কমান্ডারের হাতের একমাত্র টর্চ লাইটের আলোতে পথ চলছে সবাই। দূরে বসতি দেখা গেল। কোন কোন বাড়িতে টিমটিম করে প্রদীপের আলো জ্বলছে। শীত জেঁকে বসেছে গাঁয়। কারও শরীরে শীতের পর্যাপ্ত পোশাক নেই। দ্রুত পা ফেলে হাঁটার কারণে শরীর গরম হয়ে উঠেছে। তারপর দেহের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা তো আছেই। রাত ১১টার আগেই শান্তনুরা দূর্বাচড়া ক্যাম্পে পৌঁছে গেল। হাত-মুখ ধুয়ে খিচুড়ি ভাত খেল সবাই। তারপর যে যার মতো বিশ্রামে চলে গেল। রাত গভীর থেকে গভীরতর হয়। শান্তনুর চোখে ঘুম নেই। ঘুমের জন্য কসরত করতে থাকে সে। এক সময় ঘুমিয়ে যায়। ঘুম এলেই শান্তনু ঘুমের ওপারের বাড়িতে চলে যায়। গিয়ে দেখে সেখানে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছে। একটি গুলি এসে তার বুকে লাগে। ধক করে ঘুম ভেঙে যায় তার। কেমন ছটফট করে। বাইরে পাখি ডাকার শব্দ শোনা যাচ্ছে। মাথার মধ্যে রাজ্যের ভাবনারা এসে লাফালাফি শুরু করে। মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসতে পারলাম না। বাবা আর ছোট বোনটা এখন কী করছে? রাহেলা বোধহয় এখন ঘরেই লুকিয়েই থাকে। কতদিন দেখা হয় না রাহেলার সঙ্গে। কতদিন রাহেলার মায়াবী মুখখানা দেখি না। রাহেলা, আজ এই একলা রাতে তোমার অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াই আমি।
খবর আসে ধলনগর কাঠের ব্রিজে পৌঁছে গেছে পাকিস্তানি আর্মিরা। মুহূর্তে শান্তনুর মাথার ভাবনারা পালিয়ে গেল।
যে যার মতো অস্ত্র নিয়ে পজিশনে চলে গেল। কমান্ডার মাসুদ ফুলের নেতৃত্বে একযোগে হামলা চালালো মুক্তিযোদ্ধারা। চারদিক থেকে মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ ভেসে আসতে লাগল। দুপক্ষের তুমুল যুদ্ধ চলছে। যোদ্ধা খেড়োর মাথায় গুলি লাগলে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিল শান্তনু। অনেক মানুষের জটলা ঠেলে এক বৃদ্ধ মা সামনে এসে বুক চাপড়ে কাঁদতে লাগল। সে কী গগনবিদারী কান্না। প্রচুর রক্তক্ষরণে খেড়ো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। শহিদ হলো সে। শান্তনুর চোখের তপ্তঅশ্রু গড়িয়ে পড়ল মাটিতে।
ঘণ্টাব্যাপী যুদ্ধ শেষে রণে ভঙ্গ দিয়ে পালিয়ে গেল পাকিস্তানি অর্মিরা। খেড়োর দাফন-কাফনের কাজ চলছে। খেড়োর যেখানে কবর দেওয়া হচ্ছে ঠিক তার পাশে ওই মা পরম মমতায় একটি বটবৃক্ষের চারা রোপণ করলেন। শান্তনু সবকিছু অবলোকন করছে পরম ভালোবাসায়। এক মায়ের শহিদ হওয়া ছেলেটির প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখে ডুকরে কেঁদে উঠল শান্তনু।
ওই যুদ্ধের অল্প কয়েকদিন পরেই স্বাধীন হলো দেশ। শান্তনু মাথা ঠেকায় স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে। যুদ্ধের পর প্রতি বছর ওই বটগাছটি দেখতে যায় শান্তনু। শান্তনুর বয়স এখন সত্তরের ওপরে। তারপরও বটগাছের গোড়ায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ। শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করে শান্তনু। বটবৃক্ষের দীর্ঘশ্বাস শোনে। গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে ভাবে, ৫৪ বছরে বটগাছটি ডালপালা ছড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ! কোথায় মুক্তি তোমার? অর্থনৈতিকমুক্তি এখনো অধরাই রয়ে গেছে। অধিপত্যবাদীরা ঘাড়ের ওপর জেঁকে বসতে চায় বারবার। শান্তনু এবার বটগাছের দিকে মাথা তুলে তাকায়। শান্তনুর স্বপ্নস্মৃতিগুলো এখন কেবলই ভাবায়। আহা স্বাধীনতা! স্বাধীনতার স্মৃতিস্মারক হয়ে আজ বিশাল মহিরূহ হিসেবে মাথা উঁচু করে সন্তানের প্রতি এক নিঃস্বার্থ ভালোবাসা স্বগর্বে তুলে ধরেছে বটগাছটি।