ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট উৎসব আজ। এ উপলক্ষে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সব ধরনের আড্ডায় প্রধান আলোচনায় আছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। মূলত কোন আসনে কে জিতবেন, কে হারবেন, কেন হারবেন তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। এমনকি নির্বাচনের পর কে হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, তা নিয়েও চলছে আগাম জল্পনা-কল্পনা। এসব মিলে এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু আলোচিত বা হেভিওয়েট প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের দিকে নজর রেখেছেন সারা দেশের মানুষ।
বিভিন্ন বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, নির্বাচনে বিভিন্ন দলের শীর্ষ ও আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই জাতীয়ভাবে পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক বা দলীয় অবস্থান, ব্যক্তিত্ব, আলোচিত বা সমালোচিতসহ নানা বিষয়ে তারা সাধারণ মানুষের আলোচনার মধ্যে থাকছেন।
আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব ড. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালকুদার দুলু, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, খুলনা বিভাগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি সমর্থিত বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা রেজা কিবরিয়া, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, বিএনপি সমর্থিত গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, মাহমুদুর রহমান মান্না, গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন, বিএনপিতে যোগ দেওয়া এনডিএমের সাবেক চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গুমের শিকার পরিবারের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি অন্যতম।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের, জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান অন্যতম।
পাশাপাশি সবার নজর রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া প্রার্থীদের প্রতি, যাদের মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছেন—জামায়াত জোটের অংশ জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। পাশাপাশি এনসিপি থেকে বেরিয়ে গিয়ে আলাদাভাবে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ডা. তাসনিম জারাও বেশ আলোচনায় রয়েছেন।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম, জামায়াত জোটের অংশ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, সাইফুল আলম নিরবসহ এমন আরও বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষের আগ্রহ বা কৌতূহলী দৃষ্টিতে রয়েছেন বলে জানা যায়।
যদিও বিশ্লেষকদের মতে, আলোচিত বা হেভিওয়েট এসব প্রার্থীর মধ্যে বর্তমানে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়েছেন আলোচনা ও কৌতূহলের সর্বোচ্চ চূড়ায়। বিশেষ করে লন্ডন থেকে তার রাজসিক প্রত্যাবর্তনের পর সশরীরে বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে গোছালো-পরিপক্ব বক্তব্যগুলো দলমত নির্বিশেষে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। তারেক রহমান তার পৈতৃক আসন বগুড়া-৬ (সদর) এবং ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানীসহ আশপাশের এলাকা) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তারেক রহমান এবং তার দল বিএনপির জয়-পরাজয় বা ফলাফলের দিকে কেবল বাংলাদেশই নয়, সারা বিশ্ব নজর রাখছে। বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল এবং ঢাকা-১৭ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। অন্যদিকে নজর রয়েছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয়-পরাজয়ের দিকেও। এই আসনে মির্জা ফখরুলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।
প্রায় একইভাবে দৃষ্টি রয়েছে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং তার দলের ফলাফলের দিকে। জামায়াতকে ঘিরেও সর্বমহলে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও নানা আলোচনা। এ কারণে বিশেষ নজরে রয়েছে ঢাকা-১৫ আসনে। কারণ, এই আসনে নির্বাচন করছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, যার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
এ ছাড়া আলোচিত প্রার্থীদের কারণে কয়েকটি আসনের দিকে বিশেষ নজর থাকছে। তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১১ আসন। এ আসনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বিপরীতে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমএ কাইয়ুম, কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিপরীতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন, পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা মির্জা আব্বাসের এবং নোয়াখালী-৬ আসনে আব্দুল হান্নান মাসউদের মুখোমুখি রয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান।