বক্সিং ডে টেস্টে ভারতের প্রথম ইনিংসে ঋষভ পন্ত আউট হয়েছেন ৩৭ বলে ২৮ রান করে। আউট হয়েছেন ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তার আউটের ধরন দেখে বেজায় চটেছেন ভারতের কিংবদন্তী সুনীল গাভাস্কার।
মূলত টেস্ট হোক বা টি-টোয়েন্টি সব সংস্করণেই লেগ সাইডে শট খেলতে পছন্দ করেন ভারতের এই উইকেটকিপার ব্যাটার। সবসময় তেড়েফুঁড়ে খেলতে পছন্দ করা এই ব্যাটার আজ আউট হয়েছেন স্কুপ খেলতে গিয়ে।
আগের দিন ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান সংগ্রহ করে দিনশেষ করা ভারত ছিল বিপর্যয়ে। এমন অবস্থায় প্রথমবার বোল্যান্ডের বলে স্কুপ খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হলে বল গিয়ে লাগে তার পেটে। তাৎক্ষণিক মাটিতে পড়ে যান। তবে বেশি চোট না পাওয়ায় আবারও উঠে দাঁড়ান। প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ায় আবারও চেষ্টা চালান স্কুপের। ঠিকঠাক ব্যাটে সংযোগ করতে না পারায় বল ফাইন লেগে না গিয়ে চলে যায় থার্ড ম্যানে। সেখানে থাকা নাথান লায়ন অনায়াসের লুফে নেন সেই ক্যাচ।
তৃতীয় দিনের দশম ওভারেই স্কুপ শট খেলতে গিয়ে আউট এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। তখন অস্ট্রেলিয়ার এবিসি রেডিওতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।
পন্তের আউটের ধরনে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘স্টুপিড, স্টুপিড, স্টুপিড। তোমার জন্য সেখানে দুজন ফিল্ডার রাখা হয়েছে, তবুও তুমি সেখানেই শট খেলতে গেলে, এর আগের শটও তুমি মিস করেছ। এবার দেখো কোথায় ক্যাচ দিয়েছ। ডিপ থার্ডে ক্যাচ হয়েছে এটি। নিজ থেকেই উইকেট উপহার দিয়ে এলে।’ ‘ভারত এই মুহূর্তে এমন শট খেলার পরিস্থিতিতে নেই। তোমারও সেই পরিস্থিতি বোঝা দরকার ছিল। এটি ন্যাচারাল খেলা বলে না। আমি দুঃখিত, এটি কোনো ন্যাচারাল গেম নয়। এটি একটি স্টুপিড শট। এটি তোমার দলকে আরও বিপদে ফেলে দিয়েছে’, আরও যোগ করে গাভাস্কার।
পরে স্টার স্পোর্টসের আলোচনায়ও একই বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সুনীল গাভাস্কার, ‘আমি আগেই ভাবছিলাম যে, যখন সেখানে (ফাইন লেগ) কোনো ফিল্ডার ছিল না, তখন সেখানে শট খেলার চেষ্টা করা যায়। কারণ তোমার সেখানে খেলার ভালো সুযোগ আছে। সেই শটটি লেগ কিংবা অফসাইডেও হতে পারত, তখন আউট হলে তুমি সেটাকে ভাগ্য খারাপ বলতে পারো। কিন্তু শট নির্বাচনটা ছিল ভয়াবহ (খারাপ)। কারণ ওই সময় দুজন ফিল্ডার রাখা হয়েছিল স্কয়ার লেগ এবং ডিপ পয়েন্টে।’
পন্তের বিদায়ের পর জাদেজাও দ্রুত ফিরেছেন। ২২১ রানে ৭ উইকেট হারায় ভারত জাদেজার বিদায়ের পর। সেখান থেকে পরে দলকে টেনে তোলেন নিতিশ কুমার রেড্ডি ও ওয়াশিংটন সুন্দর। তারা দুজন মিলে জুটি গড়েন ১২৭ রানের।
টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিও পেয়েছেন নিতীশ। ১৭৬ বলে ১০টি চার ও এক ছক্কায় ১০৫ রানে তিনি দিন শেষেও অপরাজিত আছেন। ওয়াশিংটন সুন্দর আউট হয়েছে ৫০ রান করে। তৃতীয় দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৩৫৮ রান, এখনও তারা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১১৬ রানে পিছিয়ে।