এক মগ কফির বিলের সমপরিমান টাকা দিয়ে ইতালিতে একটি বাড়ি কেনা যাবে। এটি উপহাস নয়, বাস্তবেই সম্ভব। এর আগে মার্কিন নাগরিকদের মাত্র এক ডলারে বাড়ি কেনার সুযোগ দিয়েছিল ইতালির একটি শহর। এবার এক ইউরোতে বাড়ি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির পেন্নে নামে আরও একটি শহর।
এবারের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে- সেখানে বাড়ি কিনতে চাইলে ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু বাড়িটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে।
ইতালির আব্রুজ্জো অঞ্চলের এই শহরটি মূলত আদ্রিয়াটিক সমুদ্র ও গ্রান সাসো পাহাড়ের মাঝামাঝি অবস্থিত। শহরটি একপ্রকার জনমানবশূণ্য। তাই জনসংখ্যা বাড়াতে ২০২২ সালে ইতালির অন্যান্য শহরের মতো এখানেও এক ইউরোতে বাড়ি বিক্রির কর্মসূচি শুরু হয়। তবে সব মিলিয়ে শহরটির মাত্র ছয়টি বাড়ি বিক্রি হয়। তাও এগুলোর বেশির ভাগই কিনেছেন ইতালির নাগরিকরা।
শহরটির মেয়র গিলবার্তো পেত্রুচ্চি জানান, শিগগিরই আরও কয়েকটি বাড়ি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে ৪০টির বেশি পরিত্যক্ত ভবন নতুন মালিকের জন্য প্রস্তুত করা হতে পারে।
পেন্নের ঐতিহাসিক কেন্দ্র অনেক পুরোনো স্থাপত্যের নিদর্শন বহন করে। বেশ কিছু ভবন মধ্যযুগ ও রেনেসাঁ যুগের। কিছু আবার ১৯০০ সালের শুরুর দিকে নির্মিত। বাড়িগুলো সাধারণত তিনতলা বিশিষ্ট এবং ৭৫০ থেকে এক হাজার ৩০০ বর্গফুট আয়তনের।
বেশিরভাগ এই পুরনো বাড়িগুলোতে একসময় স্থানীয় কৃষক পরিবারগুলো বসবাস করত। পরে তারা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সন্ধানে অন্যত্র চলে যায়। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বোমা হামলায় শহরের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
১৯৭০-এর দশকে অভিবাসীদের একটি বড় অংশ সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম এবং ভেনেজুয়েলা-সহ কাছাকাছি বড় শহরগুলোতে কাজের সন্ধানে চলে যায়।
এই অঞ্চলে গম, বার্লি ও ভুট্টার চাষ হয়। পাশাপাশি বিখ্যাত ডুরুম গম থেকে তৈরি হয় স্বনামধন্য পাস্তা। খাদ্যপ্রেমীদের জন্য রয়েছে- আরোস্টিচিনি (ভেড়ার মাংসের গ্রিলড কাবাব), টিম্বালো (ইতালিয়ান লাসাগনার মতো একটি খাবার) এবং মাক্কারনি আল্লা কিতারা (হাতে তৈরি গিটার আকৃতির পাস্তা)।
পেন্নের প্রধান ঐতিহ্যের মধ্যে আছে ‘প্যালিও’ নামে এক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। এটি বিখ্যাত সিয়েনা শহরের প্যালিও রেসের অনুকরণে আয়োজিত হয়। আর পেন্নে শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রকে ‘খোলা আকাশের জাদুঘর’ বলা হয়। এখানে মধ্যযুগীয়, গথিক ও রেনেসাঁ স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণ রয়েছে।
মেয়র পেত্রুচ্চির ভাষায়, ‘আমরা শহরের এই পুরোনো অংশকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। এটি আমার কাছে এক গভীর ক্ষতের মতো।’
বেশির ভাগ এক ইউরোর বাড়ি বিক্রির প্রকল্পে ২ থেকে ৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হয়। তবে সংস্কার শেষ হলেই এই অর্থ আবার ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু পেন্নে এবার এই নিয়ম শিথিল করেছে। এখানে ক্রেতাকে কেবল তিন বছরের মধ্যে বাড়ি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। কোনো অগ্রিম টাকা লাগবে না।
এ ছাড়া একটি বিশেষ সংস্থা ক্রেতাদের সংস্কার কাজে সহযোগিতা করবে। তারা স্থপতি, নির্মাণকর্মী ও পরিদর্শক খুঁজে দিতে সাহায্য করবে এবং ডিজিটাল রেন্ডারিং দেখিয়ে বুঝিয়ে দেবে, সংস্কার শেষে বাড়িটি কেমন হবে।
এ বিষয়ে এক প্রতিবেদনে সোমবার (১৭ মার্চ) সিএনএন জানায়, একটি ছোট থেকে মাঝারি আকারের বাড়ি মেরামতের প্রাথমিক খরচ ২০ হাজার ইউরোর মতো হতে পারে। যদি কোনো বাড়ির জন্য একাধিক ক্রেতা আগ্রহী হন, তাহলে যিনি সবচেয়ে ভালো ও দ্রুত সংস্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন, তিনিই ওই বাড়িটির মালিক হতে পারবেন।
ইতালিতে এক ইউরোর বাড়ির বিক্রয় কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হলো সিসিলি দ্বীপ। সেখানকার মুসোমেলি ও সামবুকা শহর ইতোমধ্যে বহু বিদেশি ক্রেতাকে আকৃষ্ট করেছে। সার্ডিনিয়া দ্বীপেও বর্তমানে এক ইউরোর বাড়ির কর্মসূচি চলছে। সূত্র: সিএনএন
দিনা/অমিয়/