ম্যারাথন হচ্ছে দূরপাল্লার দৌড় খেলা। দাপ্তরিকভাবে এ দৌড়ের দূরত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২.১৯৫ কিলোমিটার। ম্যারাথন রোড রেস বা রাস্তায় দৌড় খেলা নামেও পরিচিত। প্রাচীন গ্রিক সৈনিক ফেইডিপ্পিডেস ম্যারাথন যুদ্ধ জয়ের সংবাদ বহন করে দৌড়ে অ্যাথেন্স নগরে নিয়ে এসেছিলেন। আর সেই ম্যারাথনের যুদ্ধকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ দৌড়ের নামকরণ করা হয় ম্যারাথন দৌড়।
ম্যারাথন সাধারণত রাস্তাতেই অনুষ্ঠিত হয়, তবে উত্তর মেরুর ম্যারাথন হচ্ছে বিশ্বের একমাত্র ম্যারাথন, যা পানির ওপরে অনুষ্ঠিত হয়। পানির ওপরে আবার কীভাবে ম্যারাথন সম্ভব, নিশ্চয়ই তাই ভাবছেন? কিন্তু বিস্ময়কর হলেও এটা সত্যি। উত্তর মহাসাগরের জমাট বাঁধা বরফের ওপর আয়োজিত হয় এই ম্যারাথন। সর্বত্র যে স্থির জমজমাট বরফ থাকে, তাও নয়। পায়ের নিচে কখনো কখনো বরফের দোলাচল লক্ষ করা যায়। সেসবের ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে এই ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করতে হয়।
সুমেরু বিন্দু থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে ক্যাম্প বার্নে নামক অস্থায়ী আস্তানায় অনুষ্ঠিত হয় এই ম্যারাথনের আয়োজন। এটি একই সঙ্গে বিশ্বের শীতলতম, কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল একটি ম্যারাথন। ম্যারাথনটির আয়োজন করা হয় গ্রীষ্মকালে, কিন্তু উত্তর মেরুর তাপমাত্রা তখনো হিমাঙ্কের অনেক নিচে থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এটি সবচেয়ে শীতল ম্যারাথন। হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠে দৌড়ানো কম পরিশ্রমের কাজ নয়। যারা ম্যারাথন ভালোবাসে এবং গ্র্যান্ড স্ল্যামধারী ম্যারাথনার হতে চায়, তাদের অবশ্যই সাতটি মহাদেশে অন্তত একবার এবং এই সুমেরুর শীতলতম ম্যারাথনটিতে অংশগ্রহণ করতে হবে।
হঠাৎ করেই উত্তর মেরুর এ ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় অনেক প্রস্তুতির। ম্যারাথনে অংশগ্রহণের প্রয়োজনে নিজেকে উপযুক্ত করতে হয়। আর তার জন্য দরকার পর্যাপ্ত অনুশীলন। অর্থাৎ এই চূড়ান্ত ম্যারাথনে দৌড়ানোর আগে আপনাকে অনেক অনেক পথ দৌড়ে অভ্যস্ততা তৈরি করে নিতে হবে। না হলে এই কঠিন ম্যারাথন সম্পন্ন করা এক প্রকার অসম্ভব কাজ!
ম্যারাথনটিতে অংশগ্রহণ করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ম্যারাথনপ্রিয় লোকজন আসেন প্রতি বছর। অনেকের কাছেই এই ম্যারাথনটি ভীষণ জনপ্রিয়। এই ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় যতবার খুশি বিরতি নেওয়া যায়, কফি পান করা যায়, শরীর উষ্ণ করার কসরত করা যায়, এমনকি ঘুমানোও যায়। বিশেষ কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারলেই হলো। মজার ব্যাপার হলো, আপনি যদি জোরে জোরে হেঁটেও গন্তব্যে পৌঁছান, তাতেও সমস্যা নেই, দৌড়িয়েই পৌঁছাতে হবে এমন কোনো কথা নেই। চাইলে তুষারজুতা পরতে পারেন, আরামদায়ক মনে না হলে নাও পরতে পারেন। চাইলে আয়োজকরাই তুষারজুতার ব্যবস্থা করে দেয়।
সব মিলিয়ে এই ম্যারাথনটি কঠিন হলেও উপভোগ্য। যারা এই ম্যারাথনটি সম্পন্ন করতে পারেন, নিঃসন্দেহে তারা জীবনের অন্যতম সুন্দর একটি স্মৃতি সঞ্চয় করেন।
তারেক
.jpg)