প্রতিদিনের জীবনে নানা প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর মধ্যে ছোট অথচ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস ব্লেড। তবে খেয়াল করলে দেখবেন, যে কোম্পানির ব্লেড হোক না কেন পৃথিবীর প্রায় সব ব্লেডের নকশাই এক।
বহু বছর ধরে ব্লেডের একই ধরনের নকশা দেখা যায়। কিন্তু কেন ব্লেডের নকশার পরিবর্তন হয়নি সে ব্যাপারে বলতে গেলে পরিষ্কারভাবে কেউই জানেন না। দৈনন্দিন জীবনে আমরা এমন অনেক কিছুই ব্যবহার করে থাকি সেগুলো সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত কিছুই জানি না। ব্লেড তার মধ্যে একটি।
কখনো ভেবে দেখেছেন কেন যুগের পর যুগ একই স্টাইল ধরে রেখেছে এই ব্লেড? বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের ব্লেড বের হলেও, যদি কেউ হঠাৎ ব্লেড কথাটা উচ্চারণ করে তাহলে কিন্তু সেই একই নকশা চোখের সামনে ফুটে উঠবে।
ব্লেড নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন আগেও উঠে এসেছে। কখনো তার মাঝে একটি গোলাকার ছিদ্র নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, কখনোবা তার নকশা নিয়ে প্রশ্নও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তবে কেন এই স্টাইল আজও একই ভাবে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে, এই প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে একটু অতীত ঘেঁটে দেখতে হবে।
১৯০১ সালে ব্যবসা শুরু করে জিলেট। ১৯০৪ সালে তারা বাজারে আনে ‘কিং ক্যাম্প’ নামের একটি ব্লেড। কিং ক্যাম্প জিলেট আসলে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধার। তার নামেই কোম্পানি, তার নামেই এই ব্র্যান্ড। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তিন বছর পর প্রথমে ১৬৫টি ব্লেড প্রস্তুত করেন। এরপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
যাবতীয় চিন্তাভাবনা করেই ব্লেডের সঙ্গে রেজারের হাতল আটকানোর জন্য স্ক্রু ও নাট-বল্টু ব্যবহৃত হতো। এখন প্রশ্ন হলো, কেন অন্যান্য সংস্থাও এই স্টাইল ও নকশা অনুকরণ করল?
কারণ হিসেবে জানা যায়, সে সময় একমাত্র জিলেটই রেজার তৈরি করত। তার সঙ্গে মানিয়ে ব্লেড প্রস্তুত করতে গেলে এই একই নকশা মানতেই হতো। তাই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও একই পথে হাঁটা শুরু করল।
আবার অনেকের মতে, সেকালে রেজারের হাতলের সঙ্গে ব্লেডটিকে যুক্ত করার জন্য যে ফাঁকা অংশ রাখা হয়েছিল, পরবর্তিতে এই নকশাই অত্যন্ত কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছিল। ফলে দ্রুতই জনপ্রিয় হয় ওঠে জিলেটের ওই নকশা।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে শেভিং ব্লেড মানেই ওই আকৃতি ও মাপকেই বোঝে গ্রাহক। পরবর্তীকালে তাই সব সংস্থাই ওই নকশা মেনে ব্লেড তৈরি করতে শুরু করে।
সাম্প্রতিককালে ব্লেড দিয়ে শেভিং করা হয় না বললেই চলে। ইলেকট্রিক শেভিং মেশিন রেজার ও ব্লেডের জায়গাটা দখল করে ফেলেছে। তবুও বিশ্বের একদল মানুষের পছন্দ পুরোনো স্টেইনলেস স্টিলের শেভিং ব্লেড।
শতাব্দী পেরিয়ে গেছে। আমূল বদলেছে পৃথিবী। কিন্তু সেই পুরোনো পৃথিবীর চিহ্ন আজও বয়ে চলেছে ব্লেডের নকশা। এ কাহিনি সত্যিই বিস্ময়কর।
তারেক
.jpg)
.jpg)
.jpg)