পৃথিবীতে সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ তার সামাজিক প্রয়োজনে তৈরি করে গ্রাম এবং শহর। বর্তমান পৃথিবীতে আছে অসংখ্য গ্রাম ও শহর। এসব গ্রাম ও শহরের মধ্যে আছে বেশ কিছু আছে খুব অদ্ভূতুড়ে। সেরকমই কিছু গ্রাম-শহর নিয়ে জানাব আজকে।
যে গ্রামে রাস্তা নেই: উত্তরের ভেনিস নামে পরিচিত নেদারল্যান্ডসের চমৎকার এই গ্রাম। কিন্তু এই গ্রামে নেই কোনো রাস্তা। পর্যটকরা চাইলেও গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন না। নেদারল্যান্ডসের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত এই অদ্ভুত গ্রামের নাম ‘গিথোর্ন গ্রাম’। এই গ্রাম অনেক ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। একটি ভূখণ্ডের সঙ্গে আরেকটি ভূখণ্ড সেতু দ্বারা সংযুক্ত। মাঝখানে রয়েছে খাল। এভাবে ১৭৬টি সেতু দ্বারা সংযুক্ত ভূখণ্ডগুলো। তবে গ্রামটি তার সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।
এই গ্রামে ১৮-১৯ শতকের খামার বাড়ি রয়েছে। গ্রামে রয়েছে একটি জাদুঘর। প্রতি বছর প্রায় ১ মিলিয়ন লোক এই গ্রামে ঘুরতে আসে। তবে গ্রামে কোনো রাস্তা না থাকায় গাড়ি রাখতে হয় একটি নির্দিষ্ট জায়গায়। তবে পর্যটকরা এখানে সাইকেলের রাস্তা, ফুটপাথ এবং পানিপথে নৌকায় চলাচল করতে পারে। নেদারল্যান্ডসের ১০টি আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে একটি এই গ্রামটি।
পুতুলের গ্রাম: জাপানে রয়েছে অদ্ভুত এই গ্রাম। যেখানে মানুষের বদলে আছে পুতুল। বাড়িঘর, বাগান, মাঠ-ঘাট সবখানেই দেখা মিলবে পুতুলের। জাপানের শিকোকুতে তোকুশিমা প্রিফেকচারের উপত্যকার গভীরে নাগোরো নামক গ্রামটি পুতুলের গ্রাম নামে পরিচিত। এই গ্রামে রয়েছে অসংখ্য পুতুল। এই পুতুলগুলোকে কাকাশি বা স্কয়ারক্রো বলা হয়।
সুকিমি আয়ানো নামে একজন বয়স্ক বাসিন্দা খড় এবং পুরোনো কাপড় দিয়ে তৈরি জীবন-আকৃতির প্রতিলিপি দিয়ে চলে যাওয়া বা মারা যাওয়া লোকদের প্রতিস্থাপন করা শুরু করেছিলেন। এই পুতুলগুলো প্রাকৃতিকভাবে গ্রামের চারপাশে বাস্তবসম্মত ভঙ্গিতে স্থাপন করা হয়। মূলত গ্রামের জনসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে এই পুতুলগুলো স্থাপন করা হয়। নির্জন গ্রামে একাকিত্ব কমাতে পুতুলগুলো স্থাপন করা হয়। গ্রামের রাস্তাঘাট, দোকান, সাঁকো সব জায়গায় দেখা মিলবে এসব পুতুলের। যা অনেক পর্যটকদের কাছে ভূতুড়ে মনে হতে পারে। তবে প্রতি বছর এই গ্রামে ঘুরতে আসেন অসংখ্য পর্যটক।
মৃতদের শহর: আমেরিকার এই শহরে জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত মানুষই বেশি। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ফ্রান্সিসকোর কাছে অবস্থিত কোলমা নামের এই শহর। এই শহরে আছে অসংখ্য কবরস্থান। ৩ জুন, ১৮৮৭ সালে এখানে প্রথমবারের মতো কবরস্থান গড়ে তোলা হয়। ১৯০০ সালের মধ্যে সাতটি কবরস্থান এবং ১৯১০ সালের মধ্যে ছয়টি কবরস্থান প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন কোলমা একটি ‘কবরস্থানের শহর’ হিসেবে বিখ্যাত হয়ে ওঠে এবং ফুলের দোকান এবং স্মৃতিস্তম্ভের ব্যবসা গড়ে ওঠে।
মূলত সান ফ্রান্সিসকোতে অধিক জনসংখ্যা এবং রোগের ফলে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় এখানে কবরস্থান নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও পরে গণহারে কবরস্থান বানানো বন্ধ হয়। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে নিস্তব্ধ এক শহর কোলমা।
তারেক
.jpg)
.jpg)