চিড়িয়াখানা হচ্ছে মানুষের তৈরি একটি জায়গা যেখানে প্রাণী বন্দি অবস্থায় প্রদর্শন, সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য রাখা হয়। প্রাচীনকালে চীন, মিসর ও রোমের বন্যপশু ও পাখির সংগ্রহশালা বিখ্যাত ছিল। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব বড় শহরেই চিড়িয়াখানা আছে।
চিড়িয়াখানায় সাধারণত বন্যপ্রাণী রাখা হলেও একটা সময় এখানে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হতো মানুষ। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যিকার অর্থে এমনটাই ঘটেছিল।
মানব চিড়িয়াখানা বা নৃতাত্ত্বিক প্রদর্শনী (Human Zoo বা Ethnological Exposition) ছিল একটি অমানবিক ও বর্ণবাদী প্রথা যা উনিশ, বিশ এবং একুশ শতাব্দীর প্রথম দিকে পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। এই প্রথার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা আদিবাসী ও অ-ইউরোপীয় মানুষদের প্রদর্শন করা হতো। প্রমাণ করা হতো তারা ইউরোপীয় সভ্যতার তুলনায় ‘আদিম’ বা ‘অনুন্নত’ জীবনযাপন করে।

এই প্রদর্শনীগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমা সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা এবং অ-ইউরোপীয় সংস্কৃতিকে হেয়প্রতিপন্ন করা। এসব মানব চিড়িয়াখানা ছিল একটি অমানবিক ও বর্ণবাদী প্রথা, যা পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই ব্যবহৃত হতো। এই প্রথা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল এবং তাদের হেয়প্রতিপন্ন করেছিল। মানব চিড়িয়াখানা একটি বিতর্কিত এবং নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ধারণা, যেখানে মানুষকে প্রাণীর মতো প্রদর্শন করা হতো।
মানব চিড়িয়াখানার উৎপত্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, ১৫ শতকের শুরুর দিকে এই প্রবণতা শুরু হয়। যা চলেছে ১৯ শতকের ষাটের দশক পর্যন্ত।
মেক্সিকোর টেনোখটিটলানের নবম শাসক দ্বিতীয় মক্টেজুমার (১৫০২-১৫২০) সময়ে একটি চিড়িয়াখানার কথা জানা যায়, যেখানে পশুপাখির পাশাপাশি বামন, আলবিনো এবং কুঁজো মানুষদেরও প্রদর্শন করা হতো।
রেনেসাঁ যুগে ইতালির মেদিচি পরিবারও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। যেমন- ষোড়শ শতাব্দীর দিকে কার্ডিনাল হিপোলাইটাস মেদিচির সংগ্রহে বিভিন্ন ধরনের জন্তু-জানোয়ারের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষও ছিল! এদের মাঝে ছিল তুর্কি, আফ্রিকান, মুর, ভারতীয় ইত্যাদি নানা জাতির মানুষ।
তারেক
.jpg)
.jpg)