বিশ্বের নানা দেশে নানা ধরনের আজব রীতি প্রচলিত রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকা তথা লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিলের কথাই ধরুন না! বিশ্বকাপ ফুটবলের দৌলতে সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশগুলোর অন্যতম এই দেশটিতে অদ্ভুত সব রীতি প্রচলিত। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো, নেইমারদের নাম বাংলাদেশের গ্রামের ছেলেদেরও মুখে মুখে ফেরে। তো সেই দেশের অফিসগামী মানুষের অফিস ব্যাগ খুললে আর কিছু পান, না পান—টুথব্রাশ আর টুথপেস্ট সেখানে পাবেনই পাবেন।
দুপুরের খাবারের পরে দাঁত ব্রাশ করার জন্য তারা তাদের অফিস ব্যাগে টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট নিয়ে যান। কোনো কোনো রেস্তোরাঁ তাদের গ্রাহকদের জন্য তরল মাউথওয়াশ সরবরাহ করে! দুনিয়ার যত আজব রীতির মধ্যে ব্রাজিলিয়ানদের এই রীতিটি বেশ চমকে দেওয়ার মতো। অফিসের কর্মব্যস্ততায় বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন অনেকেই যখন চট করে একটু চা বা কফি বিরতির জন্য সময় বের করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন ব্রাজিলের কর্মস্থলে কর্মীরা লাঞ্চ সেরে দিব্যি তাদের তাদের দাঁত ব্রাশ করতে ব্যস্ত।
শুধু অফিস বা অন্য কাজের জায়গায় দুপুরে খাওয়ার পর প্রকাশ্যে দাঁত ব্রাশ করাই নয়, আরও কিছু আজব রীতি ও অভ্যাস মেনে চলেন ব্রাজিলিয়ানরা। যেমন- যেকোনো পরিস্থিতিতেই তারা খুব অনানুষ্ঠানিক। এমনকি যেসব পরিস্থিতিকে আনুষ্ঠানিক বলে মনে করা হয়, যেমন কর্মক্ষেত্র- সেখানেও ব্রাজিলিয়ানরা খুব অনানুষ্ঠানিক ভাষা ব্যবহার করে। তাদের আরেকটি অদ্ভুত অভ্যাস হচ্ছে সবাইকে আলিঙ্গন করা এবং চুমু খাওয়া। সেটি কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা মাত্র দেখা হওয়া কোনো অপরিচিত ব্যক্তি সে-ই হোক না কেন।
ব্রাজিলিয়ানদের কাছে দুপুরের খাবার হলো দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। তারা দুপুরের খাবার খুব গরম গরম খেতে পছন্দ করেন। স্যান্ডউইচ নয়, এ সময় তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার হচ্ছে ভাত, মটরশুঁটি, কিছু প্রোটিন ও সালাদ। মধ্যাহ্নভোজের জন্য তারা অন্তত এক ঘণ্টা বিরতি নেন। সাধারণত বন্ধুবান্ধব বা সহকর্মীদের নিয়ে রেস্তোরাঁয় খেতে যান বা বাড়ি থেকে গরম খাবারসহ একটি লাঞ্চবক্স অফিসে নিয়ে আসেন। তাদের ভেতর সময়ানুবর্তিতার খুব অভাব। কাজে যেতে ১৫ মিনিট দেরি হয়ে যাওয়া তাদের কাছে কোনো দেরি বলেই মনে হয় না।
ব্রাজিলে কোনো কাজ শুরু করার একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে ঠিকই, কিন্তু শেষ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না। কারও জন্মদিনে ব্রাজিলিয়ানরা খুব জোরে জোরে ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ গানটি গান এবং হাততালি দেন। ব্রাজিলের একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হচ্ছে ছোটখাটো জিনিস কিনলেও কিস্তিতে দাম পরিশোধ করা যায়। আপনি সেখানে একটি টি-শার্ট কিনে ক্রেডিট কার্ড দিলে ক্যাশিয়ার আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন আপনি কত কিস্তিতে দাম পরিশোধ করতে চান।
তারেক/
.jpg)
.jpg)
.jpg)