বর্ষার দিনে ভেজা রাস্তায় হাঁটছেন। হঠাৎ দেখলেন কোথা থেকে মাছ, কচ্ছপ এমনকি তিমিও বেরিয়ে আসছে। ভাবছেন গল্প, কিন্তু বাস্তবেই এমনটি ঘটে থাকে দক্ষিণ কোরিয়ার শহর সিউলের পিচঢালা রাস্তায়। বৃষ্টি পড়লেই কেবল শিল্পকর্মটি ফুটে ওঠে। এটি ‘প্রজেক্ট মনসুন’ নামে পরিচিত। যখন আকাশ বিষণ্ন থাকে তখনই রাস্তায় ফুটে ওঠে এসব অদ্ভুত চিত্রকর্ম। আঁধারে রাস্তা হয়ে ওঠে রঙিন।
স্থানীয় লোককথাকে দেয়ালচিত্র এবং রাস্তায় ফুটিয়ে তুলেছেন একদল ডিজাইনার। বছরের তিন সপ্তাহ যখন বর্ষা মৌসুম থাকে তখন রাস্তায় ফুটে ওঠে এসব ডিজাইন। কোরিয়ার একদল ডিজাইনার এই প্রজেক্ট বা শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। প্রজেক্ট মনসুন এমন এক নকশা বা শিল্পকর্ম, যা বৃষ্টি পড়লেই ফুটে ওঠে। তাদের এই প্রজেক্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
প্রজেক্ট মনসুনের মূল ডিজাইনার হলেন সেউংহুন শিন, ইউনশিন কিম এবং নু রি কিম। ভিশন প্রজেক্ট মনসুন প্যানটোন এবং শিকাগোর স্কুল অব দ্য আর্ট ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় তারা এই নকশা তৈরি করেন। এই প্রজেক্টের লক্ষ্য বর্ষাকাল। সিউলের সবচেয়ে আর্দ্র সময়কাল- তিন সপ্তাহের বার্ষিক বর্ষাকাল। এই তিন সপ্তাহকে রঙিন করে তোলার জন্য হাইড্রোক্রোমিক রং ব্যবহার করা হয়েছে, যা শুষ্ক অবস্থায় অদৃশ্য থাকে কিন্তু ভেজা অবস্থায় প্রাণবন্ত জলজ ম্যুরাল চিত্র প্রকাশ করে। নকশাগুলোয় কোরিয়ার বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেমন- মাছ, কচ্ছপ, তিমি। জলাশয় ও নদীর প্রবাহ থেকে অনুপ্রাণিত নকশাও দেওয়া হয়েছে। ডিজাইনার দলের হাইড্রোক্রোমিক রং দিয়ে আঁকা ম্যুরাল চিত্রগুলো যা শুকনো ফুটপাতে অদৃশ্য থাকে কিন্তু বৃষ্টিতে জীবন্ত হয়ে ওঠে। মনে হবে রাস্তাগুলো রঙিন নদীতে রূপান্তরিত হয়েছে। যেখানে কচ্ছপ, মাছ এবং তিমির মতো সামুদ্রিক প্রাণী পথ ধরে সাঁতার কাটবে। এসব ছবিতে মূলত কোরিয়ান সাংস্কৃতিক প্রতীক ও জীবনের প্রতীক হিসেবে নদীকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সিউলের বর্ষাকালীন সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২০১৫ সালে যখন এই প্রজেক্ট ঘোষণা করা হয় তখন এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগে ভাইরাল হয়। আন্তর্জাতিক ডিজাইন সাইটগুলোয় ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল। সাড়া পাওয়া এই ডিজাইন অনেকেই তাদের বাড়ির দেয়ালে দেয়ালচিত্র হিসেবে আঁকতে চেয়েছিলেন। আবার এর বিপরীত গল্পও আছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন তারা সিউলের রাস্তায় প্রজেক্ট মনসুন খুব বেশি দেখেননি। অনলাইনে প্রচারিত ছবিগুলো বাস্তবে খুব বেশি দেখা যায়নি বলে তারা জানিয়েছেন। এমনকি ভারী বৃষ্টির সময়ও দেখা যায়নি। অনেকে একে মিথ বলে মনে করেন। তবে স্থানীয়রা প্রজেক্ট মনসুন নিয়ে বেশ আগ্রহী ও আশাবাদী।
তারেক/
.jpg)
.jpg)