পৃথিবীতে প্রতিটি দেশের সীমানা আছে। বিভিন্ন দেশে সীমানা নিয়ে আছে অন্য দেশের সঙ্গে তুমুল বিরোধ। কেননা জাতি কিংবা বর্ণভেদে এক সময় এসব সীমানা ভাগ হয়েছিল। তাই উভয় দেশের বাসিন্দাদের মধ্যে থাকে তুমুল বিরোধের সম্পর্ক। সীমান্ত সংঘর্ষের খবর প্রায়ই শোনা যায়। তবে এসব নেতিবাচক ভৌগোলিক সম্পর্কের মধ্যেও কিছু কিছু দেশ ও জাতির মধ্যে সীমান্তে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দেখা যায়। দেশে দেশে জাতিগত বিরোধ না রেখে অবাধে সীমান্ত সম্পর্ক রাখতে দেখা যায়। তেমনি এক নজির দেখা গেছে ইউরোপের কিছু দেশে। ইউরোপের দেশ স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও অস্ট্রিয়ার সীমান্তে এমনই এক নজির দেখা গেছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।
এই যুগে বিভাজন যখন সম্প্রীতি নষ্ট করে, সেখানে স্লোভাকিয়ার একটি গ্রাম ঐক্য ও সৌহার্দ্যের নজির তৈরি করেছে। ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার সীমান্তে অবস্থিত এক গ্রাম। নাম চুনোভো। এই গ্রামের একটি অনন্য পিকনিক টেবিল একত্রিত করেছে তিন দেশের মানুষকে। তিন দেশের সীমান্তের সংযোগস্থলে একটি টেবিল আছে। যেখানে তিন দেশের বাসিন্দারা বসে পিকনিক করতে পারেন। নিজ নিজ দেশে বসেই খাবার খেতে পারেন। টেবিলের সঙ্গে তিনটি বেঞ্চ আছে। অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় একটি করে বেঞ্চ আছে। অর্থাৎ প্রতিটি দেশের বাসিন্দারা তাদের দেশে বসেই পিকনিক করতে পারবে। এই অসাধারণ সমাবেশস্থলটি ট্রাইপয়েন্ট স্টোন-এ অবস্থিত। এটি একটি প্রতীকী ভৌগোলিক ল্যান্ডমার্ক, যেখানে তিনটি দেশের ব্যক্তিরা কোনো সীমানা অতিক্রম না করেই একটি টেবিল ভাগ করে নিতে পারেন। অনেকের কাছে, এই পিকনিক স্পটটি কেবল একটি খাবারের স্থানের চেয়ে অনেক বেশি; এটি প্রতিবেশীদের মধ্যে একটি অটুট বন্ধন এবং একটি ভাগ করা ইতিহাসের সাক্ষ্যের প্রতীক।
এই ট্রাইপয়েন্টের ছবি সম্প্রতি ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটারে)। ব্যবহারকারীদের মধ্যে তা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিখ্যাত পিকনিক টেবিলটি হাঙ্গেরির রাজকা শহরের স্ট্যাচু পার্কে অবস্থিত। এটি সেই পিকনিক টেবিল, যা ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত প্যান-ইউরোপীয় পিকনিকের স্পষ্ট নিদর্শন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান হয়। এর ফলে, পশ্চিমের পুঁজিবাদী দেশগুলোর সঙ্গে পূর্বে কমিউনিস্ট দেশগুলোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কমে যায়। প্রথম যে সীমান্ত শিথিল করা হয়েছিল তা ছিল অস্ট্রিয়া এবং হাঙ্গেরির মধ্যে। ১৯৮৯ সালের আগস্টে একদল তরুণ হাঙ্গেরির সোপ্রনের কাছে সীমান্তে জড়ো হয়েছিল এবং শান্তির জন্য বিক্ষোভ করেছিল। প্রায় কয়েক দশক আগেও এখানে লোহার প্রাচীর ছিল, সশস্ত্র প্রহরী ছিল; সেখানে এখন খাবার, পিকনিক আর বন্ধুত্ব রয়েছে।
বিভিন্ন দেশে বসবাস করেও দর্শনার্থীরা খাবার খেতে পারেন- এই ধারণাটি কৃত্রিম বিভাজনকে অতিক্রম করে বন্ধুত্বের চেতনাকে ধারণ করে। পর্যটকরা এখানে নিয়মিত ঘুরতে আসেন। বিশ্বব্যাপী ১৭৬টি আন্তর্জাতিক ট্রাইপয়েন্টের মধ্যে একটি হিসেবে, চুনোভো রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জটিলতায় ভরা একটি অঞ্চলে ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষমতার জন্য আলাদা। বিশ্বব্যাপী আরও ট্রাইপয়েন্ট সীমান্তে এমন মোটিফ গড়ে তোলার আহ্বান জানান শান্তিপ্রেমী মানুষ।
তারেক/
.jpg)
.jpg)