ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড অনূর্ধ্ব-১৫ ডেভেলপমেন্ট কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় পড়া চলছে রায় শুনতে আদালতে রামিসার বাবা মেসিকে ছাড়াই হন্ডুরাসকে হারাল আর্জেন্টিনা বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক দল বদলের উৎসব, ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় যোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২১ কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করল ব্রাজিল শরীয়তপুরে উচ্ছ্বাসে মাতলেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগ দুই দিনেও সিদ্ধান্ত হলো না শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জনের পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঘিরে উত্তেজনা, লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া নড়াইলে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার নাগরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন রামিসা হত্যাকাণ্ড: আদালতে আনা হলো আসামি সোহেল-স্বপ্নাকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২ মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে আজ থেকে সোনারগাঁয় ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন সক্ষমতা বাড়াতে সুপরিকল্পিত বাজেটের তাগিদ টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা বাতিলের দাবি খুলনায় ধারাবাহিক খুন-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ, কাজে আসছে না বিশেষ অভিযানও
Nagad desktop

আইন কঠোর, উপস্থাপনা স্টাইলিশ

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
আইন কঠোর, উপস্থাপনা স্টাইলিশ
ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ পুলিশের গাড়ি বলতে আমাদের চোখে ভাসে ধুলোমাখা জিপ বা সাইরেন লাগানো সেডান। কিন্তু দুবাই পুলিশের গাড়ির বহরের কথা শুনলে সেই ধারণা এমনভাবে উড়ে যায়, যেন মরুভূমির বালুর ওপর দিয়ে হঠাৎ সুপার কারের টায়ার চলে গেল! এখানে পুলিশের কাজ শুধু অপরাধ দমন নয়, শহরের ইমেজ ধরে রাখা; আর সেই ইমেজ যে কতটা চকচকে, তা বোঝা যায় তাদের গাড়ির দিকে তাকালেই।

ভাবুন তো, ট্রাফিক সিগনালে দাঁড়িয়ে আছেন আপনি। হঠাৎ পাশ দিয়ে গর্জন করতে করতে চলে গেল ল্যাম্বরগিনি অ্যাভেন্টাডর, গায়ে সবুজ-সাদা পুলিশ লিভারি। প্রথমে মনে হবে, নিশ্চয়ই কোনো ধনী ইউটিউবার ভিডিও শুট করছে। তারপর চোখ পড়বে দরজায় লেখা ‘Dubai Police’। তখনই মাথায় প্রশ্ন আসবে, ‘এটা কি সত্যি, নাকি মরুভূমির মরীচিকা?’ দুবাই পুলিশের ক্ষেত্রে উত্তরটা- একদম সত্যি।

এই পুলিশ বাহিনীর বহরে আছে ল্যাম্বরগিনি, ফেরারি, বুগাটি, বেন্টলি, ম্যাকলারেন; যেন গাড়ির কোনো আন্তর্জাতিক অটো শো! বুগাটি ভেয়রন, যার গতি ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি ছুঁতে পারে, সেটিও পুলিশের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও সত্যি বলতে, এই গাড়িগুলো দিয়ে তারা নিয়মিত অপরাধী ধাওয়া করে না। কারণ, অপরাধী ধরতে বুগাটির দরকার পড়ে বিশ্বে এমন শহর খুব কমই আছে। কিন্তু ইমেজ; ওই যে বললাম ইমেজটাই আসল।

দুবাই পুলিশ খুব ভালো করেই জানে, তাদের শহর মানে শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, এটা একটা ব্র্যান্ড। বিশ্বের ধনী পর্যটক, ব্যবসায়ী আর সেলিব্রিটিদের কাছে দুবাই মানে বিলাসিতা, আধুনিকতা আর একটু বেশি কিছু। সেই ‘একটু বেশি’ অংশটাই তারা এনে দেয় পুলিশের গাড়ির বহরে। ফলে পর্যটকরা যখন ছবি তোলে, তখন পুলিশের গাড়িও হয়ে ওঠে ট্যুরিস্ট স্পট। চোর ধরার পাশাপাশি পুলিশ এখানে ইনস্টাগ্রাম রিলের নায়কও বটে।

মজার বিষয় হলো, এই সুপারকারগুলো দিয়ে সাধারণ টহল দেওয়া হয় না। এগুলো মূলত ব্যবহার করা হয় বিশেষ এলাকায়; বুর্জ খলিফা, জুমেইরা বিচ, বড় বড় শপিং মল বা আন্তর্জাতিক ইভেন্টে। মানে যেখানে ক্যামেরা বেশি, সেখানে গাড়িও বেশি চকচকে। এতে একদিকে অপরাধীদের মনে একটা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়- ‘এই শহরে কিছু করলেই চোখে পড়বে।’ অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তি হয় আধুনিক আর বন্ধুসুলভ।

কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, ‘এত দামি গাড়ি কিনে কি পুলিশের টাকা নষ্ট হচ্ছে?’ দুবাই পুলিশ কিন্তু এই প্রশ্নেরও জবাব দেয়। তাদের মতে, এসব গাড়ির বেশির ভাগই উপহার হিসেবে বা বিশেষ সহযোগিতার মাধ্যমে পাওয়া। আবার অনেক সময় এগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রচারের অংশ। এক ধরনের লাইভ মার্কেটিং বলা যায় যেখানে আইনশৃঙ্খলা আর বিলাসিতা হাত ধরাধরি করে হাঁটে।

আরেকটা মজার দিক হলো, এই গাড়িগুলো চালানোর জন্য পুলিশ সদস্যদের বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হয়। কারণ, ল্যাম্বরগিনি চালানো আর সাধারণ প্যাট্রোল কার চালানো এক জিনিস নয়। এখানে শুধু গতি নয়, নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ব আর শো-ম্যানশিপ; সবকিছুর মিশেল লাগে। বলতে গেলে, দুবাই পুলিশের কিছু সদস্য একই সঙ্গে অফিসার আর মোটরস্পোর্টস অ্যাম্বাসেডর।

সবশেষে বলা যায়, দুবাই পুলিশের গাড়ির বহর আসলে একটা বার্তা দেয়। বার্তাটা হলো—আইন এখানে কঠোর, কিন্তু উপস্থাপনটা স্টাইলিশ। এখানে পুলিশ মানে শুধু ভয় নয়, বরং কৌতূহল আর বিস্ময়ও। তাই দুবাইয়ে যদি কখনো ট্রাফিক আইন ভাঙতে ইচ্ছে করে, আগে একবার ভাবুন; পেছনে যদি বেন্টলি পুলিশ গাড়ি এসে দাঁড়ায়, তখন কিন্তু অজুহাত দেওয়ার সুযোগ কম। কারণ, এমন গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ভুল স্বীকার করাটাও যে একটু বেশি লজ্জার!

 

তারেক/

তারার দেশে সাইকেল যাত্রা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
তারার দেশে সাইকেল যাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

রাতের নিস্তব্ধতায় আপনি সাইকেল চালিয়ে এগিয়ে চলেছেন। চাকার নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার জ্বলজ্বলে নক্ষত্র। আপনার চারপাশে এক মায়াবী নীল আভা। মনে হবে, ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগের কালজয়ী সৃষ্টি ‘দ্য স্টারি নাইট’ (The Starry Night) বুঝি আকাশ থেকে নেমে এসে আশ্রয় নিয়েছে আপনার পায়ের তলায়। তবে এটি কোনো অলীক কল্পনা নয়। এটি নেদারল্যান্ডসের আইন্দহোভেন শহরের এক বাস্তব ও জাদুকরী সাইকেল পথ–যার নাম ‘ভ্যান গগ-রুসেগার্ড সাইকেল পথ’।

এই অনন্য পথটি ডাচ ডিজাইনার ড্যান রুসেগার্ড এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হাইজম্যানসের যৌথ এক শিল্পকর্ম। রুসেগার্ড এই প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘টেকনো-পোয়েট্রি’ বা প্রযুক্তি ও কবিতার মেলবন্ধন। এই রাস্তার নির্মাণশৈলী সাধারণ পথের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে হাজার হাজার ছোট লুমিনেসেন্ট বা স্ব-আলোকিত পাথর। এই বিশেষ পাথরগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলো দিনের বেলা তীব্র সূর্যালোক শুষে নিয়ে শক্তি জমা রাখে। আর যেইমাত্র অন্ধকার নামে, অমনি পাথরগুলো নীল ও সবুজ আভায় জ্বলতে শুরু করে। এটি কোনো কৃত্রিম বিদ্যুৎ বা তারের সংযোগ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে, যা একে বিশ্বের অন্যতম টেকসই ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল

এ পথটি তৈরির পেছনে কেবল আধুনিকতার ছোঁয়া নেই, আছে গভীর ঐতিহাসিক আবেগ। নেদারল্যান্ডসের উত্তর ব্রাবান্টে অবস্থিত এই অঞ্চলটি শিল্পী ভ্যান গগের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, আইন্দহোভেন এবং নুইনেন এলাকার মাঝামাঝি ওপওয়েন এবং কোলেন ওয়াটারমিলের সংযোগস্থলে এই পথটি তৈরি। ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে যে, ভ্যান গগ নিজে তার চিত্রকর্মে এই দুটি ওয়াটারমিলকে অমর করে রেখেছিলেন। ২০১৫ সালে শিল্পী ভ্যান গগের ১২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। সেই মহান শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবেই ২০১৪ সালের নভেম্বরে এই নান্দনিক পথটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

রাতের অন্ধকারে সাইকেল চালানো প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। কিন্তু রুসেগার্ডের এই উদ্ভাবন সেই ভয়ের জায়গাটিকে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় বদলে দিয়েছে। এটি তার উচ্চাভিলাষী ‘স্মার্ট হাইওয়ে’ (Smart Highway) প্রকল্পের একটি অংশ। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো–আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ রাস্তাগুলোকে কেবল দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা থেকে নিরাপদ করে তোলা নয়, বরং সেগুলোকে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নান্দনিক করে তোলা। সাইকেল আরোহী যখন এই পথ দিয়ে যান, তিনি কেবল গন্তব্যে পৌঁছান না, বরং এক অপার্থিব জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা পথে এক মায়াবী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান।

সৃজনশীলতা এবং দূরদর্শী চিন্তার এই দারুণ সমন্বয় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এটি ডাচ ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড এবং অ্যাকসেঞ্চার ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডের মতো বেশ কিছু মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয় করেছে। আজকের দিনে এটি কেবল নেদারল্যান্ডসের এক গর্বের জায়গা নয়, বরং সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে একটি ‘বাকেট লিস্ট’ গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বের অনেক শহরই এখন এই মডেল অনুসরণ করে তাদের যাতায়াত ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেওয়ার কথা ভাবছে।

ভ্যান গগ-রুসেগার্ড সাইকেল পথ আমাদের নতুন করে একটি বার্তা দেয়। আমরা প্রায়ই প্রযুক্তিকে দেখি যান্ত্রিকতা বা শীতল যন্ত্রের সমার্থক হিসেবে। কিন্তু এই পথটি প্রমাণ করে, প্রযুক্তির সঙ্গে যদি শিল্পের ছোঁয়া থাকে, তবে তা ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে কতটা জীবন্ত করে রাখতে পারে। এটি আধুনিক সভ্যতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন, যেখানে প্রযুক্তি কেবল মানুষের প্রয়োজন মেটায় না, বরং মানুষের কল্পনাশক্তিকেও স্পর্শ করে।

নেদারল্যান্ডসের এই পথে সাইকেল চালানো মানে কেবল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া নয়; এটি যেন এক মহাজাগতিক যাত্রার অংশ হওয়া। যেখানে প্রতিটি প্যাডেলে চাকা ঘোরে, আর নিচে জ্বলে ওঠে এক টুকরো নক্ষত্র।

তারেক/

আটলান্টিকের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ভাঙা দুর্গ’

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আটলান্টিকের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ভাঙা দুর্গ’
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের গর্জন, খাড়া পাথুরে উপকূল আর প্রকৃতির অলৌকিক শিল্পকর্ম, সব মিলিয়ে আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে দাঁড়িয়ে থাকা দান ব্রিস্টে (Dún Briste) যেন পৃথিবীর এক বিস্ময়। 

আইরিশ ভাষায় ‘Dún Briste’ শব্দের অর্থ ভাঙা দুর্গ। নামের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে এর জন্মের ইতিহাস, বিচ্ছেদের কাহিনি এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বয়ে চলা প্রকৃতির নির্মম সৌন্দর্য।

আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি মেয়র উত্তর উপকূলে অবস্থিত ডাউনপেট্রিক হেড এলাকায় এই বিখ্যাত সামুদ্রিক স্তম্ভ বা sea stack-এর অবস্থান। মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৮০ মিটার দূরে আটলান্টিকের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এই পাথুরে স্তম্ভটির উচ্চতা প্রায় ৫০ মিটার বা ১৫০ ফুট। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সমুদ্রের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে এক রহস্যময় দুর্গের ধ্বংসাবশেষ।

আরো পড়ুন: মিলনের পরই গিলে খায় পুরুষ সঙ্গীকে!

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, দান ব্রিস্টের শিলাগুলো প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে কার্বনিফেরাস যুগে গঠিত হয়েছিল। স্তরীভূত পাললিক শিলার এই গঠন প্রকৃতির দীর্ঘ বিবর্তনের এক জীবন্ত সাক্ষী। কোটি কোটি বছর ধরে বাতাস, বৃষ্টি আর উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ উপকূলকে ক্ষয় করতে করতে একসময় এই অংশটিকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে দেয়।

ইতিহাস বলছে, ১৩৯৩ সালে এক ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত প্রাকৃতিক পাথরের খিলানটি ধসে পড়ে। সেই ঘটনার পর থেকেই দান ব্রিস্টে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় কয়েকজন মানুষ সেখানে আটকা পড়েছিলেন। পরে দড়ির সাহায্যে তাদের উদ্ধার করা হয়। বাস্তব হোক কিংবা লোককথা, এই গল্প এখনো স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরে।

এই দান ব্রিস্টে ঘিরে রয়েছে ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনিও। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের সময় সেন্ট প্যাট্রিক এক অবাধ্য পৌত্তলিক সর্দারের ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে তার লাঠি দিয়ে ভূমিতে আঘাত করেছিলেন। আর সেই আঘাতেই নাকি মূল ভূখণ্ডের অংশ ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হয় এই বিচ্ছিন্ন পাথুরে স্তম্ভ। যদিও এটি নিছক লোকগাথা, তবু দান ব্রিস্টের রহস্যময় আবহকে আরও গভীর করে তুলেছে এই কাহিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই এই পাথুরে দ্বীপটি মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৮০ সালে একদল বিজ্ঞানী হেলিকপ্টারের সাহায্যে এর সমতল চূড়ায় অবতরণ করেন। সেখানে তারা প্রাচীন পাথরের নির্মাণ, দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ এবং মানব বসতির বিভিন্ন নিদর্শন খুঁজে পান। ধারণা করা হয়, বহু শতাব্দী আগে মানুষ এখানে বসবাস করত অথবা এটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

বর্তমানে দান ব্রিস্টে শুধু একটি ভূতাত্ত্বিক বিস্ময় নয়, এটি বহু সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলও। পাফিন, কিটিওয়াক, ফুলমারসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক পাখি এখানে বাসা বাঁধে। মাঝে মাঝে আশপাশের সমুদ্রে সিলও দেখা যায়। ফলে এটি পাখিপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক স্বর্গরাজ্য।

প্রতি বছর হাজারো পর্যটক ডাউনপেট্রিক হেডে ভিড় জমান শুধু এই বিস্ময়কর দৃশ্যটি একনজর দেখার জন্য। উপকূলে নির্মিত নির্দিষ্ট ভিউয়িং প্ল্যাটফর্ম থেকে দান ব্রিস্টেকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় আটলান্টিকের সোনালি আলো যখন পাথরের গায়ে পড়ে, তখন পুরো দৃশ্যটি যেন জীবন্ত কোনো চিত্রকর্মে পরিণত হয়।

আধুনিক পৃথিবীতে প্রযুক্তি ও নগর সভ্যতার বিস্তারের মধ্যেও দান ব্রিস্টে আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির শক্তি কতটা গভীর এবং সময় কতটা বিশাল। কোটি বছরের ইতিহাস নিজের শরীরে ধারণ করে আটলান্টিকের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই ‘ভাঙা দুর্গ’ আজও নীরবে বলে যায় পৃথিবীর সৃষ্টি, ধ্বংস আর পুনর্জন্মের গল্প।

তারেক/

কোন দেশে কত পশু কোরবানি হয়?

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
কোন দেশে কত পশু কোরবানি হয়?
ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির পশু হিসেবে সাধারণত গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এবং উট ব্যবহৃত হয়। দেশ ও সংস্কৃতিভেদে কোরবানির পশুর ধরন এবং সংখ্যা ভিন্ন হয়। নিচে কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশে কোরবানির পশুর সংখ্যার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো–

বাংলাদেশ: বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মুসলিম বাস করে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১ কোটির বেশি পশু কোরবানি করা হয়েছে, যার মধ্যে গরু এবং ছাগলের সংখ্যা বেশি।

সৌদি আরব: সৌদি আরবে হজের সময় প্রচুর পশু কোরবানি হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সে বছর প্রায় ১৫ লাখ হজযাত্রী হজে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাদের জন্য প্রায় ১০ লাখ পশু কোরবানি করা হয়। এর মধ্যে ভেড়া এবং ছাগলের সংখ্যাই বেশি। ২০২৫ সালেও সৌদি আরবে ১০ থেকে ১১ লাখ পশু কোরবানি করা হয়। এছাড়া ঈদুল আজহার দিন সাধারণ সৌদি নাগরিক ও দেশটিতে থাকা অন্য মুসলিমরা কয়েক লাখ পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

আরো পড়ুন: তিমির দুধ পানিতে মিশে না!

পাকিস্তান: পাকিস্তানে প্রায় ২৪ কোটি মুসলিম বাস করে, যা দেশটির জনসংখ্যার ৯৮ শতাংশ। এখানে কোরবানির পশুর সংখ্যা প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ; যার মধ্যে গরু, ছাগল, ভেড়া এবং উট অন্তর্ভুক্ত। শীতপ্রধান অঞ্চলে দুম্বার কোরবানি বেশি প্রচলিত।

ইন্দোনেশিয়া: বিশ্বের সবচেয়ে বেশি (প্রায় ২০ দশমিক ৩ কোটি) মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় কোরবানির পশুর সংখ্যা প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ। এখানে গরু এবং ছাগল প্রধানত কোরবানি করা হয়।

ইরান ও তুরস্ক: এই দেশগুলোয় প্রতি বছর প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ পশু কোরবানি করা হয়। ইরানে গরু ও ভেড়া এবং তুরস্কে ভেড়া ও ছাগল বেশি জনপ্রিয়।

তারেক/

সমুদ্রের তলদেশে দাঁড়িয়ে থাকে যে মাছ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
সমুদ্রের তলদেশে দাঁড়িয়ে থাকে যে মাছ
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাইপড মাছ গভীর সমুদ্রের এক অত্যন্ত রহস্যময় ও বিস্ময়কর প্রাণী। এটি ইপনোপিডি (Ipnopidae) পরিবারের Bathypterois গণের অন্তর্ভুক্ত। এই মাছকে বিজ্ঞানীরা গভীর সমুদ্রের ‘unique adaptation species’ হিসেবে বিবেচনা করেন, কারণ এটি এমন পরিবেশে টিকে আছে যেখানে আলো নেই, চাপ অত্যন্ত বেশি এবং খাদ্যও সীমিত।

ট্রাইপড মাছের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর তিনটি অত্যন্ত লম্বা পাখনা, যা দেখতে অনেকটা ত্রিপদের (tripod) মতো কাজ করে। এই কারণে এর নাম ‘ট্রাইপড ফিশ’ রাখা হয়েছে। মাছটির দুটি পাখনা আসে শ্রোণিদেশ (pelvic fins) থেকে এবং আরেকটি আসে লেজ (caudal fin) থেকে। এই পাখনাগুলো অনেক সময় প্রায় এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, যা মাছটির শরীরের তুলনায় অনেক বড়।

ট্রাইপড মাছের মূল দেহ সাধারণত ছোট; প্রায় ১০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। কিন্তু লম্বা পাখনার কারণে একে অনেক বড় ও অদ্ভুত আকৃতির প্রাণী বলে মনে হয়। এই পাখনাগুলোর সাহায্যে মাছটি সমুদ্রের তলদেশে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, যেন এটি একটি স্ট্যান্ড বা ত্রিপদের ওপর ভর করে আছে।

এই মাছ সাধারণত ৯০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ মিটার গভীর সমুদ্র অঞ্চলে বসবাস করে। এই গভীরতায় সূর্যের আলো একেবারেই পৌঁছায় না, ফলে সেখানে চির অন্ধকার বিরাজ করে। তাপমাত্রাও খুব কম এবং পানির চাপ অত্যন্ত বেশি। এমন কঠিন পরিবেশেও ট্রাইপড মাছ তার বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতার মাধ্যমে বেঁচে থাকে।

আরো পড়ুন: গাছে ওঠে খাবার খায় যেসব ছাগল

ট্রাইপড মাছের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর খাদ্য সংগ্রহের পদ্ধতি। এটি সক্রিয়ভাবে শিকার করে না; বরং সমুদ্রের তলদেশে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা ক্ষুদ্র প্রাণীর অপেক্ষা করে। এর প্রধান খাদ্য হলো প্ল্যাঙ্কটন, ছোট ক্রাস্টেশিয়ান, চিংড়িজাতীয় প্রাণী এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীব। এই শিকার ধরার কৌশলকে বলা হয় ‘ambush feeding strategy’ বা আক্রমণ অপেক্ষা কৌশল।

এই মাছের চোখ তুলনামূলকভাবে খুব ছোট এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রায় অকার্যকর। কারণ, গভীর সমুদ্রের অন্ধকার পরিবেশে দৃষ্টিশক্তির তেমন প্রয়োজন হয় না। এর পরিবর্তে পাখনাগুলো একটি সংবেদনশীল অঙ্গ হিসেবে কাজ করে, যা পানির কম্পন ও আশপাশের নড়াচড়া অনুভব করতে সাহায্য করে। এ কারণে ট্রাইপড মাছকে অনেক সময় ‘living sensor’ বলা হয়।

ট্রাইপড মাছের প্রজনন ব্যবস্থাও অনেক বিশেষ। বিভিন্ন প্রজাতির ট্রাইপড মাছ উভলিঙ্গ (hermaphrodite), অর্থাৎ একই দেহে স্ত্রী ও পুরুষ উভয় প্রজনন অঙ্গ বিদ্যমান থাকে। গভীর সমুদ্রে সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়ায় এটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোজন, যা প্রজননকে সহজ করে তোলে।

মানুষের জন্য ট্রাইপড মাছ সরাসরি কোনো অর্থনৈতিক বা খাদ্যগত গুরুত্ব বহন করে না। এটি সাধারণত মানুষের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে অনেক সময় গভীর সমুদ্রের ট্রলিং বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার সময় এটি ধরা পড়ে এবং পরে আবার সমুদ্রে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, ট্রাইপড মাছ এখনো গভীর সমুদ্রের এক রহস্যময় প্রাণী। এর জীবনচক্র, আচরণ এবং অভিযোজন সম্পর্কে এখনো অনেক কিছু অজানা রয়ে গেছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এই মাছ সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য জানা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে ট্রাইপড মাছ প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সমুদ্রের গভীরে এখনো কত রহস্য লুকিয়ে আছে, যা আমরা পুরোপুরি আবিষ্কার করতে পারিনি।

তারেক/

দেশভেদে কোরবানির ঈদ পালনের নানা রীতি

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
দেশভেদে কোরবানির ঈদ পালনের নানা রীতি
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব। প্রচলিত অর্থে ঈদুল আজহার দিন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরিয়তের বিধানমতে যে পশু জবাই করা হয়, তাকে কোরবানি বলা হয়। ধর্মীয় রীতি অনুসারে কোরবানির মাংস তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়–একটি অংশ ব্যক্তির নিজের বাড়ির জন্য, একটি অংশ তার আত্মীয়দের জন্য এবং একটি অংশ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য।

অন্য সবকিছুর মতো স্থানীয় পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে কোরবানিতেও বেশ বৈচিত্র্য দেখা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন দেশে কীভাবে পালিত হয় ঈদুল আজহা–

পাকিস্তান

পাকিস্তানে চার দিন ধরে ঈদুল আজহার উৎসব উদযাপিত হয়। ঈদের দিন সকালে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নামাজের জন্য রওনা হন। তারপর বাড়ি ফিরে গরু, ছাগল, ভেড়া বা উট কোরবানি করেন। পাকিস্তানে সবাই পালিত পশুই কোরবানি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য অনেক আগ থেকেই পশু কেনাবেচা শুরু হয়। অন্তত এক মাস আগে তারা পশু কিনে নিজেরাই তার যত্ন নেন। সরকারি ছুটি থাকায় যে যার মতো করে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেন। 

ভারত

ভারতীয় মুসলমানরা ঈদুল আজহার জন্য সাধারণত ছাগল বা ভেড়া কোরবানি করে থাকেন। ঈদের নামাজের জন্য সেখানে নির্ধারিত এলাকা আছে। যেহেতু ওই দেশে গরুকে পবিত্র বলে মনে করা হয় তাই ভারতীয় মুসলমানরা সাধারণত তাদের বাড়িতে বা স্থানীয় ইসলামিক কেন্দ্রে একটি ছাগল বা ভেড়া কোরবানি দেন। মাংস প্রস্তুত করার পর বাড়িতে এনে রান্নার কাজে লেগে পড়েন সবাই। সাধারণ জনগণের অসুবিধা এড়াতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ রাস্তায় পশু কোরবানি করতে নিরুৎসাহিত করে।

আরো পড়ুন: যে হোটেলে একই সময়ে দুই দেশে ঘুমানো যায়

তুরস্ক

ঈদুল আজহাকে তুর্কি ভাষায় কুরবান বায়রামি বলা হয়। এ দেশের মানুষও ঈদের দিন শুরু করে নামাজের মাধ্যমে। তারপর বাড়ি ফিরে আল্লাহর নামে পশু (সাধারণত ভেড়া) কোরবানি দেন। তুরস্কেও অনুমোদিত কসাইখানা/বসাখানা ছাড়া অন্য কোথাও পশু কোরবানি করা বেআইনি। এগুলোর বেশির ভাগই বড় শহরের উপকণ্ঠে নির্মিত। তুরস্কের অনেকেই পশু কোরবানি দেওয়া এড়িয়ে যান, এর পরিবর্তে তারা সমমূল্যের অর্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করতে পারেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

পশু কোরবানির আগে সকালে ঈদের নামাজ আদায় করা হয় সেখানে। আবুধাবির শেখ জায়েদ মসজিদে প্রতি বছর ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও তিন থেকে চার দিন ধরে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। যদিও সেখানকার মানুষ নিজের বাড়িতে পশু জবাই করতে পারেন, তবে যথাযথভাবে কোরবানি ও এর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে কসাইখানার স্থান নির্ধারণ করা থাকে। এ কারণে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কারের বিষয়ে ভাবতে হয় না তাদের।

ইরান

সংযুক্ত আর আমিরাতের মতো ইরানেও পশু কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থান রাখা হয়। এর বাইরে পশু জবাই করা বেআইনি হতে পারে। ইরানে ভোরেই কোরবানি দেওয়া হয়। সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের আগে কসাইখানায় রওনা হন সবাই মাংস সংগ্রহ করতে। তারপরে তারা নতুন পোশাক পরে নামাজ আদায় করেন। আর সারা দিন প্রিয়জনদের সঙ্গে খাসি বা গরুর মাংসের নানা পদ খেয়ে উদযাপন করেন ঈদুল আজহা।

তাজিকিস্তান

তাজিকিস্তাসের মানুষ ঈদের নামাজের মধ্য দিয়ে শুরু করেন ঈদুল আজহা। তারপর শিশুরা প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে যায়। সেখান থেকে তারা পুরস্কার ও মিষ্টি পেয়ে খুশি হয়। এরপর পুরুষরা পশু কোরবানির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাজিকিস্তানেও অনুমোদিত স্থান ছাড়া কোরবানি দেওয়ার নিয়ম নেই। মাংস নিয়ে বাড়িতে আসতেই তা রান্না শুরু করেন নারীরা। তাজিকিস্তানে বাড়ির শিশুরাই ঈদের দিন খাবার পরিবেশন করে। অতিথিকে প্রথমে ফল, পেস্ট্রি ও বিস্কুট নাশতা দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন: গরুর লাটসাহেবি জীবনযাপন

তারপর মাংসের বাহারি খাওয়ার পর কেক ও মিষ্টি মুখ করে সবাই। তাজিকিস্তানে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এই দেশের প্রতিবেশীরা অবাধে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যেতে পারে, কারণ তাদের সবার ঘরের দরজায় প্রতিবেশীদের জন্য সব সময় খোলা থাকে।

আফ্রিকান নেশনস

আফ্রিকার বেশির ভাগই মুসলিম দেশ যেমন–তিউনিসিয়া, মরক্কো ও মিসরে ঈদুল আজহা উদযাপন শুরু হয় ঈদের নামাজ আদায় করার মধ্য দিয়ে। ভেড়া, ছাগল বা মহিষের মতো পশুই তারা বেশি কোরবানি দেয়। এরপর পরিবার নিয়ে মজাদার সব পদের স্বাদ উপভোগ করেন।

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় ঈদুল আজহা উদযাপনের রীতিনীতি অনেকটাই পাকিস্তানের মতোই। ঈদের নামাজের পরে তারা রাস্তায় কোরবানি করে। পশু কোরবানি দেখতে প্রতিবেশী, পরিবার, বন্ধুসহ সবাই জড়ো হয়।

তারেক/