গা ছমছমে থ্রিলার কিংবা রোমান্টিসিজমে ভরপুর প্রচলিত ভাবধারার বাইরেও কিছু কিছু গল্প, উপন্যাস, চরিত্র পাঠককে অভিভূত করতে পারে। তেমনই এক বিস্ময়কর গ্রন্থ হলো ‘Meow: A Novel’।
বিড়ালপ্রেমীদের জন্য অনন্য সংযোজন স্যাম অস্টেনের লেখা ৩৪৬ পৃষ্ঠার এ বইয়ের প্রতিটি শব্দানুচ্ছেদ এবং অধ্যায়ে ‘Meow’ শব্দটির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে ৮০ হাজারবারেরও বেশি! বিড়ালের কথনে লেখা এ বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। পুরোপুরি বিড়ালের ভাষায় রচিত বইটি জুড়ে রয়েছে মাত্র একটি শব্দের পুনরাবৃত্তি ‘Meow’। যেখানে শব্দই হয়ে উঠেছে প্রধান চরিত্র।
সাহিত্যের ইতিহাসে পরীক্ষামূলক লেখার ধারা নতুন নয়। পোস্টমডার্নিজম কিংবা কংক্রিট পোয়েট্রির মতো ধারায় লেখকরা ভাষার গঠন ও অর্থকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ‘Meow: A Novel’ সেই ধারারই এক আধুনিক উদাহরণ।
এখানে গল্প নেই, বাক্য নেই, কিন্তু আছে ছন্দ আর বিন্যাস। একই শব্দ ভিন্ন ভিন্ন প্যারাগ্রাফে, ভিন্ন যতিচিহ্নে, ভিন্ন লাইনে সাজানো। পাঠক একই শব্দ বারবার পড়তে গিয়ে প্রথমে হাসে, পরে অবাক হয় তারপর ভাবতে থাকে। এভাবে ভাবতে ভাবতে কেউ কেউ নিজের মতো করে ভাবার্থ বের করে আনে।
যখন কোনো লেখক স্পষ্ট গল্প দেন না, আবছা ধোঁয়াশা রেখে দেন, তখন পাঠকই হয়ে উঠে গল্প নির্মাতা। এভাবে ‘Meow’ শব্দটি হয়ে উঠে অনুভূতির প্রতীক। ক্ষুধার প্রকাশ, ভালোবাসা আহ্বান, নীরব অভিমান, একাকিত্বের আর্তি কিংবা নিঃশর্ত আনুগত্য–সবকিছুই পাঠকের কল্পনায় চিত্রায়িত হয়। পোস্ট মডার্ন সাহিত্যের এই খেলায় পাঠক নিজেই হয়ে ওঠে গল্পের সহ-নির্মাতা।
সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, এটি নিছক একটি কৌতুকপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী পণ্য। বইটিতে কোনো প্রথাগত গল্পপ্লট বা অর্থপূর্ণ বাক্য নেই। একদিকে এটি প্রথাগত উপন্যাসের ধারণা, সাহিত্যের সীমানা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অন্যদিকে ভিন্নধর্মী বাজারজাত কৌশলের ফল বলেও অনেকেই মনে করেন। ‘Meow: A Novel’ সবার পছন্দের বই না-ও হতে পারে। তবুও এটি আমাদের একই শব্দের বারবার ব্যবহারের গুরুত্ব অনুধাবন করায়। তাইতো কেউ এটিকে কফি-টেবিলে রাখেন আলোচনার উপকরণ হিসেবে, কেউ উপহার দেন মজা করে, আবার কেউ ডুব দেন গভীর ভাবনায়।
তারেক/
.jpg)
.jpg)
.jpg)