অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফের ছেলে মো. মোয়াজ আরিফের বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী নীলা ইসরাফিল নারী নির্যাতনের মামলা করেছেন।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে রবিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী রামনা থানায় মামলা করতে চাইলে তা নেওয়া হয়নি।
সে সময় নীলা বলেন, ‘রবিবার রাত থেকে মামলা করতে চাইলে থানা-পুলিশ মামলা নিচ্ছিল না। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ যখন দেখে অভিযুক্ত মোয়াজ আরিফ উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে, তখন সবাই উঠে চলে যান। মামলা নেননি। পরে পুলিশ সোমবার মামলা নিয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলা ইসরাফিল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে মীমাংসার জন্য অফার করা হয়েছে। মোয়াজের সঙ্গে আমার বিয়ে হয় ২০১৮ সালে। ডিভোর্স হয় ২০২১ সালে। আমি ন্যায়বিচার চাই। মীমাংসার জন্য বৈঠকে বসতে রাজি। কিন্তু প্রতিটি অন্যায়, অবিচার ও নির্যাতনের বিচার হতে হবে।’
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ‘নির্যাতনের অভিযোগে রমনা থানায় এক ভুক্তভোগী নারী মামলার আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে নারী নির্যাতন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। এ মামলায় একমাত্র আসামি মোয়াজ আরিফ। তদন্তসাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে নীলার সঙ্গে মোয়াজের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে। ২০২১ সালে আদালতের মাধ্যমে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে পুনরায় বিয়ের জন্য বললে, মেয়েদের কথা ভেবে রাজি হন নীলা। এ অবস্থায় চলতি বছরের ২৯ নভেম্বর ঢাকা ক্লাবে যান তারা। সেখানে দীর্ঘসময় কাটানোর একপর্যায়ে নীলার সঙ্গে মোয়াজের তর্ক-বিতর্ক হয়।
সেখানে মোয়াজ্জেম নীলাকে শ্লীলতাহানি, ধারালো ছোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত ও প্রাণে মেরে ফেলতে গলা চেপে ধরেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই রাতে নীলা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার বাসায় ঢুকে ল্যাপটপ, মোবাইল, সার্টিফিকেট ও কয়েকটি ডিভাইস নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ডিভাইস থেকে মোয়াজের বর্তমান স্ত্রী প্রীতি সাইদ ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে ভাইরাল করেন।
আলমগীর/পপি/