শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ২০২০-২১ সেশন থেকে ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নতুন অনুমোদন পাওয়া আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়। সর্বশেষ গত ২০২৩-২৪ সেশনে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল তা সফল হয়নি অভিযোগ তুলে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও গুচ্ছ পদ্ধতি ভর্তি পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় আর থাকতে চান না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষার্থী ভোগান্তি কমাতে এই পদ্ধতি চালু করা হলেও আদৌ তা লাঘব হয়নি। এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের মতো যাচাই-বাছাই করেও শিক্ষার্থী নিতে পারছে না। এ ছাড়া প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিট ফাঁকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
২০২০-২১ সেশনে প্রথমবারের মতো গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন সাগর গাজী। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক সময় নেয়। এর ফলে গুচ্ছের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় গুচ্ছে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে অধিক মাইগ্রেশনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকে না। নিজ জেলা বা তার আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় বেশি থাকে। অন্য অঞ্চলের শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না।
২০২৩-২৪ সেশনের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বিপন রায় বলেন, ‘আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি হয়েছি। এই পদ্ধতিতে কিছু সুবিধা থাকলেও অসুবিধা বেশি। এখন গুচ্ছে দূরের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ ভর্তি হতে চান না। মাইগ্রেশন করে নিজ জেলার আশপাশের বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়। ফলে সিট ফাঁকা থেকে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিলে একজন শিক্ষার্থী জেনে বুঝেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তখন এত বেশি আর সিট ফাঁকা থাকে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘গুচ্ছ যে উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল তা আদৌ পূরণ হয়নি। শিক্ষার্থীদের সেই ভোগান্তিই পোহাতে হচ্ছে। তা ছাড়া আমরা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী শিক্ষার্থী পাচ্ছি। আমরা যখন স্বতন্ত্র ছিলাম তখন যাচাই-বাছাই করে শিক্ষার্থী নিতে পারতাম। কিন্তু এখন সেই সুযোগটি পাচ্ছি না।’
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছু বলতে পারছি না।’
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তিতে এই গুচ্ছ পদ্ধতি থাকা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে একক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে প্রথম গুচ্ছের নেতৃত্ব দেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে থাকতে চায় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষার্থীরা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছে।