ফসলের রোগ-বালাই কৃষিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা উৎপাদন কমিয়ে আনে ও কৃষকের আর্থিক ক্ষতির কারণ। এই সমস্যা সমাধানে ব্রিডার, প্যাথলজিস্ট ও এন্টোমোলজিস্টদের কাজের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ।
সোমবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স (বিএএস) কর্তৃক ‘প্যাথোটাইপ প্রোফাইলিং, পিরামিডিং অব মাল্টিপল জিন্স অব ডিজিজ রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড পটেনশিয়াল ইউজ অব বায়ো-সিনথেসাইজড ন্যানোপার্টিকেলস ইন রাইস ডিজিজেস ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক শিরোনামে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
শেকৃবি উপাচার্য বলেন, ‘ব্রিডার রোগ-প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, প্যাথলজিস্ট রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধ কৌশল দেন এবং এন্টোমোলজিস্ট ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে কাজ করেন। ফলে এই তিন শ্রেণির কৃষিবিজ্ঞানীদের সমন্বিত কার্যক্রম ব্যতীত কোনো ফসলের রোগ-বালাইয়ের ফলপ্রসূ ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। এক সময় বলা হত বোকার ফসল পোকায় খায়। এটা বলে মূলত কৃষকদেরকে কীটনাশক ব্যবহারের প্রতি উৎসাহিত করা হত। কিন্তু এখন কীটনাশক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়।’
এ সময় তিনি কৃষিতে ন্যানো টেকনোলজি প্রয়োগের বিষয়ে বলেন, ‘ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহারের ফলে মানুষের শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা এটা আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া এর টেকসই ব্যবহার সম্ভব নয়।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মীর্জা হাসানুজ্জামানের সঞ্চালনায় ও বিএএস-এর ফেলো ড. এম. ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্পিকার হিসেবে ছিলেন সুপ্রিম রাইস রিসার্চ সেন্টারের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ড. মো: আব্দুল লতিফ। তিনি অনুষ্ঠানে ধানের ব্যাক্টেরিয়াল ব্লাইট, ব্লাস্ট ও টুংরো রোগ ব্যবস্থাপনায় ন্যানো টেকনোলজি, প্যাথোটাইপ প্রোফাইলিং ও জিন পিরামিডিং পদ্ধতি প্রয়োগের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান ভিত্তিক লেকচার, আলোচনা বৃদ্ধি করতে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে।’
এ সময় তিনি দেশের নানা প্রান্তের লোকাল জেনোটাইপ সংরক্ষণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ’র ডিন অধ্যাপক ড. এম. সালাউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, সাউরেস’র পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান ও পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও এগ্রিকালচারাল বোটানি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত বিজ্ঞানীরা।
অভি/সুমন/