জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) সমর্থিত আংশিক প্যানেল ও সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেল।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেল ৩৫ দফা ও ছাত্র ফ্রন্ট প্যানেল ৫৩ দফাসংবলিত ইশতেহার ঘোষণা করে। দুই প্যানেলের ইশতেহারে শিক্ষা, গবেষণা, আবাসন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ে অবস্থান ভিন্নতা থাকলেও উভয় পক্ষের একটা লক্ষ্য- আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা।
সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের ইশতেহারের দফাগুলোর মধ্যে উল্লেযোগ্য হলো- সকল বিভাগের ক্লাসরুম সংকট নিরসনের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশি-বিদেশি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের (MoU) সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং জার্নাল ও গবেষণাপত্র প্রকাশনার কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছাপাখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চিকিৎসাকেন্দ্র ওরফে নাপা সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর এবং স্বাস্থ্যবিমা কার্যকর করব। হলের ডাইনিং ও ক্যানটিনে ভর্তুকি বৃদ্ধির মাধ্যমে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা। যেসব হলে সক্রিয় ডাইনিং-ক্যানটিন নেই, সেখানে ডাইনিং-ক্যানটিন চালু করা হবে। নারী হলে সান্ধ্য আইনসংক্রান্ত হয়রানিসহ সকল স্তরে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করা হবে। ক্যাম্পাসে মাদকের বিস্তার রোধে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ছাত্র ফ্রন্টের ইশতেহারের দফাগুলোর মধ্যে উল্লেযোগ্য হলো- জাকসু নির্বাচনকে নিয়মিত করার লক্ষ্যে ক্যালেন্ডারভুক্ত করা। সিনেটে ন্যূনতম ১০ জন জাকসু নির্বাচিত শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সিন্ডিকেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে জাকসুর গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা। পদাধিকার বলে সভাপতি হিসেবে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ট্রেজারারকে রাখার বিধান বাতিল করা। শিক্ষা ও গবেষণায় অ্যাকাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে কাজ করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থাকে সচল করা এবং নিয়মিত বিভিন্ন বই ও গবেষণাপত্র প্রকাশ করা। মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ অনুবাদকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা। শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট নিরসন করা। বিভাগগুলোতে অবিলম্বে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। উপাচার্য, প্রভোস্ট, প্রক্টর এবং শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ-দুর্নীতি বন্ধ করা। সন্ত্রাস-দখলদারত্বমুক্ত গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করা। অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যেকোনো অন্যায্যতা ঠেকাতে ‘লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টার’ চালু করা। গেস্টরুম প্রথা এবং র্যাগিং বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ‘যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল’ কার্যকর করা। পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা এবং ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
উল্লেখ্য, জাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে মোট আটটি প্যানেলের প্রার্থীরা ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে কেবল সম্প্রীতির ঐক্য ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) সমর্থিত আংশিক প্যানেলই ইশতেহার ঘোষণা করেছে।