ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান অনুশীলনে নেইমার, বিশ্রামে অ্যালিসন ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন নারী কেলঙ্কারির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ উদ্দিন বরখাস্ত বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার ডান প্রান্তে রাফিনহার জায়গায় খেলতে প্রস্তুত মার্টিনেল্লি সিভিল সার্জনকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষিপ্ত, বললেন ‘মহোদয়’ বলতে হবে সন্ত্রাসী ইমনের গ্রেপ্তার নিয়ে সিএমপির ব্যাখ্যা আইসক্রিমপ্রেমীদের জন্য সেভয়-এর নতুন চমক মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলার বিচার দাবিতে মানববন্ধন তারেক রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ভিডিওতে হাবিবের গান চাপমুক্ত থাকার ৭টি কার্যকর উপায় ৩০ হাজার মামলার জটে স্থবির শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম: শিক্ষামন্ত্রী লালমোহনে ব্রিজ ভেঙে খাদে ট্রাক, চালক নিহত ঈশ্বরদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের মিছিল ঘুষ কেলেঙ্কারি: দেবীগঞ্জের পিআইও বদলি বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নেই: জেলা প্রশাসন নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী? মারা গেছেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষেই বিদায় নিল ৪ দল ফ্রান্সের কাছে হারলেও গর্বিত ইরাকি সমর্থকেরা টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর জুলাই অভ্যুত্থান: ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, অব্যাহতি আরও ২ জনের রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৬ অ্যান্টি-করোসিভ প্রেম কাপ্তাই হ্রদে নাব্যসংকটে লঞ্চ চলাচল সীমিত, ভোগান্তিতে ৫ লাখ মানুষ কবর থেকে তোলা হচ্ছে না সালমান শাহর মরদেহ মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

ডাকসুতে জয়ী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৩৩ পিএম
ডাকসুতে জয়ী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট
ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের বেশিরভাগ প্রার্থী।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

প্রকাশিত ফলাফলে ভিপি পদে মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), জিএস পদে এস এম ফরহাদ ও এজিএস পদে মহিউদ্দিন খান জয়ী হয়েছেন।

প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ভিপি পদে শিবির সমর্থিত সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১৪ হাজার ০৪২ ভোট, আর ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৫৮ ভোট। 

ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামীম ৫ হাজার ২৮৩ ভোট পেয়েছেন। আর ছাত্রশিবিরের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়েছেন।

এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী মহিউদ্দিন খান পেয়েছেন ১১ হাজার ৮৭২ ভোট। ছাত্রদলের আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৪ ভোট।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে শিবির সমর্থিত জোটের ফাতেমা তাসনিম জুমা ১০ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়েছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে একই প্যানেলের ইকবাল হায়দার ৭ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়েছেন।

কমনরুম-রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে একই প্যানেলের উম্মে সালমা ৯ হাজার ৯২০ ভোট পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে এই প্যানেলেরই জসীম উদ্দিন খান ৯ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়েছেন।

ক্রীড়া সম্পাদক পদে আরমান হোসেন ৭ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে একই প্যানেলের আসিফ আব্দুল্লাহ ৯ হাজার ৬১ ভোট পেয়েছেন।

ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক পদে মাজহারুল ইসলাম ৯ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ ৭ হাজার ৩৮ ভোট পেয়েছেন।

মানবাধিকার ও আইনবিষয়ক সম্পাদক পদে সাখাওয়াত জাকারিয়া ১১ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

তাছাড়া ১৩টি সদস্য পদে মধ্যে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী সাবিকুন নাহার তামান্না, সর্ব মিত্র চাকমা, মোছা. আফসানা আক্তার, রায়হান উদ্দিন, তাজিনুর রহমান, ইমরান হোসাইন, মিফতাহুল হোসাইন মারুফ, মো. রাইসুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান, আনাস ইবনে মুনির এবং মো. বেলাল হোসাঈন অপু বিজয়ী হয়েছেন।  এ ছাড়া প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের হেমা চাকমা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া নির্বাচিত হয়েছেন।

শিবিরের প্যানেলের বাইরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বিজয়ী হয়েছেন। গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সানজিদা আহমেদ তন্বী, সমাজসেবা সম্পাদক পদে মো. যুবাইর বিন নেসারী (এবি যুবায়ের) জয়লাভ করেছেন। 

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডাকসুর ভোটগ্রাহণ চলে। 

এবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে ডাকসু এবং হল সংসদে শিক্ষার্থীদের ভোটগ্রহণ করা হয়।। এবার মোট ভোটার ছিল সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন।

পাঁচ ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ ভোট ও ১৩টি ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ ভোট।
 
ডাকসুতে ২৮টি পদের জন্য মোট ৪৭১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪টি। এসব পদে ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন ১ হাজার ৩৫ জন।

এবার সব মিলিয়ে ভোটারদের ৪১টি ভোট দিতে হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ২টার পর থেকে ফল ঘোষণা শুরু হয়।

এদিকে, নির্বাচনে ছাত্রদলসহ কয়েকটি সংগঠনের প্রার্থীরা ভিসি নিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে শিবিরের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ তুললেও উপাচার্য দৃঢতার সঙ্গে বলেছেন, তিনি কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি দাবি করেন, দু-একটি ছোট-খাটো বিচ্যুতি ছাড়া নির্বাচনে বড় কোনো অভিযোগ ওঠেনি। 

তবে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন। 

এ ছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, অদম্য একাত্তর ফল প্রত্যাখ্যান করেছে।

অমিয়/

জুলাই অভ্যুত্থান: ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, অব্যাহতি আরও ২ জনের

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
জুলাই অভ্যুত্থান: ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, অব্যাহতি আরও ২ জনের
ছবি: খবরের কাগজ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকা এবং আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীদের হুমকিসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের হুমকি, নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননার অভিযোগে ১ শিক্ষককে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে আরেক শিক্ষককে সবমিলিয়ে মোট ২ জন শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। এর আগে সোমবার (২২ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম।

জানা গেছে, সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

এছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন- উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিব।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আইন উপদেষ্টার সুপারিশক্রমে জুলাই অভ্যুত্থানে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া অধ্যাপক আজম সাহেবের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের হুমকি, নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননার অভিযোগে একাডেমিক কমিটি থেকে সুপারিশ আসে। এটিও আইন উপদেষ্টার মতামতের উপর ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।’

 শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুয়ায়ী বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকা অবস্থান নেওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সিন্ডিকেটের ওই সভায় ছাত্রদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিমকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদন সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন পায়। ফলে স্থায়ী বহিষ্কার হতে পারেন অধ্যাপক এরশাদ।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘রসায়নের ওই শিক্ষকের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছে, এখন ট্রাইব্যুনাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবেন।’

আরিফ জাওয়াদ/খাদিজা রুমি/

ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল
গোলাম রাব্বানী
২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নিতে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম সিন্ডিকেট। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে।
 
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
 
তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিল গোলাম রব্বানী, বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার জিএস পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে, তা আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে।’
 
পদ বাতিল করা হলে শূন্য হওয়া ওই জিএস পদে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ খাঁন পদ ফিরে পাবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটি আমলে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
 
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম।
 
গত বছরের ২৬ নভেম্বর গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তির অভিযোগ প্রতীয়মান হওয়ায় তার এমফিল ভর্তি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল।
 
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৯ বছরের বিরতির পর ২০১৯ সালে ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টি পদেই নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থীরা। অন্যদিকে ভিপি এবং সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদকের পদে জয়ী হয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ মনোনীত প্রার্থীরা।
 
এছাড়া জিএস পদে বিজয়ী হন বর্তমানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি ভোট পান ১০ হাজার ৪৮৪। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁন পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।
 
অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সব সদস্যের ডাকসুর সদস্যপদ বাতিলপূর্বক ভুক্তভোগী প্রার্থীদের মূল্যায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে সংঘটিত নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়ে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবিতে আবেদন করে রাশেদ খাঁন। এর প্রেক্ষিতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।
 
আরিফ জাওয়াদ/খাদিজা রুমি/

ঢাবির রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মালির মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
ঢাবির রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মালির মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মাথায় কাঁঠাল পড়ে মো. ছিয়াকুল (৩৯) নামের এক মালির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ​সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছিয়াকুলের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া থানার দেবদুন গ্রামে।

হাসপাতালে নিয়ে আসা ছিয়াকুলের সহকর্মী সুনীল চৌহান খবরের কাগজকে বলেন, ‘একটি টেবিলের উপর দাঁড়িয়ে ছিয়াকুল বাঁশ দিয়ে গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে গেলে কাঁঠালটি ছিয়ামুলের মাথায় পড়লে তিনি মেঝেতে পড়ে আঘাত পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ দিকে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক খবরের কাগজকে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা নিয়ে গেছেন।

আরিফ জাওয়াদ/থিওটোনিয়াস

জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী তিনটি বিধিবদ্ধ পর্ষদ- সিনেট, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটি (এফসি) দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের শূন্যতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন পর্ষদের মোট ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

তবে একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, বিভিন্ন কারণে নিষ্ক্রিয় ও কার্যত অনুপস্থিত সদস্যদের হিসেব করলে অকার্যকর পদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতামূলক সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন পদের প্রতিনিধিদের পদত্যাগ, অপসারণ, অব্যাহতি কিংবা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার কারণে এই শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়েও এসব পদে নতুন নির্বাচন বা মনোনয়নের উদ্যোগ না নেওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।

সিনেটে ১৪ পদ শূন্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও বাজেট অনুমোদনকারী পর্ষদ সিনেটে মোট সদস্য ৯৪। এর মধ্যে বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। খালি থাকা পদগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের পদ।

এ ছাড়া স্পিকার কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, চারজন কলেজ অধ্যক্ষ এবং দুইজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধির পদও দীর্ঘদিন ধরে পূরণ হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক বলছেন, কাগজে-কলমে শূন্যপদের সংখ্যা ১৪ হলেও কার্যত অকার্যকর সদস্যের সংখ্যা আরও বেশি। কারণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষাছুটিতে বিদেশে চলে যাওয়া, প্রশাসনিক জটিলতায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া কিংবা বিভিন্ন কারণে অধিবেশনে অংশ না নেওয়া একাধিক সদস্য রয়েছেন। ফলে বাস্তবে সিনেটের কার্যকর সদস্য সংখ্যা আরও কমে গেছে।

গত বছরের ৪২তম সিনেট অধিবেশনে কোরাম সংকট দেখা দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর অধিবেশন শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির মধ্যে সম্প্রতি দুজনের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। ফলে তাদের সিনেট সদস্যপদ বহাল থাকা নিয়েও আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩- এর ধারা ১৯(২) অনুযায়ী, শিক্ষার্থী সদস্যদের মেয়াদ এক বছর এবং অন্য সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর। একই ধারায় বলা হয়েছে, উত্তরসূরি নির্বাচিত, মনোনীত বা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সদস্যরা পদে বহাল থাকতে পারবেন।

তবে পরবর্তী শর্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব হারালে বা ছাত্র না থাকলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিনেট সদস্যপদ হারাবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, যখন তাদের (শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। সামনের সিনেট অধিবেশনের জন্য যখন তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে তখনও তাদের ছাত্রত্ব ছিল। এখন বিষয়টি নিয়ে আইনি পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।

তবে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া দুই প্রতিনিধির সদস্যপদ বাতিল হলে জাকসু নতুন করে কাউকে মনোনয়ন দিতে পারবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ’চলে গেলো মানে চলে গেলো।’  তার এই বক্তব্যে নতুন মনোনয়নের সুযোগ নেই বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সিন্ডিকেটে অর্ধেকের বেশি পদ ফাঁকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান পর্ষদ সিন্ডিকেটের মোট সদস্যসংখ্যা ২০। বর্তমানে এর ১১টি পদই শূন্য। খালি থাকা পদগুলোর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত দুইজন কলেজ অধ্যক্ষের পদ, শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ছয়জন প্রতিনিধি, সিনেট কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের একজন বিশিষ্ট নাগরিকের পদ। এ ছাড়া পদাধিকারবলে থাকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের পদটিও বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

অর্থ কমিটিতেও শূন্যতা

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক নীতি, বাজেট ও ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অর্থ কমিটির ১২টি পদের মধ্যে বর্তমানে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত একজন ডিন, সিনেট কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত অর্থবিষয়ক দুই বিশেষজ্ঞের মধ্যে একজনের পদ এখনও পূরণ হয়নি।

আইনের ধারা ও বাস্তবতার টানাপোড়েন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ২২(৩) ধারা অনুযায়ী, সিন্ডিকেট সদস্যদের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর। তবে উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সদস্যরা পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে একই ধারার শর্তে বলা হয়েছে, কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষক প্রতিনিধি, সিনেট প্রতিনিধি বা সরকারি মনোনীত ব্যক্তিরা নিজ নিজ পদে বা দায়িত্বে বহাল থাকা সাপেক্ষেই সদস্যপদ ধরে রাখতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক মনে করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, পদত্যাগ করেছেন কিংবা দায়িত্বে নেই, তাঁদের অনেকের সদস্যপদ কার্যত অবসান হয়েছে। কিন্তু নতুন নির্বাচন বা মনোনয়ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়ে গেছে।

গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্পিরিটই হলো গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব। দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ বডিগুলো অপূর্ণ রেখে পরিচালনা করা স্বায়ত্তশাসনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এই সংকট গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন ও মনোনয়নের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা প্রয়োজন।’

জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাফরুহি সাত্তার বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিধিবদ্ধ বডি গণতান্ত্রিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হওয়া প্রয়োজন। তবে জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই এসব বডি পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হবে।’

প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবেদা সুলতানা বলেন, ’বিভিন্ন বডি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা সময় লাগছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ’সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো পুনরায় চালু করা হবে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এখন আমরা দ্রুত এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ’আগের কিছু সদস্য বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তাই শূন্যপদগুলো পূরণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে। সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জাবির স্বায়ত্তশাসন ও অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখতে হলে সিনেট, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটির শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা জরুরি। অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিনিধিত্বের সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

আমানউল্লাহ খান/খাদিজা রুমি/

ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

রবিবার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটি গঠনের পরের দিনই একাংশে সাক্ষাৎকার নিয়েছে উক্ত তদন্ত কমিটি। 

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক যেসব ব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপাচার্য একটি কমিটি গঠন করেছেন।

তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফুল হক। এছাড়া সদস্যসচিব করা হয়েছে রেজিস্টার অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) এ. জেড. এম. আছাফদ্দৌলাকে।

তবে গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশনাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানাতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

এদিকে এ সাক্ষাৎকার ঘিরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নিয়োগ প্রাপ্তরা। তাদের অনেকেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। এই আশঙ্কাকে ব্যবহার করে একটি মহল চাকুরিবাণিজ্যও করতে পারে বলে আলোচনা চলছে ক্যাম্পাসে।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘নিয়োগ প্রাপ্তদের সাক্ষাৎ গ্রহন প্রক্রিয়া চলমান। সাক্ষাৎ গ্রহন শেষ হলে আগামীকাল কমিটির সদস্যের সঙ্গে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো।’

এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি যোগদানের পরে একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বেশ কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ঈদুল আজহার আগে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়েছে। যেটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এই অর্থের কোন সম্পৃক্ততা নাই। তারা এটিকে কোনভাবেই আমাদেরকে অনুমোদন দেয় নাই। সেখানে প্রায় ১ কোটি টাকার উপরে ইনভেস্ট করা হচ্ছে। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় ধরনের একটি সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবছরই বাজেট ঘাটতি থাকে। ফলে এই জায়গাতে কি প্রেক্ষিতে এই নিয়োগটি দেওয়া হয়েছে? এর যুক্তিকতা কি তা দেখার জন্য একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলেছি।’

নেয়ামত/রিফাত/