ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী আরমান-মুক্তির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাপ্পারাজ ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ‘মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি’- ড্রেসিংরুমে ইরানের বার্তা

ঢাবিতে ‘নির্বাচনি শুদ্ধতা’ নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
ঢাবিতে ‘নির্বাচনি শুদ্ধতা’ নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নির্বাচনি শুদ্ধতা নিয়ে “ইলেক্ট্ররাল ইন্টিগ্রিটি: ফ্রম ক্যাম্পেইনিং টু ভোট কাউন্টিং অ্যান্ড দ্য রেজাল্ট ডিক্লেয়ারেশন” শিরোনামে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

পলিটিক্যাল অ্যান্ড পলিসি সায়েন্স রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (পিপিএসআরএফ) সেমিনারটির আয়োজন করে। সেমিনারের কৌশলগত পার্টনার ছিল ইউনেস্কো, বাংলাদেশ পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল। সেমিনারটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ডেফোডিল ইউনিভার্সিটি এবং সান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন করেন পিপিএসআরএফ-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান। ঘোষণাপত্রে তিনি বলেন, নির্বাচনি সততাই হলো গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল ভিত্তি। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আমরা এটি স্বীকার করি যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল ভোটের দিনের বিষয় নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান তার বক্তব্যে ‘লিগ্যাল ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে নতুন একটি ধারণার কথা বলেন। তিনি বলেন, এবারের ভোটে এক ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়ার আশঙ্কা আছে , তবে তা ভোট কারচুরি বা সরাসরি কারচুপির ইঞ্জিনিয়ারিং না; বরং নির্বাচনের আগে ও দিনে ক্যাম্পেইনের সময় ব্যাপক ডিজিটালাইজেশনের ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি ইঞ্জিনিয়ারিং। সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আর ছোট ছোট কমিউনিটি গ্রুপ ব্যবহার করে বিশেষ করে আনডিসাইডেড সমর্থক গোষ্ঠীর কাছে বারবার পৌঁছে তাদের ডিসিশনকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট ভোটারের কাছে অ্যালগরিদমিক টুল বা অনুরূপ ডিজিটাল কৌশলের মাধ্যমে পৌঁছে কখনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে, আবার কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের ডিমোরালাইজ করার কাজ হচ্ছে বা হবে। এর প্রভাব আমরা ভোটের আগে অনুভব করি না, কেবল ফলাফল ঘোষণার পর তার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে এই নির্বাচনি ইঞ্জিনিয়ারিং সরাসরি বেআইনি কাজের ভেতর না পড়লেও, বৈধ ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে ভোটের মনস্তত্ত্ব ও ফলাফলের মার্জিন বদলে দেওয়ার এক জটিল প্রক্রিয়া হিসেবে সামনে আসে।

সেমিনারে নির্বাচনি শুদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরালদ গুলব্রান্ডসন, ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ, শ্রীলঙ্কার কেলানিয়া ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার ড. জর্জ কুকসহ প্রমুখ।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরালদ গুলব্রান্ডসন নরওয়ের নির্বাচনি সংস্কৃতি তুলে ধরে বলেন, নরওয়ের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী। তারা একসাথে পুরো ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখতে কাজ করে। নির্বাচনি প্রচারণা সাধারণত প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক হয়ে থাকে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, নাগরিক পর্যায়ের আলোচনা ও বিতর্ক ততই তীব্রতা লাভ করে। রাজনৈতিক দলের সদস্যরা প্রায়শই জনসমক্ষে পাশাপাশি প্রচারণায় অংশ নেন এবং করব্যবস্থা, সামাজিক কল্যাণ, কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন, ও রাষ্ট্রের সঙ্গে জাতীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, নরওয়েতে জাতীয় টেলিভিশনে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যাপক পরিসরে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল দর্শক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি যুব সংগঠন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে স্কুলভিত্তিক বিতর্ক, মাসব্যাপী জনসংযোগ ও মতামত সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব উদ্যোগের ফলাফল অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগেই প্রকাশ করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অল্প বয়স থেকেই জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করা যায়, যার ফলে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি বজায় থাকে।

ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ বলেন, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি এমন একটি প্রথম অভিজ্ঞতা, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা একটি বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় এই বিষয়টি ততটা গুরুত্ব পায়নি। ফলে এটিই প্রথম উন্মুক্ত নির্বাচন, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, তা মূলত মৌলিক ও প্রাথমিক প্রস্তুতির ওপর কেন্দ্রীভূত। কারণ প্রযুক্তিগত পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তনশীল। আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত যে পদ্ধতি বা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, আগামীকাল তা ভিন্ন রূপ নিতে পারে এবং নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে কোনো এককালীন উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং একটি ধারাবাহিক ও অভিযোজনযোগ্য প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার কেলানিয়া ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার ড. জর্জ কুক শ্রীলঙ্কার নির্বাচনি ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ৯৫ বছরের যাত্রার দিকে ফিরে তাকালে আমরা এমন বহু পরিস্থিতি দেখতে পাই, যেখানে গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশটি নানা পর্যায় অতিক্রম করেছে, এবং আমরা এমন একটি প্রক্রিয়ার সাক্ষী হয়েছি যার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়মিতভাবে ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।এ বিষয়ে আমরা সবসময়ই স্পষ্ট থেকেছি যে নেতারা কখনো কখনো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে নির্বাচিত হন, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন বা ‘ব্রেকথ্রু’ সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রূপান্তর আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই রূপান্তর ঘটে। নির্বাচন আহ্বানের মুহূর্ত থেকে, অর্থাৎ নির্বাচন ঘোষণার সময় থেকেই নানা মত ও কণ্ঠস্বর সামনে আসে, যা শোনা এবং বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। যারা প্রচারণায় অংশ নেয়, যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তারা নিজেদের বক্তব্য ও বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চায়। এই পর্যায়ে জনগণের দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভোটারদের অবশ্যই অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে তাদের পছন্দ নির্ধারণ করতে হয় কে নেতৃত্ব দেবে তা বোঝা, প্রার্থীদের নীতিমালা কী, তাদের অগ্রাধিকার ও উদ্দেশ্য কী, সেগুলো অনুধাবন করা জরুরি। একই সঙ্গে জনগণের দায়িত্ব হলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির জন্য তাদের জবাবদিহির আওতায় রাখা, যাতে নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো বাস্তব নীতিতে রূপ নেয় এবং সেই নীতিগুলো কেবল প্রণয়নেই সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

রাজু/এসএন

চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি কক্ষে চলন্ত অবস্থায় সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২১ জুন) দুপুরে হলের ডি-৩০০ নম্বর গণরুমে এ ঘটনা ঘটে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো শিক্ষার্থী আহত হননি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্ষটিতে থাকা বেশ কয়েকটি ফ্যান দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। কোনোটি ধীরগতিতে চলত, আবার কোনোটি ঠিকমতো বাতাস দিত না। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনার সময় কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছিলেন। হঠাৎ একটি ফ্যান ঘুরতে ঘুরতেই ছাদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিচে পড়ে যায়। ফ্যানটি একটি খাটের ওপর পড়ে ভেঙে যায়। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মোরশেদ এলাহী বলেন, ‘গণরুমে থাকা বেশিরভাগ ফ্যানই নষ্ট বা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত ফ্যান ব্যবহার করতে হয়। ফ্যানগুলোর অবস্থা দেখে আগেই আশঙ্কা ছিল। আজ সেটাই বাস্তবে ঘটেছে। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত কক্ষটির ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ফ্যানগুলো পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইবাদ হোসেন/রিফাত/

সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয়

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয়
পুরস্কার মঞ্চে সুষ্ময় বড়ুয়া।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী গ্রামের কৃতিশিক্ষার্থী সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। গণিত ও ইংরেজি অলিম্পিয়াডে অসামান্য সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গর্বিত ও সমুন্নত করেছেন তরুণ এই মেধাবী।
শিশুদের মানসিক গণিত দক্ষতা, একাগ্রতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিক’ বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে তাদের সেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
এরই অংশ হিসেবে, ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত ‘অ্যালোহা বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিযোগিতা’য় অংশ নেয় সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। দেশজুড়ে আসা প্রায় ৩,৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে সে মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব অর্জন করে। এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যালোহা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে নগদ অর্থ ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ের এই গৌরবময় বিজয়ের পর, সুস্ময় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়। বিশ্বের ১৭টি দেশের সেরা মেধাবীদের সঙ্গে লড়াই করে সে তৃতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বমঞ্চে তার এই সাফল্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা ম্যাথ কুমিল্লা শাখা’র জন্য বয়ে এনেছে বিপুল গৌরব। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও তাকে বিশেষ সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়।
সুস্ময় বর্তমানে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। গণিতে পারদর্শিতার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডগুলোতেও সে সমানভাবে সফল ও প্রশংসিত।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইংরেজি অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য সুস্ময় আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলেও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সশরীরে সেখানে যেতে পারেনি। তবে এ প্রতিকূলতা তার পথ আগলে দাঁড়াতে পারেনি। অদম্য সুস্ময় অনলাইন আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অর্জন করে মর্যাদাপূর্ণ ‘সিলভার মেডেল’ (রৌপ্য পদক), যা বাংলাদেশের জন্য আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে আনে।
পরবর্তীতে সে জাপান এবং যুক্তরাজ্য-উভয় দেশের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বের জন্য কোয়ালিফাই করে। তবে দুটি ইভেন্টের সময়সূচি খুব কাছাকাছি হওয়ায় তাকে যেকোনো একটি দেশ বেছে নিতে হয়। সুস্ময় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে সে অফিশিয়াল আমন্ত্রণপত্র হাতে পেয়েছে এবং বর্তমানে লন্ডনে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে।
সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী গ্রামের এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রকৌশলী রিটন বড়ুয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ’ (বেপজা)-এ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। তার মা শর্মিলা বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সুস্ময় বড়ুয়া সপ্তর এই আন্তর্জাতিক অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। তার পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশবাসী আশা করছেন যে তার আসন্ন লন্ডন সফর সফল হবে এবং সে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য আরও গৌরব ও স্বীকৃতি বয়ে আনবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্ময় ‘বিশ্বমঞ্চজয়ী সপ্ত’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি নিজের শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি সময় ও সুযোগ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন ক্লাস এবং দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।

নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা
ছবি: খবরের কাগজ

নারী নেতৃত্ব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আখতার দিপা। নারী নেতৃত্ব বিকাশের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘শক্তিকন্যা’ কর্মসূচির শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে তিনি সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ‘উই-পাওয়ার’ এর চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নেন।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি খাতের পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে সাতজন প্রতিনিধি অংশ নেন। তাদের মধ্যে রুয়েট থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন দিপা। সম্মেলনে তিনি নারীর নেতৃত্ব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেন।

রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন দিপা। বর্তমানে তিনি জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত ৪ ও ৫ জুন শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো শহরে অনুষ্ঠিত হয় উই-পাওয়ারের চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আয়োজিত এ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নারীর নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে দিপা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব বিকাশের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন পেশাগত যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হয়।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিরা শ্রীলঙ্কার পুত্তালাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি বায়ুশক্তিভিত্তিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে আধুনিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন তারা। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ জ্বালানিব্যবস্থার বাস্তব চিত্র দেখার এ সুযোগ অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুমাইয়া আখতার দিপা বলেন, ‘শক্তিকন্যা আমার জন্য শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশের এক অনন্য যাত্রা। শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে উই-পাওয়ারের আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া ছিল অত্যন্ত গর্বের।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। এ অভিজ্ঞতা আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২২ জুন বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। দিবসটিকে ঘিরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সড়কগুলোতে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চিত্রকৃৎ’ অডিটোরিয়ামের সামনে নান্দনিক আলপনা এঁকে অতিথিদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে রঙিন আলোর ঝলকানিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আলোকসজ্জায় নতুন রূপ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ জন শিক্ষককে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। গবেষণা, প্রকাশনা ও একাডেমিক উৎকর্ষতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

শিক্ষার্থীরা জানান, আলোকসজ্জায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর মনে হচ্ছে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের আবেগ ও গর্বের দিন। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে যে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, তা সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। রাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।’

আরেক শিক্ষার্থী সুহানা নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আলোকসজ্জার কারণে ক্যাম্পাসকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগছে। দিনের তুলনায় রাতের ক্যাম্পাস এখন একেবারেই ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে আলোকসজ্জা উপভোগ করছি এবং ছবি তুলছি।’

নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য ও রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষক ডিনস এ্যাওয়ার্ড ও তিন জন শিক্ষক ভাইস-চ্যান্সেলর পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও অতিথিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও বিকেল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় পথচলা ও অর্জনগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।

কাউসার আহমেদ/অন্তরা

রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান
ধ্রুব-জিসান। ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেসক্লাবের ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আশিকুল ইসলাম ধ্রুবকে সভাপতি ও একই বিভাগের একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক জুবায়ের জিসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন ) বেলা ৩টায় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-  সহ-সভাপতি ডেইলি ক্যাম্পাস ও মানবজমিনের প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন ও  দৈনিক ইনকিলাবের মিরাজ আফ্রিদি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনটিভি ও দৈনিক বনিক বার্তার আবু ছালেহ শোয়েব, কোষাধ্যক্ষ দৈনিক নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি ফজলে রাব্বি পরশ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি ফাহমিদুর রহমান ফাহিম , প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম মীর তুহিন, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক ও ক্রীড়া সম্পাদক এশিয়া পোস্টের সৈয়দ হুজ্জাত উল্লাহ মাহিন।

এতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মানবকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি বিপ্লব উদ্দিন, বাণিজ্য বার্তার প্রতিনিধি সামিয়া আক্তার ও জাগরণ নিউজের প্রতিনিধি  রাফাসান আলম।

ফলাফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রেসক্লাবের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার ও সদ্য বিদায়ী সভাপতি মনির হোসন মাহিন, মানবজমিনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ডালিম হোসেন শান্ত।

শাকিবুল হাসান/রিফাত/