ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার একটি নেতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। অধীনস্থ কর্মীদের সমস্যার কথা জানতে হবে এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। কোনো কর্মী বা কর্মকর্তা কেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন, সেটিও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।’
সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দফতর প্রধানদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘অনেক সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো নোটিশ ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিচালকও বিষয়টি জানেন না। এই না আসা এবং দায়িত্ব পালন না করার যে কালচার, সেই প্রতিযোগিতায় আমরা অনেক এগিয়ে আছি।’
ড. মতিনুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ না করার একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভালো কাজ করার, নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কিংবা ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রতিযোগিতা আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়, জবাবদিহিতারও ঊর্ধ্বে নয়। আমি নিজেও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নই। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মূলত শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য নিয়োজিত। তাই শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিন।
কর্মশালায় আধুনিক অফিস ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশ, ফাইল ও নথি ব্যবস্থাপনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল অফিস সিস্টেম বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
নিয়ামত/খাদিজা রুমি/