ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে মাছবাহী পিকআপ উল্টে নিহত ২

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৫৭ পিএম
বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে মাছবাহী পিকআপ উল্টে নিহত ২
ছবি : খবরের কাগজ

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের হাঁসারা এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক্সপ্রেসওয়েতে মাছবাহী পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজনে ধাক্কা লেগে উল্টে দুই মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মো. হাফেজ (৪০) ও শহিদুল (৪২)। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৫ মাছ ব্যবসায়ী। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মাছবাহী পিকআপটি মাওয়া থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে হাঁসারা হাইওয়ে ফাঁড়ির উল্টো দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজনের সাথে ধাক্কা লেগে পিকআপটি উল্টে যায়। এতে গুরুতর আহত হয় পিকআপে থাকা সাতজন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আকলিমা রৌশন জানান, গুরুতর আহত সাতজনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে দুইজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

হাঁসারা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ কাঞ্চন কুমার সিংহ জানান, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে পাঁচজন। তারা মূলত মাছ ব্যবসায়ী। মাওয়া থেকে মাছ নিয়ে তারা ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন।

মঈনউদ্দিন সুমন/অমিয়/

খাড়িয়া ভাষা তাদের মৃত্যুর সঙ্গে মারা যাবে ভাষাটি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২৫ এএম
তাদের মৃত্যুর সঙ্গে মারা যাবে ভাষাটি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া বস্তিতে খাড়িয়াভাসী দুই বোন ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা। খবরের কাগজ

প্রতিবছর নানা দিবস আসে, চলে যায়। ভাষা দিবসও চলে গেল। বাঙালি জাতির জীবনে শোকাবহ, গৌরবোজ্জ্বল, অহংকারে চিরভাস্বর এই ভাষা দিবস। তখন ভাষা নিয়ে চলে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক। এর এক বিশাল অংশজুড়ে থাকে আমাদের নিজস্ব মাতৃভাষার কথা।

মানুষের প্রয়োজনে মাতৃভাষার জন্ম হয়েছিল, আবার হারিয়েও যাচ্ছে অন্য ভাষার আধিপত্যে টিকতে না পেরে। নিজ নিজ ভাষার মাধুর্য অন্যরকম। যেখানে আছে স্বতন্ত্র সৌন্দর্য ও রসবোধ, রয়েছে নিজস্ব অহংকার। খাড়িয়া এমনি এক ভাষা। বাংলাদেশে বর্তমানে এ ভাষায় কথা বলতে পারেন কেবল দুই বৃদ্ধা বোন ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা। তাদের মৃত্যু হলে খাড়িয়া ভাষারও মৃত্যু ঘটবে। বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে একটি ভাষা ও একটি সংস্কৃতি।

ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনার মুখেই কেবল খাড়িয়া ভাষাটি টিকে আছে এদেশে। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া বস্তিতে। ভেরোনিকা কেরকেটা বলেন, ‘নিজের ভাষায় কথা বলার লোক পাই না বলে দুঃখ হয়। আমরা দুই বোন ছাড়া দেশে আর কেউ এ ভাষায় কথা বলতে পারে না।’

খ্রিস্টিনা কেরকেটা বলেন, ‘ইচ্ছে তো করে নিজেদের ভাষায় প্রাণ খুলে কথা বলি। কিন্তু উপায় নেই। আমাদের ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনির সঙ্গে কথা বলতে হয় বাংলা ভাষায়।’

খাড়িয়া ভাষা রক্ষার উদ্যোক্তা পিউস নানোয়ার বলেন, ‘২০১৭ সালে বীর তেলেঙ্গা খাড়িয়া ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার নামে একটি খাড়িয়া ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র খুলে তরুণ প্রজন্মকে ভাষা শেখানোর একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টায় কোনো সফলতা পাইনি। কারণ, বাংলাদেশে খাড়িয়াদের নিজস্ব বর্ণমালা নেই।’

পিউস নানোয়ারের দেওয়া তথ্য মতে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কয়েকটি চা-বাগানে খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর বসবাস। ২০২০ সালে এক জরিপে দেশে এ জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার ৭০০ জনের তালিকা করা হয়। অনুসন্ধানে ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা ছাড়া আর কোথাও খাড়িয়া ভাষায় কথা বলার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করা আহমদ আফরোজ বলেন, ‘এই দুই বোন ছাড়া দেশে আর কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে খাড়িয়া ভাষা বলতে পারেন না। তারা হারিয়ে গেলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এই মাতৃভাষা খাড়িয়া।’

চা-শ্রমিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে গবেষণা করা শিক্ষক দীপংকর শীল জানান, চা জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ অতি দরিদ্র হওয়ায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিচর্চা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি কোনো ভাষার জনসংখ্যা কম হলে সহজেই সেই ভাষা হারিয়ে যায়। তবে বিপন্ন ভাষার গান, আবৃত্তি রেকর্ড করে সংরক্ষণ করতে পারলে কিছুটা রক্ষা করা সম্ভব।

ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সদস্যরা সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে লোক গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, ‘ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীরা সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের সংগঠিত করে এদের জীবনচর্চা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যকে লালনের মাধ্যমে রক্ষা করা যেতে পারে। এদের রক্ষা করতে না পারলে আমাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যও এক দিন হারিয়ে যাবে।’

জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংকটে রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য, কৃষ্টি, প্রথা, ইতিহাস ও উৎসব বাঙালিদের মুগ্ধ করলেও চর্চা এবং সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা। এরমধ্যে দেশের ১৬৮টি চা-বাগানের মধ্যে ৯০টিরই অবস্থান মৌলভীবাজারে। এসব বাগানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তাদের অধিকাংশই পাহাড় টিলার পাদদেশে, বনজঙ্গলে কিংবা সমতলভূমিতে প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবনযাপন করছেন। চা-শিল্পের সঙ্গে জড়িত এসব নৃগোষ্ঠীর জাতীয় অর্থনীতিতে আছে যথেষ্ট অবদান। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমির অধিকারসহ মাতৃভাষা রক্ষার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছে এই জনগোষ্ঠী।

৫ বছরে এক দিনও হয়নি খেলাধুলা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২১ এএম
৫ বছরে এক দিনও হয়নি খেলাধুলা
ভূঞাপুরে শিয়ালকোল শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও প্রায় ৫ বছরের মধ্যে এক দিনও খেলাধুলা হয়নি। তবে এই স্টেডিয়ামে সপ্তাহে প্রতি শনিবার গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনাবেচার হাট বসানো হয়। ফলে সব ধরনের খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরাজীর্ণ এই মাঠটিতে খেলাধুলার উপযোগী করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে শেখ রাসেল স্টেডিয়াম দেখা যায়, খেলার মাঠজুড়ে খানাখন্দে ভরা, মাঠের চারদিকে বসানো গ্যালারি বেঞ্চগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় ভরপুর, বৃষ্টির পানিতে মাঠের মাটি ও প্যালাসাইডিং ধসে গেছে, চড়ানো হয় গরু-ছাগল, বর্জ্যে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট, ভবনের আস্তরণ খসে পড়ছে। পাবলিক টয়লেট ভবন, গোলপোস্ট বেহাল। এ ছাড়া স্টেডিয়াম নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় খেলোয়াড় তানজীনুর রহমান ইসলামসহ অনেকে বলেন, ‘নির্মাণের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্টেডিয়ামটি পড়ে রয়েছে। সপ্তাহে প্রতি শনিবার বসে গরু-ছাগলের হাট। মাঠটিতে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। এর ফলে নির্মাণের পর থেকে এই মাঠে এক দিনও কোনো খেলাধুলা হয়নি। অথচ কর্তৃপক্ষ অন্য বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করে খেলাধুলার আয়োজন করেন। তাহলে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্টেডিয়াম তৈরি করার দরকার কী ছিল?’

এদিকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই স্টেডিয়ামে ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিস আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভূঞাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে জানতাম না। এই মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ নেই। খেলার উপযোগী করে স্টেডিয়াম মাঠে সকল খেলাধুলার আয়োজন করার দাবি জানাচ্ছি।’ 

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রতন বলেন, ‘শিয়ালকোল হাটের পাশে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পর থেকে স্টেডিয়াম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই স্টেডিয়ামে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। মাঠ ও চারপাশের পরিবেশ একেবারেই নোংরা হয়ে আছে। স্টেডিয়ামটি গরু-ছাগলের হাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েও কোনো সুফল মেলেনি।’

শিয়ালকোল হাট কমিটির সভাপতি মো. রকিবুল ইসলাম ভূঞাসহ অনেকেই জানান, ভূঞাপুরে শিয়ালকোল শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটি সরকারি নিয়ম অনুসারে তদারকি অভাবে ঠিকাদার মানসম্পন্ন কাজ না করে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘স্টেডিয়ামের বিষয়ে জেনে বিস্তারিত জানানো হবে। না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

এর আগে ২০১৭ সালে টেন্ডার হওয়ার পর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আকতার এন্টারপ্রাইজ এবং ফোর সাইট কোম্পানি নামে দুটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি। ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শেখ রাসেল এই মিনি স্টেডিয়ামটি ২০১৯ সালে নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। সেই সময় কাজ শেষ হতে না হতেই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগে প্যাভিলিয়ন ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

জানা যায়, সরকার ১৩১টি উপজেলায় খেলাধুলার মান উন্নয়নের জন্য মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করার পদক্ষেপ নেয়। এরমধ্যে টাঙ্গাইলে ৭টি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ভূঞাপুরের শিয়ালকোলে ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

দেখা গেছে, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবন, পাবলিক টয়লেট, গ্যালারি এবং আধুনিক ফুটবল গোলপোস্ট নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভূঞাপুরের শিয়ালকোলের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে শুধু একটি একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবন নির্মাণ ও কয়েকটি ইট-সিমেন্টের তৈরি বেঞ্চ বসানো হয়েছে।

স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টেডিয়ামটি নির্মাণে আয়তন কমিয়ে ফেলেছে। ৩৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০০ ফুট প্রস্থ করার কথা থাকলেও মাত্র ২৭০ ফুট বাই ২০০ ফুট মাঠ তৈরি করা হয়েছে। মাঠ ভরাট করে আয়তন বাড়ানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং আগে নির্মিত হেলিপ্যাডের প্রায় ৬০ হাজার ইট স্থানীয় ইটভাটাসহ অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে।

মণিপুরি, পাত্র, চা শ্রমিক শিক্ষার্থীরা পেল শিক্ষা উপকরণ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০০ এএম
মণিপুরি, পাত্র, চা শ্রমিক শিক্ষার্থীরা পেল শিক্ষা উপকরণ

ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে মণিপুরি, পাত্র ও চা-শ্রমিক সম্প্রদায় কেবল বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় কাজ করছে সিলেট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘একডো’। ভাষা শেখার সঙ্গে তারা শিক্ষা উপকরণ দিয়ে ১২৫ শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছে তারা। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলা হলরুমে এই শিক্ষা উপকরণ বিতরণের আয়োজন করা হয়।  
 
একডোর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহের সভাপতিত্বে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী সংস্থা হেয় ভারডেনের মিজ স্টিনা, এলিজাবেথ স্বেলা এবং সিলেট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিত কুমার পাল। 

অনাড়ম্বর ও আন্তরিকতায় পূর্ণ এই অনুষ্ঠানে একডোর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ বলেন, আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করি। আমাদের বিভিন্ন উদ্যোগে সব সময় সবার সহযোগিতা পেয়েছি। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ অনুষ্ঠানে সংস্থার সহযোগী হিসেবে উপস্থিত বিদেশি নাগরিকদের তিনি ক্ষুদ্র নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। 

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা নিয়ে এ ধরনের প্রকল্প অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে ইউএনও বলেন, ‘এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য একডো এবং সহযোগী সংস্থা হেয় ভারডেনকে ধন্যবাদ জানাই। এ প্রকল্পের উপকারভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।’ তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা মাফিক নিজ নিজ সন্তানদের লেখাপড়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠান শেষে একডো নির্বাহী লক্ষ্মীকান্ত সিংহ খবরের কাগজকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানের একাত্ম হওয়া অভিভাবকদের পরামর্শক্রমে একডো চা-বাগান এলাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিলেট শহরতলীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে এই সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষায় একডো পরিচালিত প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি করারও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
 
উজ্জ্বল মেহেদী/জোবাইদা/

রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৯ এএম
রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার
ছবি: খবরের কাগজ

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পেলেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান। মামলার রহস্য উদঘাটন, গণমুখী পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা, শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য তিনি পিপিএম-সেবা পদকে ভূষিত হন।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে জাতীয় পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে এ পদক পরিয়ে দেন।

পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২৭তম বিসিএসের একজন চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা। বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রিফাত/ইসরাত চৈতি/ 

টঙ্গীতে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৭ এএম
টঙ্গীতে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
ছবি : খবরের কাগজ

গাজীপুরের টঙ্গীতে মরিয়ম ম্যানশন নামের একটি বহুতল ভবনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে টঙ্গী ও উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৫টায় আগুন লাগে।  ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট সকাল ৭টায়  আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় ছয়জন সামান্য দ্বগ্ধ হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, টঙ্গী বাজার এলাকায় মরিয়ম ম্যানশন নামের একটি সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি প্রাইভেট ব্যাংক তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। ভবনের বাকি অংশ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গুদাম হিসেবে মালামাল মজুত করেন। বুধবার ভোরে ওই ভবনের চারতলায় আগুন দেখতে পেয়ে নেভানোর চেষ্টা করেন তারা। পরে চারতলায় লাগা আগুন পাঁচতলায় ও ছয়তলায় ছড়িয়ে পড়তে দেখে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আফরিন ট্রেডার্সের মালিক মো. সোহেল ও মনির হোসেনসহ ১০ ব্যবসায়ী গুদামজাত করা কয়েক কোটি টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন ৩-এর উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে সাড়ে পাঁচটার দিকে ভবনে আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ৫টা ৪৭ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সবশেষ সকাল ৭টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ তদন্তসাপেক্ষে জানা যাবে।

ওই ভবনে থাকা ব্যবসায়ী লিখন হোসেন জানান, তিনিসহ ওই ভবনে থাকা ৬ জন আগুনে সামান্য দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন লিটন, রাকিব, সাগর, রোমান ও মনোয়ারুল। তাদের কারও হাত, মাথার চুল ও পা আগুনে সামান্য ঝলসে গেছে। তারা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পলাশ প্রধান/জোবাইদা/