ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

১৫০ টাকার টোকেনে চলছে অটোরিকশা

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৭ এএম
১৫০ টাকার টোকেনে চলছে অটোরিকশা
শেরপুর শহরের খোয়ারপাড় শাপলা চত্বরে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ছবি: খবরের কাগজ

শেরপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। এরমধ্যে নিবন্ধন রয়েছে মাত্র ৭৪৩টির! আবার বেশির ভাগ চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। যাদের আছে, সেগুলোর মেয়াদও শেষ হয়েছে অনেক আগে। দিনের পর দিন এভাবে চললেও তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না। প্রতিমাসে মালিক সমিতির কাছ থেকে নেওয়া ১৫০ টাকার একটি টোকেনই তাদের সকল মুশকিল আসান করে দেয়।

চালকরা বলছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গেলে বিআরটিএ অফিসের লোকজন নানাভাবে হয়রানি করেন। এখন যেহেতু টোকেন নিয়েই সিএনজি চালানো যায় তাই তারা লাইসেন্স করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া অটোরিকশার নিবন্ধন থাকলেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক মাসিক (প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া) করতে হয়। তাই তারা রেজিস্ট্রেশন করতে চান না। মালিক সমিতির সঙ্গে টোকেন বাবদ চাঁদা তোলার বিষয়ে কথা হলে সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। বিআরটিএ বলছে, পুলিশ কঠোর হলে এসব গাড়ি ও চালকদের নিয়ন্ত্রণ করা যেত। আর পুলিশ বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি সোবহান হাজীর টোকেন (মাসিক চাঁদা) দিয়ে পুরো জেলায় নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানো যায়। মাত্র ১৫০ টাকা খরচ করলে আর কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলে আসছে। তবে হয়রানি না থাকলে হয়তো অনেকেই ড্রাইভিং লাইসেন্স করতেন।

হযরত আলী নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালক বলেন, ‘লাইসেন্স দিয়ে কী করব। আমাদের ওসব লাগে না। মালিক সমিতির কাগজ থাকলে চোখ বন্ধ করে চলা যায়। পুলিশও আটকায় না। আরামে গাড়ি চালাই।’

রমজান আলী নামে আরেক চালক বলেন, ‘শেরপুর বিআরটিএ অফিস থেকে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ডাইভিং লাইসেন্স ঠিকমতো পাওয়া যায় না। তাই কোনো কাগজপত্র (নিবন্ধন, লাইসেন্স) ছাড়াই মান্থলি (মাসিক চাঁদা) দিয়ে গাড়ি চালাই।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক চালক বলেন, ‘সরকার যদি কম খরচে কোনো হয়রানি ছাড়া লাইসেন্স করার সুযোগ দেয় তাহলে আমি করব।’

কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানান চালক ইস্রাফিল হোসেন। বলেন, ‘১৫০ টাকা করে মান্থলি (মাসিক চাঁদা) দেই, এরপরও মাঝে মধ্যে পুলিশ ঝামেলা করে। তাই আমাদের লাইসেন্স করা দরকার। কিন্তু লাইসেন্সতো করতে পারি না। তাই বাধ্য হয়েই মান্থলি দিয়েই গাড়ি চালাই।’

যাদের নিবন্ধন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে তাদের পথে পথে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। যারা চাঁদার টাকা জমা দিয়ে একটি বিশেষ স্টিকার গাড়িতে লাগিয়ে রাখেন না, তাদের জেলার একাধিক স্পটে হয়রানির শিকার হতে হয়। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে আলাল মিয়া নামে এক চালক বলেন, ‘যে উপজেলাতেই যাই, মান্থলি করা লাগে। মানে প্রতিটি থানা এলাকায় ঢুকতে গেলে মাসিক টাকা দেওয়া লাগে। এভাবে চলা তো মুশকিল। আর বিআরটিএ অফিসে গেলে নানা ঝামেলা। এটা দাও, এটা দাও করে।’

টোকেনের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয় কি না, অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসানের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘গরিব শ্রমিকদের মেয়ের বিয়ে দিতে, কোনো চালক দুর্ঘটনায় আহত হলে তাদের জন্য টাকা খরচ করতে হয়। ওগুলোর জন্য টাকা নেওয়া হয়। আমরা কোনো চাঁদা তুলি না। এটা আইনে নেই। সভাপতি এবং আমি, দুজনের কেউই চাঁদা তোলা পছন্দ করি না।’

তবে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন শ্রমিক সংগঠনটির সভাপতি সাবাহান আলী। তিনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে আছে মাসে কত টাকা উঠানো যায়। এই টাকাটা কোন কোন খাতে খরচ হয় তার সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। কোনো চালক মারা গেলে তার নামাজে জানাজায় যে খরচটা হয় সেটা আমাদের তোলা টাকা থেকেই খরচ হয়। গঠনতন্ত্রে আছে মাসে ২০০ টাকা নেওয়া যাবে। এরমধ্যে যারা টাকাটা উঠায় তারাইতো ৫০ টাকা নিয়ে নিচ্ছে।’

জেলা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল কিবরিয়া বলেন, ‘বেশির ভাগ অটোরিকশার নিবন্ধন নেই। যাদের আছে, সবগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। আমরা এখন আগের তুলনায় বেশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। পুলিশের নজরদারি বাড়ানো গেলে বিআরটিএতে রেজিস্ট্রেশন বাড়বে।’

পুলিশ সুপার মোনালিসা বেগম বলেন, ‘নিবন্ধন ছাড়া গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালককে ধরতে আমরা প্রায়ই অভিযান চালাচ্ছি। তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। সড়কের কোথাও টোকেন নেওয়ার সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চরে আটকেপড়া ৮০ দর্শনার্থীকে উদ্ধার করল নৌ-পুলিশ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০৬ পিএম
চরে আটকেপড়া ৮০ দর্শনার্থীকে উদ্ধার করল নৌ-পুলিশ
ছবি : খবরের কাগজ

ঈদে ঘুরতে এসে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীতে জেগে উঠা দুর্গম আব্দুল্লাহ চরে আটকেপড়া ৮০ দর্শনার্থীকে উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯ মাধ্যমে ফোন পেয়ে আটকেপড়া নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৮০ দর্শনার্থীকে তিনটি ট্রলারে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদৌস আহমেদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘শনিবার বিকেলে বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা মেঘনা নদীর দুর্গম আব্দুল্লাহ চরে ঘুরতে যান। রামগতি উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে এ দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটারের বেশি। নদীর স্রোতের কারণে ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকেই আটকা পড়েন। সে সময় তাদের মধ্য থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। ৯৯৯ থেকে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়। আমরা জরুরি ভিত্তিতে স্পিডবোট, ট্রলার এবং বড় নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে আটকেপড়া ৮০ জনকে উদ্ধার করি। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।’

রফিকুল/সালমান/

 

বৈশাখের আলপনায় রঙিন হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়ক

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪০ পিএম
বৈশাখের আলপনায় রঙিন হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়ক
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ১৪ কিলোমিটার সড়কে আঁকা হয়েছে আলপনা। ছবি : খবরের কাগজ

আলপনার রঙে রাঙানো হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের ১৪ কিলোমিটার সড়ক। গিনেজ বুকে নাম লেখাতে মিঠামইনে জিরো পয়েন্ট থেকে অষ্টগ্রাম জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কে আঁকা হয়েছে আলপনা। 

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ‘আলপনায় বৈশাখ-১৪৩১’ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

হাওরাঞ্চলে সবচেয়ে দীর্ঘ আলপনা দেখতে বৈশাখের প্রথম দিন ভিড় জমিয়েছেন অনেক মানুষ। বিকেলে অলওয়েদার সড়কে পর্যটকদের পদচারণায় আলপনা দেখাই যায়নি। হাজার হাজার মানুষ এই আলপনা দেখতে ভিড় জমান মিঠামইন জিরো পয়েন্ট ও অষ্টগ্রামের কাস্তল জিরো পয়েন্টে। দুপুরের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে অনেকেই আসেন একনজর আলপনা দেখার জন্য।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ, খুলনা, ঢাকা এই তিন ঐতিহ্যবাহী জেলায় শিল্পীর তুলিতে বৈশাখের মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একইসঙ্গে বিশ্বরেকর্ড গড়ার অনবদ্য প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয়েছে বৈশাখের আলপনা উৎসব। বাঙালির আবহমান ও সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যেই হাওরাঞ্চলে ‘আলপনায় বৈশাখ-১৪৩১’ উৎসব। এই সড়কে আলপনা আঁকার পর বিশ্বরেকর্ড হিসেবে গিনেস বুকে নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদি, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অফিসার তাইমুর রহমান, বার্জার পেইন্টস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুপালী চৌধুরী, এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইরেশ জাকের।

এশিয়াটিক এক্সপেরিয়েনশিয়াল মার্কেটিং লিমিটেড, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড এ উৎসবের আয়োজন করে। 

এর আগে শুক্রবার (১২ এপ্রিল) মিঠামইনে আলপনা অঙ্কন উৎসবের প্রথম দিনের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন এশিয়াটিক-সিক্সটির চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান নূর, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ প্রমুখ।

তাসলিমা/সালমান/

সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৩ শ্রমিকের

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১০ পিএম
সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৩ শ্রমিকের
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের গুটমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন আলম (২৬) ও চুনু (২৫)। তাদের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায়। নিহত অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহাগ রানা জানান, উপজেলার গুটমা গ্রামের বাসিন্দা আহাদ আলীর বাড়িতে নির্মাণাধীন একটি সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নামেন তিন শ্রমিক। কাজ করা অবস্থায় ট্যাংকের ভেতরেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতরে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেপটিক ট্যাংক ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সালমান/

নাবিক সাব্বিরের পরিবারে বইছে ‘ঈদের’ আনন্দ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৩১ পিএম
নাবিক সাব্বিরের পরিবারে বইছে ‘ঈদের’ আনন্দ
নাবিক সাব্বির হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

মুক্তিপণ দিয়ে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছ থেকে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও ২৩ নাবিককে মুক্ত করা হয়েছে। নাবিকদের মুক্তির খবরে তাদের পরিবারে বইছে আনন্দ। দুদিন আগে ঈদ উদযাপিত হলেও তাদের কাছে মনে হচ্ছে, আজই যেন তাদের ঈদ। 

মুক্তি পাওয়া ২৩ নাবিকের একজন সাব্বির হোসেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামে। 

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। 

ছেলের মুক্তির খবরে তার মা সালেহা বেগম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ছেলে বন্দি হওয়ার পর থেকে পরিবারে কোনো আনন্দ ছিল না। দুই দিন আগে ঈদ গেল, পরিবারের কেউ সেই আনন্দে ছিল না। কিন্তু আজ সাব্বিরের খবর পাওয়ায় খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আজই আমাদের ঈদের দিন। পরিবারের সবার মুখে আজ হাসি ফুটেছে।’

সাব্বিরের বোন মিতু আক্তার বলেন, ‘এক মাস পর যখন ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললাম মনে হলো দুনিয়ার সব সুখ আমাদের পরিবারের মাঝে এসেছে। এই একটা মাস পর মনে হলো ভাইকে আবার ফিরে পেলাম। আমরা এখন অনেক আনন্দে আছি।’ 

তার বাবা হারুনুর রশীদ বলেন, ‘কখনো চিন্তাই করিনি ছেলের সঙ্গে আবার দেখা হবে, কথা হবে। কিন্তু আজ কথা বলে খুবই ভালো লাগছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’ 

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আমি কথা বলে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। সাব্বির তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। পরিবারের সবাই ও আমরাও অনেক আনন্দিত।’ 

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। ওই জাহাজের ২৩ নাবিককে জিম্মি করা হয়। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। 

জুয়েল/সালমান/

শ্রীমঙ্গলে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২৮ পিএম
শ্রীমঙ্গলে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ
শ্রীমঙ্গলে শেখ রাসেল শিশু উদ্যানের মুক্তমঞ্চে অনুশীলন চক্রের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন। ছবি : খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সূর্য ওঠার পরপরই শহরের শেখ রাসেল শিশু উদ্যানের মুক্তমঞ্চে ‘অনুশীলন চক্র’ আয়োজিত বর্ষবরণ উৎসবে আবাহনী সংগীতের মাধ্যমে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শ্রীমঙ্গল শাখা।

পরে অনুশীলন চক্রের আয়োজনে বণার্ঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে।

এদিকে সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ।

শোভাযাত্রায় শহরের বিভিন্ন স্কুল, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা বিভিন্ন রঙের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, মুখোশসহ যুক্ত হন। 

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানেও বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হয়। সেখানে গান পরিবেশন করে উদীচী, কচিকাঁচার মেলাসহ স্থানীয় সংগঠনগুলো। 

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।

নববর্ষ উপলক্ষে শহরের শেখ রাসেল শিশু উদ্যানে পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে অনুশীলন চক্র।

শুভ/পপি/