ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ডাকাতিয়ার পাড়ে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪৭ এএম
ডাকাতিয়ার পাড়ে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা
ছবি : খবরের কাগজ

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ষবরণ ও প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় হাসান আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং চাঁদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা ডাকাতিয়ার পাড়ে বৈশাখী মেলায় এসে শেষ হয়। পরে সেখানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।

বৈশাখী মেলাকে ঘিরে ডাকাতিয়ার পাড়ে বসে হরেক রকম পণ্যের দোকান। এসব দোকানে মাটির তৈরি খেলনাসহ লোকজ সংস্কৃতির হরেক রকম পণ্য দেখা গেছে। 

সকাল থেকেই বৈশাখী মেলায় যেন মানুষের ঢল নামে। গ্রামাঞ্চল থেকে ট্রেনে, বাসে করেও আনন্দপ্রিয় মানুষদের ছুটে আসতে দেখা যায় সর্বজনীন এ উৎসবে। 

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত বলেন, ‘এই প্রথম চাঁদপুরে প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মাসব্যাপী বাঙালির সাংস্কৃতিক উৎসব বৈশাখী মেলা আয়োজন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য বাঙালিকে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করা। শুধু পহেলা বৈশাখে এটি সীমাবদ্ধ না থাকে, বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য যাতে সারা বছর মানুষ ধারণ করে, তার চেষ্টা করতে হবে। আমরা যত জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হব, তত আমরা বিভিন্ন অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়তে পারব।’

জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘আমাদের আয়োজনটি বাঙালির সংস্কৃতির আয়োজন। নতুন প্রজন্মদের আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই কিন্তু আমাদের এই আয়োজন। সংস্কৃতির অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন দেশীয় খেলাধুলার আয়োজন করে পুরস্কৃত করেছি। নতুন প্রজন্ম এখন বেশিই আধুনিক। তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। কারণ র্যালিতে নতুন প্রজন্মদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।’

শরীফুল ইসলাম/জোবাইদা/অমিয়/

শিবচরে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিতে চীফ হুইপের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:৩৮ এএম
শিবচরে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিতে চীফ হুইপের হুঁশিয়ারি
ছবি : খবরের কাগজ

মাদারীপুর জেলার শিবচরের প্রান্তিক পর্যায়ের জন সাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিকের গুরুত্ব তুলে ধরে ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি। 

শুক্রবার (২৪ মে)  নূর-ই-আলম চৌধুরী অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। 

এ সময় তিনি উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর খোঁজ-খবর নেন। ক্লিনিকগুলোর সিএইসিপিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে নানা সমস্যার কথা জানতে চান। প্রশ্ন-উত্তর পর্বে ক্লিনিকগুলো পরিচালনায় নানা সমস্যার কথা বেড়িয়ে আসে। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনায় নানা অবহেলার চিত্র ফুটে উঠে। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের অফিস টাইম না মানলে চাকরি হারানোর হুঁশিয়ারী এবং শিবচরে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের দুই মাসের সময় বেঁধে দেন।

চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, 'অফিসের নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ বাসায় যাবেন না। অফিস টাইম তিনটায় হলে ঠিক তিনটাতেই যাবেন। পৌঁনে তিনটা নয়! অনিয়ম করলে অ্যাকশন নেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।'

চীফ হুইপ আরও বলেন, 'আমরা আপনাদের দুই মাস সময় দেব। হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঠিক করবেন। আমি এমনও দেখেছি, রোগীরা রাস্তায় লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এটা হবে না। তাদের বসার ব্যবস্থা, বাথরুম ফ্যাসিলিটি আপনাকে করতে হবে। সেবার মান বাড়াতে হবে। নিয়ম না মানলে সরকারি- বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এ মাসের মধ্যে ৪২টা কমিউনিটি ক্লিনিকেই আসবাবপত্রসহ যে সমস্যা আছে তার জন্য অনুদান দেবো।'

মতবিনিময় সভায় চীফ হুইপ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিরসনে তাৎক্ষণিক ভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক এর সিএইচসিপি, সভাপতি, জমিদাতা, চিকিৎসক, উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিদের মতামত শোনেন। এবং স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে দুই মাসের সময় বেঁধে দেন। আসবাবপত্রসহ নানান সমস্যা সমাধানে নগদ অর্থ বরাদ্দ দেন ও কমিউনিটি ক্লিনিক এর সিএইচসিপিদের জন্য প্রশিক্ষণের নির্দেশ প্রদান করেন সিভিল সার্জনকে।  

মতবিনিময় সভায় ওয়ার্ড পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যায়ের সরকারী স্বাস্থ্য কর্মী, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, বেসরকারী ক্লিনিক মালিকসহ স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্ট সকলে অংশ গ্রহণ করেন। 

মত বিনিময় সভার শুরুতেই জনপ্রতিনিধিদের কাছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পরিদর্শনের খোঁজখবর নেন। এরপর আইএইচটির চিকিৎসক, কমিউনিটি ক্লিনিক এর সিএইচসিপি, চিকিৎসক, প্রাইভেট ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করে সেবার মান যাচাই করেন। এ সময় স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশায় চীফ হুইপ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

এর আগে চীফ হুইপ ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদের আয়োজনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দরিদ্র বেকার নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন। 

এ সময় মাদারীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুনির আহমেদ খান, শিবচর ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি রাজিয়া চৌধুরী, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আ. লতিফ মোল্লা, নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মো. সেলিম, পৌরসভার মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাতিমা মেহজাবিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

রফিকুল ইসলাম/জোবাইদা/অমিয়/ 

পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:০৪ এএম
পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী সালমাকে (৩০) শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী রুপচাঁনসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (২৪ মে) ভোরে সোনারগাঁ উপজেলার পৌরসভা এলাকার ভট্টপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সালমা পৌরসভার ভট্টপুর এলাকার মো. রুপচাঁনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত স্বামী রুপচাঁন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি কোম্পানিতে চাকরি করা নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। গোপনে চলতে থাকে তাদের অবৈধ মেলামেশা। পরকীয়ার সম্পর্কটি প্রকাশ্যে এলে সালমা প্রায়ই প্রতিবাদ করতেন। এর ফলে তাদের মধ্যে দাম্পত্যকলহ হতো। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার সালিশও হয়েছে।

নিহতের ছেলে আব্দুল্লাহ আরবান কাইফি বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। এ নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো। কিছুদিন আগেও মাকে অনেক মারধর করেছে। পরে আমি আমার নানির বাড়ির আত্মীয়দের জানিয়েছি। তারা বলেছিল, ঈদের পর বসবে। কিন্তু আজ আমার মাকে মেরেই ফেলল।’

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহসিন মিয়া জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্বামীসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করা যাবে।

২০ বছর পর বাংলাদেশে পা রাখলেন বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৫৫ এএম
২০ বছর পর বাংলাদেশে পা রাখলেন বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির
ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘ বিশ বছর পর নিজের জন্মভূমি কিশোরগঞ্জে এসেছেন সর্বাধুনিক চালকবিহীন হেলিকপ্টার আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির।

শুক্রবার (২৪ মে) দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারে চড়ে পাকুন্দিয়া উপজেলার বড় আজলদি গ্রামে আসেন তিনি।

দীর্ঘ বিশ বছর পর পাকুন্দিয়ার বড় আজলদি গ্রামে এসে এলাকার মানুষের ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। তাকে এক নজর দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ভিড় জমায় বড় আজলদি গ্রামে।

এর আগে বুধবার (২২ মে) রাতে ঢাকায় আসেন বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন কবির। তার সফরসঙ্গী হয়েছেন তার স্ত্রী ফরিদা কবির। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালের ৫ মার্চ কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত তিনি কিশোরগঞ্জের সার্কিট হাউজে থাকবেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষকে দেখতে এসেছি। বিশেষ করে আমার মা অসুস্থ সেই কারণে এক সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশে এসেছি আমি খুবই আনন্দিত ও আবেগ আপ্লুত। সবকিছু ঠিক থাকলে ৩০ মে ঢাকায় যাব এবং সেখান থেকে আমার কর্মস্থলে ফিরবো।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. হুমায়ুন কবির কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের নাগের গ্রামের কৃতি সন্তান। তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে তার নানাবাড়ি বড় আজলদিতে। বাবা মায়ের বিচ্ছেদের পর তিনি মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে থাকতেন।

ড. হুমায়ুন কবির ১৯৫৬ সালে ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৭০ সালে তিনি ময়মনসিংহের বিভিন্ন বাড়িতে লজিং থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সুনাম ও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

গণিতশাস্ত্র ও গবেষণার প্রতি তার আকর্ষণ ছিল অনেক বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শেষ না করেই তিনি পাড়ি জমান সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএস করার জন্য ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটনে। সেখান থেকে তিনি এ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল মহাশুন্যযান ও রকেট বিজ্ঞান।

পিএইচডি শেষে অস্টিন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে গত ২৬ বছর ধরে কাজ করছেন। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন বোয়িং বিজ্ঞানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বোয়িং কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।

সর্বপ্রথম ১৯৮৬ সালে রিমোট কন্ট্রোল এইচ-৫ হায়েন্স হেলিকপ্টার আবিষ্কার করেন তিনি।

এ ছাড়াও সম্প্রতি তিনি আমেরিকার স্পেশাল অপারেশন ফোর্সদের জন্য আরও একটি বিশেষ ও আধুনিক হেলিকপ্টার আবিষ্কার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও মেরিন কর্পসের জন্য তৈরী করা হয় এই বিশেষ হেলিকপ্টার।

তাসলিমা আক্তার/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৫৪ এএম
বাঁশখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু
মোক্তার আহমদ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সবজি খেতে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মোক্তার আহমদ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন।

শুক্রবার (২৪ মে) সকালে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মনকিরচরের সেইন্যাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

মোক্তার আহমদ একই এলাকার মৃত গুরা মিয়ার ছেলে।

শীলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আশিক হোছাইন চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, সকালে মোটরচালিত যন্ত্রের সাহায্যে বাড়ির পাশেই সবজি খেতে পানি দিতে যান মোক্তার। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান তিনি।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ খবরের কাগজকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

ইফতেখারুল/পপি/অমিয়/

চাহিদা থাকলেও বন্ধ ঈশ্বরদী বিমানবন্দর

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৫০ এএম
চাহিদা থাকলেও বন্ধ ঈশ্বরদী বিমানবন্দর
ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের প্রশাসনিক ভবন। ছবি সংগৃহীত

ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বন্ধ পড়ে আছে পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। অথচ দীর্ঘদিন থেকে এটি চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন এখানকার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা। 

জানা যায়, ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি ১৭ বছর ধরে বন্ধ ছিল। পরে গত ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর আবার বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ওই সময় তৎকালীন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান বলেছিলেন, ‘ঈশ্বরদী থেকে আর কখনো ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হবে না।’ কিন্তু সেই ঘোষণার সাড়ে ছয় মাস পর ২০১৪ সালের ২২ মে হঠাৎ বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর চালু হয়নি। 

স্থানীয়রা মনে করেন, নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইপিজেডের কারণে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর ঘিরে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক, দেশি-বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা ও কর্মকর্তারা বিমানবন্দরটি চালু হলে সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ডাল গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী সেনানিবাস, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয়সহ অর্ধশতাধিক জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সহজ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। শুধু ঈশ্বরদী নয়, পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের ব্যবসায়ীরাও বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

এসব কারণে ১০ বছর ধরে বন্ধ থাকা বিমানবন্দরটি দ্রুত চালু করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি চালু হলে স্থানীয়রা ও এয়ারলাইনস ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হবেন। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। এ ছাড়া জেলায় বেশ কিছু আধুনিক আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে রিসোর্টকেন্দ্রিক যাত্রীও আসা-যাওয়া শুরু হতে পারে।

জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ঢাকার দূরত্ব ১৭৫ কিলোমিটার। ঢাকা-আরিচা হাইওয়ে ধরে এ পথ পাড়ি দিতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। অপরদিকে পশ্চিম রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয় ঈশ্বরদীর পাকশীতে। এখান থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করে। ট্রেনে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। বাস ও ট্রেনে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ঢাকায় যাওয়া-আসা করেন।

দীর্ঘদিন থেকে বিমানকেন্দ্রিক যাত্রীদের টিকিট কেনা-বেচা করে ঈশ্বরদীর সরকার এয়ার এক্সপ্রেস অ্যান্ড ট্রাভেলস। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শাহান শাহ আলমগীর বাবু বলেন, ‘রূপপুর প্রকল্প ও ইপিজেডে বিদেশিদের সংখ্যা অনেক। এদের অধিকাংশই বিমানে চলাচলে আগ্রহী। এ ছাড়া স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী মিলিয়ে পর্যাপ্ত যাত্রী রয়েছে। আগে ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী হয়ে রাজশাহীতে দুটি বিমান চলাচল করত। এখন রাজশাহীতে পাঁচটি বিমান চলাচল করে। বিমান চালু করা হলে রাজশাহীর মতো ঈশ্বরদীতে যাত্রীর অভাব হবে না।’ 

এ প্রসঙ্গে রূপপুর প্রকল্পের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাইট অফিসের ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘এই প্রকল্পে কর্মকর্তা, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পাঁচ হাজারের বেশি রাশিয়ান নাগরিক কর্মরত আছেন। মন্ত্রণালয়সহ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য তাদের অনেকের যাওয়া-আসা সড়কপথে হয়। সড়কপথে ঢাকায় যাতায়াতে তাদের অনেক সময় নষ্ট হয়। বিমান চালু হলে তাদের এ অসুবিধা হতো না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সুবিধার্থে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু হওয়া দরকার।’
 
ঈশ্বরদীর বিশিষ্ট শিল্পপতি জালাল উদ্দিন তুহিন বলেন, ‘ব্যবসা ও বিনিয়োগ অনেকটা যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ঈশ্বরদীর যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে এখানকার বিমানবন্দরটি যুক্ত হলে দেশি-বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন বলে আমি মনে করি। আমরা চাই ঈশ্বরদীতে দ্রুত বিমানবন্দর চালু হোক।’ 

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. ওমর আলী বলেন, ‘ঈশ্বরদী পাবনা জেলার সমতুল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। বন্ধ থাকা বিমানবন্দরটি চালু হলে এখানকার গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। আরও সমৃদ্ধ হবে অর্থনীতি। তাই বন্ধ না রেখে বিমানবন্দরটি চালু করা দরকার।