ঢাকা ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

প্রতিমন্ত্রীর শ্যালকের প্রতিদ্বন্দ্বীকে অপহরণ-নির্যাতনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে পুলিশ: পলক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৮ পিএম
প্রতিমন্ত্রীর শ্যালকের প্রতিদ্বন্দ্বীকে অপহরণ-নির্যাতনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে পুলিশ: পলক
ছবি : খবরের কাগজ

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের জের ধরে শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেলের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ এবং নির্যাতনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেছেন, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে এবং সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্তভাবেই এই মামলার তদন্ত করছে। তার প্রেক্ষিতে যাই তদন্তে আসবে এবং এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকবে বা দোষী সাব্যস্ত হবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবে। কে আমার ভাই, কে আমার শ্বশুর, কে আমার ভাগিনা, কে আমার ভাতিজা কিংবা শ্যালক, এটা কোন বিবেচনার বিষয় নয়। এটা নিয়ে আমি আসলেই বিব্রত, লজ্জিত, দুঃখিত এবং আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তাই এখানে মন্ত্রীর (পলক) আত্মীয় স্বজন বলে কেউ ছাড় পাবে না।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেনকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেলোয়ার হোসেনের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক, আইনগত ও সাংগঠনিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। সে ক্ষেত্রে কার কী পরিচয়, কে আমার ভাই, কে আমার শ্বশুর কিংবা শ্যালক এটা কোনো বিবেচনার বিষয় নয়। এটা নিয়ে আমি আসলেই বিব্রত, লজ্জিত, দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। তাই, বিবেকের তাড়নায় আমার মনে হয়েছে এখানে আসা দরকার এবং স্পষ্ট বার্তা সকলের কাছে জানিয়ে দেওয়া দরকার। এই ঘটনায় জড়িত আমার আত্মীয় কিংবা যেই হোক এটা ব্যবহার করে কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।

বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, উনি সরাসরি এই বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন এবং ওনার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তারা যারাই হোক, পরিচয় যাই হোক, তাদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর আইন প্রয়োগ করা হয়। এরই মধ্যে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছে। আরও বাকি যারা জড়িত আছে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। আহত দেলোয়ার হোসেন পাশা ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আমি দেশের বাইরে থেকেই হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমাদের আওয়ামী লীগের উপজেলা কিংবা পৌর শাখার যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে যেন সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। যারা অন্য সহযোগী সংগঠনের আছে, তাদেরও যেন বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। আমি নৌকার বিজয়ী সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মনে করেছি, এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই আমরা এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, যেন আর কেউ কারও পরিচয় বহন করে আমাদের দল ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার দুঃসাহস করতে না পারে।

আগামী ৮ মে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেল। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন গত ১৫ এপ্রিল জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে থেকে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় একদল লোক। নির্যাতনের পর বিকেলে একটি মাইক্রোবাসে তুলে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দেলোয়ারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই তাকে রামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে রাখা হয়।

এর আগে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়ও লুৎফুল হাবিব রুবেলের সঙ্গে নির্বাচন না করার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা আসাদুজ্জামানকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা বালু পয়েন্টে আটকে রাখা হয়েছিল। তাই আসাদুজ্জামান মনোনয়ন জমা দেননি। রুবেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

প্রতিমন্ত্রীর প্রভাবেই তার শ্যালক রুবেল এমন বেপরোয়া কাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে পলক বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় কী ঘটেছিল তা আমি জানি না। এবার কেন্দ্র থেকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবার যেন দলীয় প্রার্থী না দেওয়া হয় এবং কোনো এমপি-মন্ত্রী যেন কোনো প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ না করেন। যে প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক, তা তো আমি অস্বীকার করতে পারবো না। নাটোরের সিংড়ার রাজনীতিতে আমি কখনোই ব্যক্তিগত আত্মীয় বা গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করিনি। 

এই অপহরণ ও নির্যাতনের সঙ্গে তার শ্যালক রুবেলের নাম ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে বলা হলেও মামলায় আসামি হিসেবে তার নাম না থাকার বিষয়টি সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, যিনি হামলার শিকার, তার আপন ভাই মামলার বাদী। তার সঙ্গে আমার দল বা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। বাধা দেওয়া হয়নি। তারা মামলাটা করেছে। পুলিশের কাছে মামলাটা তদন্তাধীন। কারা জড়িত তা আপনারা দেখেছেন। আদালতে দুজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। প্রাথমিক যে তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ আছে। যারাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক, পুলিশ প্রভাবমুক্ত-নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবে। আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, কারও নাম ভাঙিয়ে কেউ যেন কোনো অপরাধ করতে না পারে। 

এ সময় প্রতিমন্ত্রী পলকের সঙ্গে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়াার জেনারেল এএফএম শামীম আহম্মদ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং সিংড়া আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা-কর্মীরা ছিলেন।

এনায়েত করিম/এমএ/

বিপুল ফারাজী বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ১২:২৯ এএম
বিপুল ফারাজী বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত
বিপুল ফারাজী

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এফ এম আশরাফুল কবির (ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী)। গতকাল বুধবার তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক রাজীব কুমার রায় পান ২০ হাজার ৭৭৯ ভোট। এছাড়া, দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ মোল্যা পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৯২ ভোট। ভোট গণনা শেষে রাত ৮টায় এ ফলাফল ঘোষণা করে করেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার ওয়াহিদা ফেরদৌস। ফলাফলে ৩০ হাজার ৮৫১ বেশি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী।

আনারের মরদেহ চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই : মানববন্ধনে আ.লীগ নেতারা

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৮:৪১ পিএম
আনারের মরদেহ চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই : মানববন্ধনে আ.লীগ নেতারা
ছবি : খবরের কাগজ

এমপি আনারের মতো একজন মানবদরদী নেতাকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, কেটে টুকরো টুকরো করেছে- তারা মানুষ নয়। নরপশু। এ হত্যাকাণ্ডে যে চক্রই জড়িত থাকুক, দ্রুত তাদের মুখোশ উন্মোচন করে গ্রেপ্তার ও ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (২৯ মে) বিকেলে কালীগঞ্জে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যাকারীদের বিচার ও মরদেহ ফেরতের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। 

এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ব ষোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার কালীগঞ্জ উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে বারবাজার বাসস্ট্যান্ডে ওই মানববন্ধন করা হয়। 

মানববন্ধনে নেতারা আরও বলেন, পর পর ৩ বার ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচিত এমপি আনার কি হত্যার শিকার, নাকি গুম? শান্তির এই জনপদকে পরিকল্পিতভাবে অশান্ত করতে একটি চক্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সব রহস্যের অবসান ঘটিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের মূল হোতা আক্তারুজ্জামান শাহিনসহ খুনিদের সর্ব্বোচ শাস্তির দাবি জানান তারা।

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠাণ্ডুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিবলী নোমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান ওদু, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদুর রহমান মন্টু, বারোবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সভাপতি মাহবুবুর রহমান রন্জু, কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ শমসের, রাখালগাছী ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু, মোচিক সিবিএ নেতা গোলাম রসুল ও উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নারী প্রার্থী নিখোঁজ

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৭:৪০ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নারী প্রার্থী নিখোঁজ
প্রীতি খন্দকার হালিমা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে উপজেলা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে ফিরে আসেননি ‘পদ্মফুল’ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করা প্রীতি খন্দকার হালিমা। 

এ ঘটনায় বুধবার (২৯ মে) বেলা ১১টায় তার স্বামী মাসুদ খন্দকার বিজয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

প্রীতি খন্দকারের স্বামী মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘আগামী ৫ জুন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আমার স্ত্রী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। সার্ভার ত্রুটির কারণে প্রীতির মনোনয়ন জমা দিতে সমস্যা হওয়ার ফলে হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে। কোর্টে ঘুরতে ঘুরতে নির্বাচনি এলাকায় সময় কম দিয়েছে, এ জন্য প্রীতি দিনরাত উপজেলায় নির্বাচনি কাজে সময় দিচ্ছে।’

মাসুদ আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে হরষপুর ইউনিয়নে দুজন নারী সহযোগী নিয়ে নির্বাচনি প্রচারে যায় প্রীতি। হরষপুরের ঋষিপাড়ায় ঢুকে প্রচারের সময় প্রীতি তার সহযোগীদের বাইরে রেখে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে ভেতরে যায়। কিন্তু ২০ মিনিট পার হলেও প্রীতি বের না হলে দুজন মহিলা ভেতরে যান। কিন্তু তারা সেখানে গিয়ে প্রীতিকে খুঁজে পাননি। অনেকক্ষণ খোঁজখবর করে প্রীতিকে না পেয়ে তারা বাড়িতে চলে আসেন। পরে আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই। রিটার্নিং কর্মকর্তা অপেক্ষা করে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর জিডি করতে বলেছেন। রাত ১২টায় থানায় যাওয়ার পর ওসি বললেন সকালে জিডি করতে।’

বুধবার বেলা ১১টায় বিজয়নগর থানায় জিডি জমা দিয়েছেন বলে প্রার্থীর স্বামী জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন ঈর্ষান্বিত হয়ে তার স্ত্রীকে গুম করেছে। 

বিজয়নগর নির্বাচনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সৈয়দ মাহাবুবুল হক বলেন, ‘নিখোঁজের বিষয়টি প্রার্থীর স্বামী আমাকে জানিয়েছেন। আমি প্রার্থীর স্বামীকে থানায় যোগাযোগ করতে বলে দিয়েছি।’ 

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রার্থীর স্বামী রাতে এসেছিলেন, তাকে নিয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। যেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন, সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন প্রার্থী সেখানে প্রচারে গিয়েছিলেন। জিডির অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনা করা হবে।’

ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল, পোলিং এজেন্টকে কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৪:৪২ পিএম
ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল, পোলিং এজেন্টকে কারাদণ্ড
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. ফজলুল হক। ছবি : খবরের কাগজ

নোয়াখালীতে নারী ভোটারের ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল মারার অপরাধে পোলিং এজেন্টকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার (২৯ মে) দুপুরে সদর উপজেলার উত্তর সোনাপুর আহম্মদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া ইসলাম এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. ফজলুল হক (৪৪) সদর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের সাইদুল হকের ছেলে। তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী এ কে এম সামছুদ্দিন জেহানের আনারস প্রতীকের পোলিং এজেন্ট।

আদালত সূত্র জানায়, ফজলুল হক অবৈধভাবে গোপন কক্ষে গিয়ে অন্যের ব্যালট পেপারে সিল মারার চেষ্টা করেন। এ সময় কেন্দ্র পরিদর্শনে ছিলেন বিচারক তানিয়া ইসলাম। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী অভিযুক্তকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানা করেন।

এ বিষয়ে তানিয়া ইসলাম বলেন, ‘অবৈধভাবে গোপন কক্ষে গিয়ে অন্যের ব্যালট পেপারে সিল মারার সময় ফজলুল হককে হাতেনাতে ধরা হয়। তারপর বিধি অনুযায়ী তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা দিলে ছাড় দেওয়া হবে না।’

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপে নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন উপজেলার ৩৭টি ইউনিয়নের ৩৫৭টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হয়েছে। এসব উপজেলায় মোট ভোটার ১২ লাখ ৭ হাজার ৫৮২ জন।

ইকবাল হোসেন/সালমান/

গোপালগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম
গোপালগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

গোপালগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে রিয়াদ খান (২১) নামের এক যুবকের মুত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম নিজড়া গ্রাম এ ঘটনা ঘটে। 

গোপালগঞ্জ বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রিয়াদ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম নিজড়া গ্রামের মো. কামরুল ইসলাম খানের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। 

বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক খবরের কাগজকে জানান, মঙ্গলবার (২৮ মে) রাতে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে যায় রিয়াদ। মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে বা যে কোনো সময় মাছের ঘেরের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে সে মারা যায়।

বাড়ি ফিরে না আসায় তাকে খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বুধবার সকালে রিয়াদের মরদেহ দেখেতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রিয়াদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। 

বাদল সাহা/ইসরাত চৈতী/অমিয়/