ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

গাজীপুরে মহাসড়কের পাশ থেকে মৃত হাতি উদ্ধার

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৩৫ পিএম
গাজীপুরে মহাসড়কের পাশ থেকে মৃত হাতি উদ্ধার
ছবি : খবরের কাগজ

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে এক হাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকালে রাজেন্দ্রপুর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ২নং গেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে হাতির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বনবিভাগের কর্মকর্তারা।

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রুবিয়া ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়কের পাশে হাতির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে আমাদের বিষয়টি জানান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পাই, মৃত হাতির মাথায় ক্ষত চিহ্ন আছে, দাঁতগুলো উঠিয়ে নিয়ে গেছে। 

ইতোমধ্যে, পুলিশের একটি ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন, গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের সদর থানা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে আছেন। পুলিশের ফরেনসিক টিম তথ্য সংগ্রহের পর ভেটেনারি সার্জন ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভেটেনারি সার্জন যৌথভাবে পোস্টমর্টেম করবে। তারপর হাতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, অন্য কোথাও হাতির মৃত্যু এখানে এনে ফেলে রেখে গিয়েছে। তদন্তের পর এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএ/

সাতক্ষীরা উপকূলে ১০০ কিলোমিটার বেগে রিমালের আঘাত

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:০১ পিএম
সাতক্ষীরা উপকূলে ১০০ কিলোমিটার বেগে রিমালের আঘাত
ফাইল ছবি

সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকায় ১০০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। রবিবার (২৬ মে) সন্ধ্যার পর ঝড়টি আঘাত হানে। এটি কয়েকঘণ্টা উপকূলীয় এলাকায় তাণ্ডব চালাতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় ঝড়ের গতিবেগ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারেও বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের অগ্রভাগ সকাল থেকে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে ঢুকে। সন্ধ্যা ৭টার পর ১০০ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি কয়েকঘণ্টা ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে তাণ্ডব চালাতে পারে। এ সময় উপকূলীয় নদীতে ৮-১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ঝড়ের গতিবেগ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

নাজমুল শাহাদাৎ/সালমান/

বরগুনায় বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৭:৩৭ পিএম
বরগুনায় বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত
ছবি : খবরের কাগজ

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বরগুনার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উঁচু জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ছয়টি গ্রামের ঘরবাড়িসহ লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। 

রবিবার (২৬ মে) দুপুরে আমতলী উপজেলার পায়রা নদী-সংলগ্ন পশরবুনিয়া এলাকায় তিনটিসহ সদর উপজেলার বিষখালী নদী-সংলগ্ন ডালভাঙ্গা, বড়ইতলা, কুমড়াখালী এলাকা প্লাবিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্বল বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। পাশাপাশি পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, আজ জোয়ারের উচ্চতা ছিল ২.৩২ মিটার। যা বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে।

সদরের কুমড়াখালী এলাকার হুমায়রা বলেন, ‘দুপুরে উঁচু জোয়ারের কারণে এখানকার বেড়িবাঁধের কয়েকটি অংশ ভেঙে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ডুবে যায়। পরে জোয়ার কমলে স্থানীয়রা বাঁধের ভেঙে যাওয়া বিভিন্ন অংশ মেরামতের চেষ্টা করেন।’

একই এলাকার মো. ছালাম বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পুরো গ্রাম তলিয়ে গেছে। পুকুরের মাছ, ক্ষেতের ফসল সব শেষ। ঘরবাড়ির মাটি নরম হয়ে গেছে যেকোনো সময় ঘরবাড়ি পড়ে যেতে পারে।’

পোটকাখালী গ্রামের রব মিয়া বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। আমি আশ্রয়কেন্দ্রে যাব না। আমার ঘরবাড়ি দেখবে কে? যতক্ষণ থাকতে পারব ততক্ষণ ঘরেই থাকব। গরু-ছাগল সব আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছি।’

মাছখালী গ্রামের আবদুল লতিফ বলেন, ‘আমাদের এখানে আশ্রয়কেন্দ্র নেই। দিনের জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এখন ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত ও রাতের জোয়ার নিয়ে আতঙ্কে আছি।’

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, ‘জেলার ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৫টি জায়গায় প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। এসব এলাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে জিও ব্যাগ ও সিনথেটিক ব্যাগ মজুদ আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে ভেঙে যাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত করা হবে।’

মহিউদ্দিন অপু/সালমান/

প্রাইভেটকারচাপায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৬:৪০ পিএম
প্রাইভেটকারচাপায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত
মোস্তাকিম। ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রাইভেটকারচাপায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। রবিবার (২৬ মে) দুপুরে উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত মোস্তাকিম (১৩) কোদালিয়া সহরুল্লাহ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাড়ি ৩নং ওয়ার্ডের রফিক ভূঁইয়ার একমাত্র ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিপাশার রফিক ভূঁইয়ার ছেলে মোস্তাকিম সড়কের পাশে বসে সাইকেলের চেইন ঠিক করছিলো। বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেটকার দ্রুত গতিতে চালিয়ে মোস্তাকিমের উপর দিয়ে চলে যায়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতালে নেওয়ার দুই ঘন্টা পর মোস্তাকিম মারা যায়।

নিহতের চাচা মো. জাকারিয়া খবরের কাগজকে বলেন,পাশের বাড়ির এক ছেলে নাফিকে সঙ্গে নিয়ে সাইকেল চালিয়ে কোদালিয়া বাজারে গিয়েছিল। বাড়িতে ফেরার সময় চন্ডিপাশা ইউনিয়নের সামনে পৌঁছা মাত্র সাইকেলের চেইন পড়ে যায়। সাইকেল থেকে নেমে দু'জন দুইদিকে বসে সাইকেলের চেইন ঠিক করছিলো। হঠাৎ একটা প্রাইভেটকার রাস্তার পাশে বসা মোস্তাকিমের উপর দিয়ে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেছে। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে।

দূর্ঘটনার বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান টিটু খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনার পরপরই একটি প্রাইভেটকার পাকুন্দিয়া থানার হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিতু/এমএ/

ঘূর্ণিঝড় রিমাল উপকূলে আতঙ্ক, সৈকতে পর্যটকদের ভিড়

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:০৫ পিএম
উপকূলে আতঙ্ক, সৈকতে পর্যটকদের ভিড়
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ভিড়। ছবি : খবরের কাগজ

ঘুর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে কক্সবাজারে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। ফলে সাগরে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন ফুট বেড়ে যাওয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে জেলার বেশকিছু গ্রামে। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে উপকূলীয় বাসিন্দাদের মাঝে। তবে তেমন আতঙ্ক দেখা যায়নি সৈকতে ভিড় জমানো পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে। দেখে মনে হচ্ছে, অনেকে ঘূর্ণিঝড় দেখতেই হয়তো সমুদ্রসৈকতে এসেছেন। 

রবিবার (২৬ মে) সকাল থেকে কক্সবাজার উপকূলে ঝড়ো বাতাস বইতে থাকে। দুপুরে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলগুলো ডুবে যায়। বিশেষ করে কক্সবাজার সদরের কুতুবদিয়া পাড়া, সমিতি পাড়া, গোমাতলী, পোকখালী, মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ জেলার অর্ধ-শতাধিক গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে গেছে। সন্ধ্যায় উপকূল এলাকায় ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। 

অন্যদিকে, সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে বাতাসের গতিবেগ বেড়েছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। রিমালের প্রভাবে শনিবার রাতে সেন্টমার্টিনের কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জোয়ারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখনো দমকা হাওয়া ও সাগরের পানির উচ্চতা বেশি মনে হচ্ছে। দ্বীপের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে যেতে মাইকিং করা হয়।’

সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। সৈকতে জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত বিচকর্মী, ফায়ার সার্ভিস ও লাইফগার্ড কর্মীরা পর্যটকদের সতর্কতার বিষয়ে মাইকিং করছে। তারমধ্যেও অনেকেই সাগরে নামার চেষ্টা করছেন। 

সাগরজলে মেয়ে লুবনাকে নিয়ে নেমে পড়েছেন শরীয়তপুরের বাসিন্দা ইয়াছমিন আকতার। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল দেখতে সদ্য এসএসসি পাস করা মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। সাগর উত্তাল, দেখতে অনেক ভালো লাগছে। ছবি তুলছি, শামুক-ঝিনুক কুড়িয়েছি। আগে কক্সবাজার অনেক আসা হয়েছে। তবে এবার ঘূর্ণিঝড়ের সময় আসা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় কক্সবাজার সাগর কেমন হয় তা দেখতে পেলাম।’

শুধু ইয়াছমিন নন, একই সময় সৈকতের লাবনী পয়েন্টে এসেছেন নোয়াখালীর আব্দুর রহিম। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১৪ জন। সবাই নেমে পড়েন সাগরের নোনাজলে।

আব্দুর রহিম বলেন, ‘ঢেউ দেখে ভয় লাগছে। কিন্তু খুবই মজা পাচ্ছি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এত বড় বড় ঢেউ হতে পারে আগে জানতাম না।’

শুধু তারাই নয়, সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ভিড় করেছে কয়েক হাজার পর্যটক। তবে সকাল সাড়ে ৮ টার পর কাউকে সাগরে নামতে দিচ্ছে না লাইফ গার্ড কর্মীরা।

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে কক্সবাজারে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত (সবশেষ তথ্য) দেখানো হয়েছে। তাই সাগর উত্তাল রয়েছে। সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। লাল পতাকা মানেই সতর্ক করা, যাতে কেউ সমুদ্রস্নানে না নামে। আমরা কাউকে সৈকতে সমুদ্রস্নানে নামতে দিচ্ছি না।’

অন্যদিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে সকাল থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে গাছ ভেঙে পড়ায় এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ উপকূল ও নিম্নাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিং করছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করবে বিকেলে। এরই মধ্যে এর প্রভাব শুরু হয়েছে। জোয়ারের পানি ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার জেলা অতিক্রম করবে।’

মুহিববুল্লাহ মুহিব/সালমান/

মেম্বারকে কুপিয়ে জখম করা যুবককে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:৫২ পিএম
মেম্বারকে কুপিয়ে জখম করা যুবককে পিটিয়ে হত্যা

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ইউপি সদস্য ওমর ফারুক পাটোয়ারীকে কুপিয়ে জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহাদ আহমেদ নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী।

রবিবার (২৬ মে) ভোর রাতের দিকে উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নোয়াখলা গ্রামের আকবর পাটোয়ারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আহাদ আহমেদ ওরফে হাম্বা (২০) উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নোয়াখলা গ্রামের আকবর পাটোয়ারি বাড়ির বাবর হোসেনের ছেলে। আহত ওমর  ফারুক পাটোয়ারী মেম্বর ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পূর্ব শক্রতার জের ধরে ভোর রাতের দিকে ইউপি সদস্য (মেম্বার) ওমর  ফারুক পাটোয়ারীকে তার ভাড়া বাসায় ঢুকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। খবর পেয়ে মেম্বারের অনুসারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত আহাদের বাড়িতে পাল্টা হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে গণপিটুনি দিলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

নোয়াখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. মানিক বলেন, আহাদ আগে থেকেই মাদকাসক্ত বেপরোয়া ছিল। রবিবার ভোর রাতের দিকে সে মেম্বারের ঘরের দরজায় হাত দিয়ে টোকা দেয়। এরপর মেম্বার ফারুক দরজা খুলতেই তাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।  খবর পেয়ে এলাকাবাসী আহাদের বাড়িতে গেলে সেখানে সে ছালেহ আহমদ নামে আরও এক ব্যক্তিকে জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আহাদের বাড়িতে তাকে ধরে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুলিশ নিহত আহাদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

ওসি আরও বলেন, শুনেছি নিহত আহাদ শরীফ বাহিনীর সদস্য ছিল। তবে তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা ছিল না। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মজনু/এমএ/