ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের দিনমজুর রাজু হাসানের চোখে এখন শুধুই অন্ধকার। জন্ম থেকেই তার দুই মেয়ে আট বছর বয়সী মরিয়ম আক্তার রাহা এবং ছয় বছর বয়সী আরফিন আক্তার রোজা থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। দুই বোনই মেধাবী ছাত্রী, তাদের চোখে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন।
কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই থমকে যাওয়ার পথে তাদের জীবন, কারণ প্রতি মাসে তাদের ওষুধের জন্য প্রয়োজন ১২ হাজার টাকা।
রাজু হাসান বলেন, দিন আনি দিন খাই। এর মধ্যেই মাসে বারো হাজার টাকার ওষুধ জোগাড় করতে হয়। মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েছি, কিন্তু এখন আর কেউ দিতে চায় না। আমি আর পারছি না, মেয়েদের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে হয়তো তাদের আর বাঁচাতে পারব না।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের একই ব্লাড গ্রুপ হওয়ায় দুই বোন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের সুস্থ রাখতে প্রতি মাসে প্রয়োজন ১২ হাজার টাকার ওষুধ। কিন্তু একজন দিনমজুরের পক্ষে এই বিশাল খরচ চালানো অসম্ভব। রাজুর বাবা মোহাম্মদ আলী, যিনি পেশায় একজন অটোচালক। তিনি বলেন, আমার সামর্থ্য নেই। অটো চালিয়ে সংসার চালাই। নাতনিদের চিকিৎসা চালানো আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে গেছে। সমাজের বিত্তবানরা যদি পাশে দাঁড়াতো, তাহলে হয়তো ওদের বাঁচানো যেত।
প্রতিবেশী ফিরোজ খান বলেন , রাজু খুব পরিশ্রমী মানুষ। কিন্তু তার আয়ে এই খরচ চালানো অসম্ভব। আমরা যতটুকু পারি সাহায্য করি, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। এই অসহায় পরিবারের পাশে সমাজের বিত্তবানদের দাঁড়ানো উচিত।
স্কুলের শিক্ষিকা সাবিনা আক্তার বলেন, রাহা আর রোজা দুজনেই খুব মেধাবী। পড়াশোনায় তাদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। থ্যালাসেমিয়ার কারণে প্রায়ই তাদের ক্লাস মিস হয়। আমরা চাই এই দুই প্রতিভাবান শিশু যেন সঠিক চিকিৎসা পেয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।
এ বিষয়ে শহর সমাজসেবা অফিসার শাকিল মাহমুদ বলেন, সেই পরিবার যদি আমাদের কাছে আবেদন করে, তাহলে আমাদের এখান থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে। আমরা এই ধরনের রোগীদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দিয়ে থাকি।
প্রতিমাসে ১২ হাজার টাকা জোগাড় না করতে পারলে হয়তো থেমে যাবে দুই শিশুর জীবন। দরিদ্রতার কাছে হেরে যাবে দুটি তাজা প্রাণ। তাই সমাজের বিত্তবান এবং সরকারে কাছে সাহায্যের অনুরোধ জানিয়েছে এই পরিবার।
নবীন হাসান/সুমন/