চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বৈলগাঁও গ্রামে স্ত্রী স্বীকৃতির দাবিতে মো. ফেরদৌস নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন শারমিন আক্তার নামে এক নারী। তবে অভিযুক্ত ও তার বাড়ির সদস্যরা পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী শারমিন আক্তার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩১নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ জালালাবাদ এলাকার এবং অভিযুক্ত মো. ফেরদৌস বৈলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাধনপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য।
শারমিন আক্তার জানান, ব্যক্তিগত কাজে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ফেরদৌস কৌশলে তার পরিচয় ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর নিয়মিত যোগাযোগ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল পরিবারের সম্মতিতে কাজী মাওলানা জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর ফেরদৌস বিভিন্ন ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করলেও ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দিনের বেলা অল্প সময়ের জন্য আসতেন এবং পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
পরে ২০২৪ সালে তিনি নিজে তালাক দেন। তবে পরবর্তীতে ফেরদৌস পুনরায় স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবারও বিয়ে করেন।
শারমিনের অভিযোগ- কিছুদিন পর শারমিনকে পতিতাবৃত্তিতে জড়ানোর চাপ দিতে থাকেন ফেরদৌস। এতে রাজি না হওয়ায় ফেরদৌস আবারও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরে পারিবারিক স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার দাবিতে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে 'স্বামী'র বাড়িতে অবস্থান নেন শারমিন আক্তার।
শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাকে যদি স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তবে আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
তিনি জানান, ঘটনার পর তিনি সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে. এম. সালাউদ্দিন কামালকে বিষয়টি জানালে, চেয়ারম্যান এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও শারমিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শফকত/মেহেদী/