সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চৌহাট্টা। চার রাস্তার সংযোগস্থল চৌহাট্টা পয়েন্টের মধ্যখানে (জিন্দাবাজারমুখী) করা হয়েছে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজমায়েত মঞ্চ।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৩টায় এই মঞ্চে আসেন ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু ও জকসু’র নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিরা। শুরু হয় আলোচনা সভা। এরআগেই গণজমায়েত স্থলে আসতে শুরু করেন মানুষজন। যার ফলে চার রাস্তার সংযোগস্থলের জিন্দাবাজারমুখী রাস্তাটি পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
চৌহাট্টা পয়েন্টের বাকী তিন সড়কে যান চলাচল চালু থাকলে এই চৌহাট্টা এলাকার সড়ক ব্যবহারে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ জনগণকে।
সিলেট নগরীর চৌহাট্টা ও আশেপাশের এলাকায় আছে বেশ কয়েকটি সরকারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি বেসরকারি অফিস। যার ফলে সারা দিনই এই চৌহাট্টা এলাকায় থাকে জনসমাগম। কিন্তু ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজমায়েতের কারণে এই সড়ক ব্যবহারকারীদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে এ ধরনের গণজমায়েত করায় অনেক পথচারী ক্ষোভও প্রকাশ করেন।
বেশ কয়েকজন পথচারী বলেন, চৌহাট্টা পয়েন্টের জিন্দাবাজার সড়কটি পুরোপুরি বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে সভা করা হচ্ছে। এরকম একটি সড়ক বন্ধ করে গণজামায়েত করার অনুমতি কীভাবে দেয় প্রশাসন। ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আগেই যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের নামে সাধারণ জনগণকে এভাবে ভোগান্তিতে ফেলা হয় তাহলে ভোট দিলে কী হবে। এই সভাটি চৌহাট্টার পাশে আলিয়া মাদরাসা মাঠেও করা যেত। তাহলে তো এই জনদুর্ভোগ হতো না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি আচরণবিধিমালা অনুযায়ী, ‘জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারবেন না প্রার্থীরা।’
এছাড়া গণভোটের অধ্যাদেশের ২১ নাম্বার পয়েন্ট বলা হয়েছে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।’
গণভোটের অধ্যাদেশ অনুযায়ী জনগুরুত্বপূর্ণ সিলেটের চৌহাট্টা সড়কে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণজমায়েত করা সরাসরি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনে পড়ে।
এই গণজমায়েতের আয়োজন করা হয় ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু ও জকসু’র নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ ব্যানারে। এতে অংশগ্রহণ করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবীব, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম। এছাড়া সিলেট-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানও এই গণজমায়েতে অংশগ্রহণ করেন।
এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরিন আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, চৌহাট্টার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি সড়কে কীভাবে এই গণজমায়েতের অনুমোদন দিল প্রশাসন। আমি নিজে কোর্ট থেকে আমার বাসা হাউজিং স্ট্রেটে আসতে পারিনি এই রোডে। তাঁতীপাড়া আসার পর পুলিশ গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছে। পরে বেশ কয়েকটি সড়ক ঘুরে প্রায় দেড়ঘণ্টায় বাসায় এসেছি। যেখানে চৌহাট্টা রোডে আসলে আমার সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট লাগতো। আমার মতো কত মানুষ সড়কে গণজমায়েতের জন্য আজ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এটা সরাসরি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন। এই আয়োজনের আয়োজক এবং যে যে প্রার্থী এতে অংশগ্রহণ করেছেন তাদেরও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তির আওয়ায় আনা হোক।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা খবরের কাগজকে বলেন, আমি এ বিষয়টি জানি না। আমাকে জেনে বলতে হবে তারা সড়কে গণজমায়েত করার কোনো অনুমতি নিয়েছেন কি না। বা নিলে কিভাবে নিয়েছেন।
মাহফুজ/