ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রান্তিক ধাপের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সুবিধা পাবেন না বস্তিবাসী গাছ লাগান, সওয়াব কামান পাসপোর্ট ও বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে জটিলতা দূর, বাংলাদেশে টিভির পর্দায় দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ মাস্টার বাড়ি কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা কৃষি শব্দকোষ নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫ ঝিনাইদহের এসপি প্রত্যাহার টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ ঝিনাইদহে গাছ থেকে ঝুলন্ত নারীর মরদেহ উদ্ধার জীবনধারা বদলান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করুন সোনারগাঁয় মেঘনা টোলপ্লাজায় লরির ধাক্কায় আহত ৬ খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় ফরিদপুরে হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ
Nagad desktop

পিপিপি উদ্যোগে অগ্রগতি নেই

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৫, ১১:৫১ এএম
পিপিপি উদ্যোগে অগ্রগতি নেই
পিপিপি উদ্যোগে অগ্রগতি নেই।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির ধারণা প্রবর্তন করা হয়। প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এর সূচনা করেন। যদিও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ পৃথিবীর বহু দেশে অনেক আগেই পিপিপি চালু করেছে। দেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পিপিপিতে সাধারণত অবকাঠামো প্রকল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। 

আওয়ামী লীগ সরকার এর প্রচলন করলেও তারা পিপিপিকে সফল করতে পারেনি। কয়েক বছর চলে যায় আইনকানুন আর নীতিমালা তৈরি করতে গিয়ে। তারপর বাজেটে কিছু বরাদ্দ রেখেছে। প্রতি বছর বাজেটে পিপিপিতে প্রকল্পের তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এখন পর্যন্ত অবকাঠামো খাতের একটি বড় প্রকল্প পিপিপির আওতায় বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তা হলো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা উড়াল সড়ক। এ প্রকল্পের জন্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল এবং তা খরচও হয়ে গেছে। আলোচ্য প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত পিপিপির আওতায় এটি একমাত্র দৃশ্যমান প্রকল্প। 

সরকারি ভাষ্য হচ্ছে, দেশের বড় পুঁজির মালিক বা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ব্যাপারে ধৈর্য কম। এদিকে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, সরকার নিজেই একটা সমস্যা। কারণ, সরকার এমন কোনো নীতি-পদক্ষেপ নিয়ে রাখেনি, যাতে বিনিয়োগকারীরা পিপিপি প্রকল্পে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন।

এমন টানাপোড়েনের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে পিপিপির জন্য ৫ হাজার ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। অর্থ উপদেষ্টা এবারের বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সহজে সেবা দিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টাল চালু করেছে। এই পোর্টালে ৪৩টি সংস্থার ১৩৪টি সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতায় চালু করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো’ (বিএসডব্লিউ)’। এর মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্মে আবেদন গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ ও সেবা দেওয়া যাচ্ছে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেট বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ‘ইনভেস্টমেন্ট পাইপলাইন’ তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রতিশ্রুত বিনিয়োগগুলোকে কার্যকর বিনিয়োগে পরিণত করার প্রক্রিয়া সহজ হবে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম বছর ৩৪টি ও পরেরবার ৪০টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হলেও বর্তমানে পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য বর্তমানে ৮১টি প্রকল্পের একটি তালিকা তৈরি রয়েছে পিপিপি কর্তৃপক্ষের হাতে। এর মধ্যে ২০টি আছে শনাক্তকরণ পর্যায়ে, যেগুলো সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। আর উন্নয়ন পর্যায়ে আছে ২৯টি। এ পর্যায়ে থাকার অর্থই হচ্ছে এদের সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে মাত্র। ১৪টি প্রকল্প আছে দরপত্র ডাকার পর্যায়ে অর্থাৎ চুক্তির কাগজপত্র তৈরি হয়ে আছে। আর ১৮টি রয়েছে বাস্তবায়ন পর্যায়ে।

পিপিপি অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পিপিপির মাধ্যমে চিকিৎসাসহ অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে ব্যাপক সাড়া পড়ার বাস্তবতা আছে দেশে। কিন্তু বিষয়টি নতুন হওয়ায় একটু গতি কম। নীতিনির্ধারকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। এ কারণে গতি বাড়ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হওয়ায় দেশীয় বিনিয়োগকারীদের পিপিপির ব্যাপারে আগ্রহের ঘাটতি আছে।’ 

তুরস্ক, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ইত্যাদি দেশে সাফল্যের উদাহরণ সামনে রেখে ২০০৯ সালে অবকাঠামো উন্নয়নে পিপিপির দিকে নজর দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার।

পিপিপির মাধ্যমে দেশের অবকাঠামো খাতের ব্যাপক উন্নয়ন হবে, এমন আশাই করেছিলেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার ছয় মাসের মাথায় যখন ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হলো, তখন ‘নব উদ্যোগ বিনিয়োগ প্রয়াস’ নাম দিয়ে আবদুল মুহিত পিপিপির জন্য বরাদ্দ রাখেন ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

বিপুল জনগোষ্ঠীর এ দেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; নদী, সমুদ্র ও বিমানবন্দর; সাধারণ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল; সড়ক ও রেলপথ এবং বড় বড় সেতু নির্মাণ দরকার। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এগুলো করা কঠিন। তখন এসব কথাই বলেছিলেন আবদুল মুহিত।

শুধু কথা বলেই অবশ্য দায়িত্ব সারেননি মুহিত। ১০ বছর ধরে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিনিয়োগ আকর্ষণে পিপিপি আইন, নীতিমালা, বিধিমালা সবই করেছেন। প্রতি অর্থবছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও করতেন। কিন্তু বেসরকারি খাতের অনাগ্রহের কারণে এ খাতের জন্য বরাদ্দ করা পুরো টাকাই পড়ে থাকত। তবে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) জন্য প্রতিবারই অবশ্য সামান্য অর্থ খরচ হতো।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী হিসেবে এ এম এ মুহিত যখন ২০০৯ সালে বিষয়টি নিয়ে এলেন, আমি তখন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি। তাকে খুবই সমর্থন করেছিলাম। সৈয়দ আফসর এইচ উদ্দিন ছিলেন পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি আমাকে একপর্যায়ে বললেন, ভালো প্রকল্পগুলো নেওয়া হয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি), অগুরুত্বপূর্ণগুলো পাঠিয়ে দেয় পিপিপিতে। এভাবে তো পিপিপি হবে না।’

আবুল কাসেম খান আরও বলেন, মুনাফার সুযোগ না থাকলে তো বেসরকারি খাত আসবে না, এটাই স্বাভাবিক। আর দেশে তো দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগই নেই। গ্রিন ফিল্ড কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাংক ঋণ দেয় পাঁচ বছরের জন্য। এদিকে পিপিপির পর্ষদে নেই বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব। বললেই তো পিপিপিতে বিনিয়োগ আসবে না, আগে নীতি সমস্যা দূর করতে হবে।

বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:১৪ এএম
বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম
ছবি: সংগৃহীত

কোরবানি ঈদের এক সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। কিন্তু বাজার এখনো প্রায় ক্রেতাশূন্য। ঈদের ছুটির পর সবজির সরবরাহ ঠিক থাকলেও বেড়েছে কাঁচা মরিচ ও কাঁচা পেঁপের দাম। সোনালি মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে। ঈদের আগে সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৪০ টাকা কেজি। গতকাল ৪০ টাকা বেড়ে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে আগের পর্যায়ে রয়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কেজি ১৯০ টাকা। লেয়ার মুরগি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর হাতিরপুল বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়। 

এই বাজারের সবজির কিছু দোকান খোলা থাকলেও অধিকাংশ মাছ-মাংসের দোকান ছিল বন্ধ। অনেক বিক্রেতা এখনো রাজধানীতে ফেরেননি। যার ফলে দোকান বন্ধ রয়েছে। উপস্থিত বিক্রেতাদের একজন বলেন, ঈদের ছুটির প্রভাব কাঁচাবাজারের সবজি, ফল ও অন্যান্য পণ্যের উপরেও পড়েছে। ঈদের আগে বৃষ্টির কারণে বেশ ফসল নষ্ট হয়, এতে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। ঈদের পর অনেকেই এখনো রাজধানীতে ফেরেননি। বাজারেও আমরা অলস সময় কাটাচ্ছি। সারা দিনে একজন-দুজন করে কাস্টমার আসে। ঈদের বন্ধের আগেই অনেকে বাজার সেরে রেখেছেন। তাই এখনো ক্রেতা সমাগম নেই বললেই চলে। তবে সামনের সপ্তাহ থেকে বাজার চাঙ্গা হবে বলে আশা করছি।

এদিকে, ঈদের পরে সবজির দাম বেড়েছে। হাতিরপুল বাজারে গতকাল কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়। যা ঈদের আগে ১৬০ টাকা ছিল। আগে কাঁচা পেঁপে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। টমেটো ১৪০ টাকা কেজি, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে লাউ, পটোল বিক্রি হচ্ছে কিছুটা কম দামে। পটোল ৬০ টাকা কেজি, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস ও লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা হালি।

এই বাজারের সবজি বিক্রেতা মোবারক হোসেন খবরের কাগজকে জানান, ঈদের পর এখন ক্রেতা নেই। নিজেও কাজে ফিরেছি দুই দিন হলো। এরই মধ্যে মাত্র তিনজন ক্রেতা এসে সবজি নিল। তাও অল্প করে কাঁচা মরিচ, ঢ্যাঁড়স কিনল। ক্রেতা নেই, তাই বেচাকেনাও নেই। এখনো স্কুল বা অনেক অফিস খোলা বাকি। সামনের সপ্তাহ থেকে বাজারের সব দোকান খুলবে। ক্রেতাদের আনাগোনাও বাড়বে।

অন্যদিকে মাছের বাজারও ক্রেতাশূন্য দেখা যায়। অনেক মাছের দোকান বন্ধ দেখা গেছে। মাছ বিক্রেতা রাজু জানান, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই উপস্থিত কম। দেখতেই পারছেন অনেক দোকান ঈদের সময় থেকে বন্ধ রয়েছে। ক্রেতাও নেই, আমরা অনেকেই  অলস সময় পার করছি। মাছের দামও আগের মতোই। তিনি জানান, আকারে বড় রুই মাছ ৪৫০ টাকা কেজি, ছোট সাইজ ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। টেংরা বড় সাইজ সাড়ে ৬০০ টাকা, মাঝারি আকৃতির টেংরা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া মাছের দাম ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। 

ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

আগামী বছর থেকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মাসিক ভ্যাট রিটার্নের পরিবর্তে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন মাস পরপর (ত্রৈমাসিক) রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীকে কাগজপত্র জমা দিতে হবে না।

এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতায় অনেক ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো অপ্রয়োজনীয় চাপ অনুভব করে। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা সহজে ভ্যাটব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকুক। এ জন্য তিন মাস পরপর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের রিটার্ন জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা ও সুদের বিধান রয়েছে। নতুন নিয়মে বছরে চারবার রিটার্ন দাখিল করবে। দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য হিসাব সংরক্ষণ, রিটার্ন প্রস্তুত এবং সময়মতো জমা দেওয়া একটি বড় প্রশাসনিক জটিলতা হিসেবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দাবি করে আসছিল। এটাকে অনেকটা হয়রানি ও বাড়তি খরচ হিসেবে বিবেচনা করে অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাটব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য সব ব্যবসায়ী ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আসুক।

এনবিআরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার ভ্যাট নিবন্ধিত (বিআইএন) প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি
ইনফোগ্রাফ

ইসলামী ব্যাংকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর আহ্বানে গতকাল বৃহস্পতিবার এক ঘণ্টা কলমবিরতি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ব্যাংকের লেনদেনসহ সব ধরনের কার্যক্রম এক ঘণ্টা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।

তবে কিছু শাখায় কলমবিরতি পালিত হলেও অধিকাংশ শাখায় তা হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হোসাইন বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা নেই। কেউ সেবা না দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ব্যাংকটির ৪০০টি শাখা ও ২৬৫টি উপশাখা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৬৫টি শাখা রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর প্রায় ২৪টি শাখায় কলমবিরতি পালন করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আন্দোলনকারীরা যেসব শাখার কথা বলেছে, তার অনেক শাখায় কলমবিরতি পালন হয়নি।

সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে এবং গ্রাহক ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কোনো শাখায় ব্যাংকের সার্ভার ডাউন কিংবা ইন্টারনেট কাজ করছে না– এ ধরনের অসত্য কথা বলে এক ঘণ্টা সেবা দেননি কর্মকর্তারা। আবার কোনো কোনো শাখায় এ সময় তেমন কোনো গ্রাহক দেখা যায়নি। তবে এই সংখ্যাটি নিতান্ত কম। অধিকাংশ শাখায় সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।

আন্দোলনকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল লোকাল অফিস, বাসাবো শাখা, শাহজাহানপুর শাখা, পল্টন শাখা, রমনা শাখা, বংশাল শাখা, নবাবপুর শাখা, ইসলামপুর শাখা, সদরঘাট শাখা, কামরাঙ্গীরচর শাখা, যাত্রাবাড়ী শাখা, দনিয়া শাখা, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার শাখা, দয়াগঞ্জ শাখা, চকবাজার শাখা, মৌলভীবাজার শাখা, পান্থপথ শাখা, ভিআইপি রোড শাখা, গেন্ডারিয়া শাখা, ওয়াইজঘাট শাখা, নিউমার্কেট-এলিফ্যান্ট রোড শাখা, বাংলামোটর শাখা, বিজয়নগর উপশাখা, শ্যামপুর উপশাখা, গোড়ান উপশাখা, কোনাপাড়া উপশাখা, হাতিরপুল উপশাখা, ডেমরা উপশাখা, মোহাম্মদবাগ উপশাখা, পোস্তগোলা উপশাখা, লোহারপুল উপশাখায় কলমবিরতিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ সময় এসব শাখায় সাধারণ গ্রাহকদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

প্রধান কার্যালয়ের সামনে কলমবিরতি পালনের সময় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জোন পরিচালক অধ্যাপক নুর নবী মানিক জানান, ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ এবং ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহালসহ মোট ৭ দফা দাবিতে সচেতন গ্রাহক ফোরাম মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে দাবি জানালেও বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা কলমবিরতির আহ্বান জানানো হয়।

গ্রাহক ফোরামের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক ঘণ্টা কলমবিরতি কর্মসূচি পালন করেন। তিনি জানান, সাধারণ আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবশ্যই ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে খুরশীদ আলমকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। নতুবা বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

কর্মকর্তাদের কলমবিরতির কোনো নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের এমডি

এদিকে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইন গতকাল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কলমবিরতি পালনের কোনো নির্দেশনা নেই। কেউ সেবা না দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গ্রাহক যদি সেবা না নিতে আসেন, তাহলে আমাদের পক্ষে তো তা দেওয়া সম্ভব না। আমাদের অফিসাররা সেবা দিতে প্রস্তুত। এখন কোন শাখায় কী হচ্ছে সেটা তো এখানে বসে জানা সম্ভব না। তবে আমরা খোঁজ রাখছি। ব্যাংকের নির্দেশনা ছাড়া যারা কলমবিরতিতে অংশগ্রহণ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যদি গ্রাহক সব টাকা তুলে নিয়ে যান তখন ব্যাংকের কী হবে–এমন প্রশ্নে এমডি বলেন, একটা ব্যাংক থেকে যদি গ্রাহক এক দিনে সব টাকা তুলে নিয়ে যান তাহলে ব্যাংক তো বন্ধ হয়ে যাবে। এটা কখনোই হয় না। আন্দোলনসহ নানা কারণে টাকা তোলার চাপ আছে। তবে সেটা এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। যদিও সেটা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি। এখন পর্যন্ত আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি। 

কলমবিরতি পালনে চট্টগ্রামে তেমন সাড়া মেলেনি

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় এক ঘণ্টার কলমবিরতিতে তেমন সাড়া মেলেনি। কয়েকটি শাখায় সেবা দানের কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও বেশির ভাগ শাখায় কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিক। চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকে ৫২টি শাখা, ৩৭টি উপশাখা এবং শতাধিক এজেন্ট ব্যাংকিং রয়েছে। এর মধ্যে ‎লোহাগাড়া, ‎বোয়ালখালী, ‎বহদ্দারহাট, ‎পাঁচলাইশ, ‎চকবাজার, ‎হালিশহর, ‎কর্ণফুলী, ‎জুবিলি রোড, ‎নন্দনকানন উপশাখা এবং ‎স্টেশন রোড শাখায় এক ঘণ্টা ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংক নাজিরহাট শাখার ব্যবস্থাপক তানভীর হাসান খবরের কাগজকে জানান, এটা গ্রাহকদের আন্দোলন, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন নয়। তারা কোনো ধরনের কলমবিরতি পালন করেননি।

সকাল ১০টার দিকে আগ্রাবাদ শাখায় দেখা গেছে, সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে কিছু লোক মানববন্ধন করেছেন। তবে ভেতরে ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। এদিকে, বোয়ালখালী শাখায় কলমবিরতির সময় গ্রাহকের উপচেপড়া ভিড় ছিল। তবে কিছু কর্মকর্তা সেসময় সেবা দান থেকে বিরত ছিলেন। পাঁচলাইশ শাখায় কলমবিরতি কিছুটা পালন হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা শাখায় কর্মকর্তারা গ্রাহকদের সার্ভার ডিস্টার্ব বলে এক ঘণ্টা সেবা দানে বিরত ছিলেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত লোহাগাড়া শাখায় লেনদেন করতে পারেননি। তাদের ব্যাংক থেকে জানানো হয় সার্ভার ডাউন। অসত্য তথ্য দিয়ে সেবা না দেওয়ার বিষয়টি কিছুক্ষণ পর গ্রাহকরা বুঝে গেলে কেউ কেউ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। তবে ততক্ষণে ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে ফের ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়।

বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ কিংবা মূলধন সংকটে সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন ও সেবা দিতে পারছে না এমন শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান আবার সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নামে চালু হওয়া এ তহবিলের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় কিন্তু আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্পসুদে অর্থ দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ তহবিলের মাধ্যমে দেশের শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে ২০ হাজার কোটি টাকার এ স্কিম পরিচালিত হবে। এ স্কিমের মেয়াদ হবে ৩ বছর। সব তফসিলি ব্যাংক এতে অংশ নিতে পারবে। তবে স্কিমে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

যারা পাবে ঋণ সুবিধা
সার্কুলারে বলা হয়েছে, স্কিমের আওতায় বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে, যেগুলো আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কিংবা কার্যকর মূলধনের সংকটে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন ও সেবা দিতে পারছে না। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী ও উচ্চ রপ্তানি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোনো উদ্যোক্তা অধিগ্রহণ (টেকওভার) বা ভাড়া চুক্তির মাধ্যমে বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালু করলে তাকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা, মূলধনের প্রয়োজনীয়তা এবং ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা, প্রযুক্তিগত অদক্ষতা বা বিপণন সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কেবল কার্যকর মূলধনের ঘাটতি পূরণের জন্য এই ঋণ দেওয়া যাবে না।

শিল্প বা সেবা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা প্রমাণে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে। তবে প্রয়োজন হলে ব্যাংক নিজস্ব তদন্তের ভিত্তিতেও ঋণ অনুমোদন করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত গ্রাহক, অর্থ পাচার, জালিয়াতি, ঋণ তছরুপ বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ স্কিমের সুবিধা পাবে না।

বিদ্যমান ঋণ সমন্বয় নয়
সার্কুলারে বলা হয়েছে, স্কিমের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, কাঁচামাল সংগ্রহ, রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে। তবে এ অর্থ দিয়ে কোনো বিদ্যমান ঋণ সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না। এতে আরও বলা হয়েছে, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেন করা যাবে না। ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য প্রত্যেক শ্রমিকের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বেতন-ভাতা বাবদ সর্বোচ্চ চার মাসের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করা যাবে।

২০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নয়
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের অনুকূলে এ স্কিমের আওতায় ঋণের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকার বেশি হবে না। প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। তবে তহবিলের প্রাপ্যতা ও গ্রাহকের সন্তোষজনক লেনদেনের ভিত্তিতে ঋণ নবায়নের সুযোগ থাকবে।
সুদহার

স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংককে ৪ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করবে। অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণ বিতরণের প্রথম ৬ মাস সুদ পরিশোধে ছাড় থাকবে। এরপর থেকে সুদ আদায় ও পরিশোধ কার্যক্রম শুরু হবে।

আদায় ও তদারকি
নীতিমালায় আদায় ও তদারকির বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে গৃহীত অর্থের সুদ বা মুনাফা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিশোধ করতে হবে। ঋণ আদায়, সমন্বয় বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সর্বশেষ ত্রৈমাসিকের সুদসহ পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাব থেকে অর্থ সমন্বয় করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার সময়ের জন্য অতিরিক্ত ২ শতাংশ সুদ আরোপ করা হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ঋণসংক্রান্ত সব ধরনের ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই বহন করতে হবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ আদায়ের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্বও ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকের ওপর থাকবে। কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকের ঋণ আদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা সম্পর্কিত করা যাবে না। গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী তা খেলাপি ও প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।

ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতি ত্রৈমাসিকে কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও যেকোনো সময় সরেজমিনে ঋণ কার্যক্রম যাচাই করতে পারবে। এ জন্য ঋণ মঞ্জুরের পূর্বশর্ত হিসেবে ঋণগ্রহীতার সম্মতি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও কাগজপত্র পৃথকভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য নির্দেশনার মধ্যে বলা হয়েছে, ঋণগ্রহীতা নির্বাচন, ঋণ মঞ্জুরি, বিতরণ, দলিল সম্পাদন, ঋণের ব্যবহার ও তদারকির বিষয় ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ঝুঁকি কমাতে ব্যাংক প্রয়োজনে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের বিপরীতে জামানত নিতে পারবে। একই সঙ্গে একক গ্রাহক বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ঋণসীমাসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান বিধান কার্যকর থাকবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, যোগ্য প্রতিষ্ঠানের অবলোপনকৃত ঋণ থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে পুনঃতফসিল বা নীতি-সহায়তার আওতায় নতুন সুবিধা দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে না এবং হিসাব এসএমএ হিসেবে থাকবে। তবে টানা ছয়টি মাসিক বা দুটি ত্রৈমাসিক কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ পুনরায় মন্দ ও ক্ষতিজনক হিসেবে শ্রেণীকরণ করা হবে।

অন্যদিকে ঋণের অপব্যবহার, মিথ্যা তথ্য প্রদান, জালিয়াতি, অনিয়ম বা খেলাপির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতার তথ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠানো যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই তহবিলের মাধ্যমে বন্ধ শিল্প-কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে আসবে।

দুর্নীতি ঠেকাতে বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
দুর্নীতি ঠেকাতে বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে: অর্থমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

বন্দরে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। তাই বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

বুধবার (৩ জুন) ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত প্রি-বাজেট রাউন্ড টেবিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কৌশলবিদ আশফাক জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভির গনি। রাজধানীর বনানীতে হোটেল সারিনায় গতকাল বুধবার রাতে এ রাউন্ড টেবিল অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বন্দরে স্ক্যানিং মেশিন থাকার পরেও বলে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের স্ক্যানিং মেশিন কার্যকর করার জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। দেশে অনেক নীতি আছে। কিন্তু কার্যকর হয় না। কাস্টমসের বড় সমস্যা হলো নীতি তৈরি। আমরা সংস্কার করে জনগণের জন্য সেই নীতি তৈরি করতে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। আমরা অলিগার্কদের মতো নই। আমরা নির্বাচিত সরকার গঠন করেছি। জনগণের সেবা করার জন্যই আমরা নির্বাচিত হয়েছি। সেভাবে সরকার কাজ করছে। ১১ মে বাজেট পেশ করা হবে। ব্যবসা করতে গেলে ১৯টা লাইসেন্স লাগে। তা পেতে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত লাগে। তাই বিনিয়োগের জন্য এক জায়গা থেকে পারমিশন (লাইসেন্স) দেওয়া হবে। তা পেতে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ লাগবে। সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনে সেই ব্যবস্থা করা হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি ঘুরছে শুধু শিল্পের দিকে। আমরা জিডিপি বলতে শুধু শিল্পকে বুঝি। কিন্তু আমরা সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছি। তাই আমরা বিভিন্ন দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ১৩০ বিঘা জমি পাওয়া গেছে। থিয়েটার সিটি করা হবে। কামার, কুমার, তাঁতি সবাইকে বাজেটের আওতায় আনা হবে। তারা এতদিন বাজেটের বাইরে ছিল। অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সব মানুষের কাছে যেতে হবে। তাই আমরা প্রত্যেক গোষ্ঠীকে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে চাচ্ছি।’ 

উন্নয়নকাজের ব্যাপারে তিনি বলেন, আগে প্রজেক্ট করা হয়েছে নিজের পকেট ভর্তির জন্য। এমন এমন প্রজেক্ট করা হয়েছে যেগুলো কোনো প্রয়োজন নাই। যেগুলো ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ হয়েছে সেগুলো বাদ দিচ্ছে না। কিন্তু নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে চারটা জিনিস দেখা হচ্ছে। সেগুলো পূরণ করা হলেই পাস হবে। তা না হলে ফেরত দেওয়া হবে।