বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নতুন শর্ত আরোপ করায় বেনাপোল দিয়ে মাছ আমদানি কমেছে। নির্ধারিত শুল্কের চেয়ে বেশি আদায় করায় মাছ আমদানিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন আমদানিকারকরা।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মাছ আমদানি হয়েছিল ৩৫ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ১৭ হাজার ১১৮ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৮ হাজার ৩৭৫ টন কম আমদানি হয়েছে।
রবিবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুটি মাছবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সাতটি মাছবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।
স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে ১০-১৫ ট্রাক মাছ আমদানি হয়ে থাকে। সেখানে গত তিন দিনে মাত্র ৯ ট্রাক মাছ আমদানি হয়েছে। সরকারের প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার মতো রাজস্ব আসে মাছ আমদানি থেকে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সামুদ্রিক মাছে কেজিপ্রতি শুল্ক নির্ধারণ করেছে ৫০ সেন্ট মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৮ টাকা)। কিন্তু বেনাপোল কাস্টমস হাউস কেজিপ্রতি ৭৫ সেন্ট শুল্ক আদায় করছে বলে অভিযোগ। এতে প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত ২৫ সেন্ট বা প্রায় ২০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।
তবে রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারণ করা মিঠাপানির মাছে আগের শুল্ক বহাল রয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতি ট্রাকে ৮০ শতাংশ মিঠাপানির মাছ এবং ২০ শতাংশ সামুদ্রিক মাছ থাকতে হবে, এমন নতুন শর্ত দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এই শর্তে ভারত থেকে মাছ আমদানি করলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজের মালিক আল ফেরদৌস আলফা বলেন, ‘অতিরিক্ত শুল্ক ও অযৌক্তিক শর্তের কারণে আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। আগের তুলনায় ট্রাকপ্রতি মাছ আমদানিতে খরচ বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। ফলে লাভের পরিবর্তে লোকসানের ভাগই বেশি।’
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, ‘বেনাপোল বন্দর থেকে মাছ আমদানির খাতে সরকারের প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা রাজস্ব আসে। আগে গ্রস ওজন ১৩৫ কেজি থেকে বরফ এবং কার্টনের ওজন বাদ দিয়ে নিট ওজন ৬৬ কেজিতে শুল্কায়ন করা হতো। বর্তমানে গ্রস ওজন ১০০ কেজি থেকে নিট ওজন ৫৫ কেজি হিসেবে শুল্ককর পরিশোধ করতে হচ্ছে। সে হিসেবে আমদানিকারককে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। তাই মাছ আমদানি বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই।’
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার রাফেজা সুলতানা বলেন, ‘মাছ আমদানিতে বাধা নেই, মিঠাপানির মাছ ৮০ শতাংশ ও সামুদ্রিক মাছ ২০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে আমদানি করতে হবে এই তথ্য সঠিক নয়। মাছ ব্যবসায়ীরা মিঠাপানির মাছ ও সামুদ্রিক মাছ আমদানিতে যে ঘোষণা দেন, তার সঙ্গে আমদানি করা পণ্যের কোনো মিল থাকে না। যার ফলে গত সপ্তাহে আমদানি করা মাছের বেশ কয়েকটি চালানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছিল। মাঝে শুধু শনিবার (৯ আগস্ট) ভারত থেকে মাছ আমদানি হয়নি। রবিবার (১০ আগস্ট) দুই ট্রাক আমদানি হয়েছে। মাছ আমদানি স্বাভাবিক আছে। বৈধভাবে মাছ আমদানিতে কাস্টমস হাউসের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’
নজরুল ইসলাম/নাঈম