গুরুত্বপূর্ণ সারাংশ ও সারমর্ম
সারাংশ
১৫। আজকের দুনিয়াটা আশ্চর্যভাবে অর্থের বা বিত্তের ...................... কোনো সন্দেহ থাকে না।
সারাংশ: মানুষ বর্তমানে অর্থের নেশায় যতই ধাবিত হচ্ছে প্রকারান্তরে ততই সে আত্মহনন করে চলেছে। এ পথে এসে পেছনে ফেরার পথ নেই। তাই এখনই এ মরণ নেশা থেকে নিজেকে সংযত করা দরকার।
১৬। প্রকৃত জ্ঞানের স্পৃহা না থাকলে শিক্ষা ব্যর্থতায় পর্যবসিত ............... দিগন্ত উন্মোচিত হবে না।
সারাংশ: শিক্ষা অর্জনের ইচ্ছা না থাকলে তা কখনো একজন মানুষকে আত্মিক উন্নতি দান করে না। শিক্ষা আত্মস্থ করার বিষয়, মুখস্থ করার নয়। জ্ঞানচর্চার সুযোগবিহীন শিক্ষার্থী দেশ ও সমাজের কাছে বোঝাস্বরূপ। তাই তরুণ সমাজকে এক্ষেত্রে আরও এগিয়ে আসতে হবে।
১৭। রুপার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায় আর ক’টি লোক .................... বৈরাগ্যের স্থান নাই।
সারাংশ: পৃথিবীতে উন্নত জীবনযাপনের নিশ্চয়তা নিয়ে জন্মানো ব্যক্তির সংখ্যা নগণ্য। অধিকাংশ ব্যক্তিই চরম প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করে সফল হয়েছেন। সুখ চেষ্টার ফল। তাই জীবনে সফলতার জন্য চাই কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়।
১৮। সত্য ওজন দরে বা গজের মাপে .................. তাহারাই সজীব; তাহারাই দীপ্যমান।
সারাংশ: আকার বা পরিমাণগত বিচার সর্বক্ষেত্রেই হয় না। সত্য সুন্দর, তা অল্প হলেও তার ক্ষমতা ও ব্যাপ্তি বিশাল। আবার পর্বতপ্রমাণ খড়-বিচালি সামান্য অগ্নিস্ফুলিঙ্গের চেয়ে শক্তিশালী নয়। অনুরূপভাবে সমাজে যারা সত্যের আলো বিলিয়ে যাচ্ছে, নগণ্য হলেও তারাই দিশারি।
১৯। যাহারা নিজে নিজে চেষ্টা করেন, আল্লাহ তাহাদের ..................... জগতে উন্নতি করিতে পারে না।
সারাংশ: প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয়। আর এ পরিশ্রম অবশ্যই নিজেকে করতে হবে। অতীতে যারা বড় হয়েছেন তারা নিজেদের চেষ্টাতেই হয়েছেন। পরিশ্রম ছাড়া রাজার ছেলেরও বিদ্যা অর্জন অসম্ভব। সুতরাং অন্যের ওপর নির্ভর করে উন্নতি করা যায় না।
২০। জীবন বৃক্ষের শাখায় যে ফুল ফোটে তা-ই মনুষ্যত্ব ....................... হালকা মনে করে।
সারাংশ: মনুষ্যত্বের জাগরণে জীবনের পরিপূর্ণ সার্থকতা আসে। আর তার জন্য প্রয়োজন মানুষের অন্তরে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য, প্রেম ও আনন্দের উৎকর্ষ সাধন। একবার সেই অন্তরলক্ষ্মী জেগে উঠলে আধ্যাত্মিক সুষমায় মানুষের জীবন পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তার প্রতিফলনে জগৎ আলোকময় হয়ে দেখা দেয়।
সারমর্ম
১। ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা ......................... তৃণসম দহে।
সারমর্ম: ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ, কিন্তু তা যেন সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়, যেন অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেয়। কারণ অন্যায়কারী এবং অন্যায় সমর্থনকারী উভয়েই সমান অপরাধী।
২। আসিতেছে শুভদিন ............ আসে নব উত্থান।
সারমর্ম: মেহনতি মানুষের শ্রমে ও ত্যাগে গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা। আত্মত্যাগের মহিমায় তারা দেবতুল্য মানুষ হলেও সমাজ জীবনে এরা বঞ্চিত। কিন্তু পালাবদলের দিন এসেছে। এক দিন শ্রমজীবী মানুষেরাই বিশ্বে নবজাগরণের সূচনা করবে।
৩। কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক .................... আমাদের কুঁড়ে ঘরে।
সারমর্ম: বিবেকসম্পন্ন মানুষ যখন রিপুর নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে তখন শুরু হয় নরক যন্ত্রণা। পক্ষান্তরে মানুষে মানুষে প্রীতি ও প্রেমের সৌহার্দ্য সৃষ্টি হলে স্বর্গীয় সুখ অনুভব করা যায়। ফলে স্বর্গ নরকের ধারণা মানব কর্মেই নিহিত।
৪। এসেছে নতুন শিশু, তাকে ................... আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সারমর্ম: মৃত্যু চিরন্তন সত্য। নতুন শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনোকে বিদায় নিতে হবে, এটাই নিয়ম। তবে প্রবীণরা যতদিন জীবিত আছেন তাদের অবশ্যই নবীনদের বসবাস-উপযোগী করে তোলার জন্য জঞ্জাল পরিষ্কার করার অঙ্গীকার করতে হবে।
৫। একদা ছিল না জুতা চরণ যুগলে .......................... মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ?
সারমর্ম: মানুষ তার নিজের বর্তমান অবস্থাকে সহজে মেনে নিতে পারে না। তার কাছে নিজের কষ্টকেই অধিক মনে হয়। কিন্তু অন্যের বর্তমানকে নিজের বর্তমানের সঙ্গে সমগুরুত্ব দিয়ে দেখলে সহজেই তার উত্তর লাভ সম্ভব। যা নিজের দুঃখ-কষ্টকে ভুলিয়ে দেয়।
৬। নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ........................ পূর্ণ হবে তাহার কৃপাভরে।
সারমর্ম: নিন্দুকের ধর্মই অন্যের কুৎসা রটানো। কিন্তু এতে সে ঘৃণিত হওয়ার মতো অপরাধী নয়। কেননা অন্তর্দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সে-ই আমাদের পরম বন্ধু। কারণ তার রটনার ভয়ে আমরা সর্বদাই দূষণীয় কাজ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।
৭। হাস্য শুধু আমার সখা! .................. জানা তবেই কাঁদা ধন্য হয়।
সারমর্ম: শুধুমাত্র সুখ দিয়েই জীবনের পরিপূর্ণতা আসে না। নিজের ও পরের দুঃখ, ব্যাধি, যন্ত্রণা ও অশ্রুজলের মাঝ দিয়ে জীবনকে উপলব্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পাশাপাশি মহৎ কাজে আনন্দ অশ্রু বিসর্জন দেওয়ার মাঝেও জীবনের অন্য রকম এক সুখ নিহিত।
৮। বসুমতি, কেন তুমি এতই কৃপণা? ................. তাহে একেবারে ছাড়ে।
সারমর্ম: বিনা পরিশ্রমে ফসল উৎপাদনে পৃথিবীর গৌরব বাড়লেও মানুষের ক্ষমতা ম্লান হয়ে যায়। মনে রাখা উচিত, করুণার দান গ্রহণে গৌরব থাকে না। বরং পরিশ্রম ও কাজের মাধ্যমে কিছু অর্জনের মধ্যেই রয়েছে যথার্থ গৌরব।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর