ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা কম-বেশি সবাই করে থাকেন। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা চাকরিজীবীরাও একটি সফল ক্যারিয়ারের স্বপ্নে বিভোর থাকেন। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বা ক্যারিয়ার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় পিছিয়ে পড়েন বেশিরভাগই। সফল ক্যারিয়ারের জন্য শুধু দক্ষতা থাকাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এবং কৌশলগত পরিকল্পনাও প্রয়োজন।
বর্তমানের এই প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে নিজেকে সফলভাবে গড়ে তুলতে সফল একটি ক্যারিয়ার প্রয়োজন। আর সেই ক্যারিয়ারকে সাজাতে প্রয়োজন একটি সুন্দর পরিকল্পনা।
নিজের সম্পর্কে জানুন: ক্যারিয়ার প্ল্যানিংয়ের প্রথম ধাপটাই হলো নিজেকে জানা। আপনার প্রয়োজন, চাহিদা, দক্ষতা, সামর্থ্য, আকাঙ্ক্ষা, প্রতিভা, আগ্রহ ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখাটা জরুরি।
নিজেকে মূল্যায়ন করুন: আপনি কত বেতন বা স্যালারি আশা করছেন তার সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক দক্ষতা এবং পরিশ্রম করা সত্ত্বেও আশানুরূপ স্যালারিটা অনেকে পান না। এতে চাকরিজীবনে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী নিজেকে মূল্যায়ন করতে পারাটা জরুরি। সেই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকাটাও জরুরি। আপনি একাকী কাজ করতে চান নাকি দলগত কাজে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সমাজ এবং দেশের প্রতি আপনার কাজের প্রভাব কতটা বা আপনি কীভাবে প্রভাব রাখতে চান, এ সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।
আগ্রহ মূল্যায়ন: কাজের ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি, পছন্দ-অপছন্দের জায়গাটা জানতে হবে। কেননা সেই অনুযায়ী যদি আপনি ক্যারিয়ার নির্বাচন না করেন, তা হলে কর্মক্ষেত্রে প্রেষণা আসে না। আপনি অনুসন্ধানী, বাস্তবসম্মত, সামাজিক, শৈল্পিক, উদ্যোগী- নাকি প্রচলিত ধারার ক্যারিয়ার চান, সেই সিদ্ধান্ত অবশ্যই আপনার আগ্রহের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া উচিত।
ক্যারিয়ার রিসার্চ এবং বিশ্লেষণ: নিজের যোগ্যতা, গুণাবলি এবং দক্ষতার জায়গা চিহ্নিত করার পর কোন ধরনের ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি এগোতে চান, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনার চাহিদা অনুযায়ী আপনার পছন্দের সম্ভাব্য ক্যারিয়ার অপশনগুলো নিয়ে একটি তালিকা বা লিস্ট তৈরি করে নিতে পারেন। অবশ্যই কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, দায়িত্ব, নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি, অগ্রগতির বিষয়গুলো মাথায় রেখেই লিস্টটি করতে হবে।
ক্যারিয়ার নির্বাচন: ক্যারিয়ার নিয়ে রিসার্চ ও বিশ্লেষণ দুটোই শেষ। এবার চূড়ান্তভাবে ক্যারিয়ার নির্বাচনের পালা। চাইলে ক্যারিয়ার অপশনগুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজিয়ে নিতে পারেন। আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই ক্যারিয়ার অপশনগুলো আপডেট করার চেষ্টা করবেন। একই ধরনের বিকল্প ক্যারিয়ারগুলো সম্পর্কে ভাবতে ভুলবেন না।
চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ: ক্যারিয়ার নির্বাচন করা হয়ে গেলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি-
- স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ
- চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
- অগ্রগতি বিশ্লেষণ
চাকরি অনুসন্ধান: ক্যারিয়ার প্ল্যানিং অনুযায়ী এবার চাকরি খোঁজার পালা। নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার আগে তা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য উপযুক্ত কি না, তা অবশ্যই খেয়াল করতে হবে। আবেদনের জন্য আরও কোনো স্কিল অর্জন করা দরকার কি না, সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে। একটি সুন্দর ও আপডেটেড সিভি এক্ষেত্রে আপনাকে অন্যদের থেকে আরও এগিয়ে রাখতে পারে।
তারেক