ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

দর্শকশূন্যতায় ডুবল দেশের ৫ সিনেমা

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৬ এএম
দর্শকশূন্যতায় ডুবল দেশের ৫ সিনেমা

বাংলা সিনেমার দুর্দিনের কথা কম-বেশি সবারই জানা। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলে অনেকেই মনে করতে পারেন, হয়তো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশীয় সিনেমা। খোঁজ করলে দেখা যাবে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন সিনেমার শুটিং হচ্ছে দেশের আনাচে-কানাচে। সেগুলো আবার নিয়মিত মুক্তিও দেওয়া হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহে। এতে কি ঢালিউডের মরচে পড়া কপাল থেকে শনির দশা কাটছে? এর সদুত্তর দিতে পারেননি কেউই। এসব সিনেমাসংশ্লিষ্টরা ঢাকাঢোল পিটিয়ে জানান দিচ্ছেন, তারা এবং তাদের সিনেমাই সেরা। অন্যদিকে সমালোচকরা এসব সিনেমাকে আবার সিনেমা বলতেও নারাজ। এসব তর্ক-বিতর্ক পেছনে রেখে দর্শক কিন্তু মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন মানহীন এই সিনেমাগুলো থেকে। এ কারণে সিনেমায় টাকা লগ্নি করে প্রযোজক পথে বসছেন। সিনেমা থেকে মোট খরচের একভাগও ফেরত পান না প্রযোজক। ভারাক্রান্ত মনে অনেকেই গণমাধ্যমকে তাদের নিঃস্ব হওয়ার কথা বলেছেন বহুবার। এ জন্য নতুন প্রযোজক এলেও একটি সিনেমার পর অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নেন ঢালিউড থেকে।

অনেক প্রযোজক এর আগে গণমাধ্যমে বলেছেন, সিনেমার পরিচালকরা নানান স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের সিনেমায় নিয়ে আসেন। পরে তাদের কথা ও কাজের কোনো মিল পাওয়া যায় না।

চলতি মাসে মুক্তি পেয়েছে দেশীয় পাঁচ সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’, ‘ট্র্যাপ’, ‘ছায়াবৃক্ষ’, ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ ও ‘টালমাতাল’। ৯ ফেব্রুয়ারি নুরুল আলম আতিকের পরিচালনায় জয়া আহসান অভিনীত ‘পেয়ারার সুবাস’ মুক্তি পায় দেশের ২৭ প্রেক্ষাগৃহে। মুক্তির আগেই সিনেমার প্রিমিয়ার শোয়ে যোগ দিতে যাওয়ার সময় মারা যান অভিনেতা আহমেদ রুবেল। এরপর সিনেমাটির স্বাভাবিক প্রচারে বিঘ্ন ঘটে। শোক নিয়ে পরিচালক অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।

একই তারিখে মুক্তি পায় ‘ট্র্যাপ’। অপু বিশ্বাস ও জয় চৌধুরী জুটির দ্বিতীয় সিনেমা এটি। পরিচালনা করেছেন দ্বীন ইসলাম। এ সিনেমাটি একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। চা-শ্রমিকদের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘ছায়াবৃক্ষ’। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন বন্ধন বিশ্বাস। এতে জুটিবদ্ধ হয়েছেন নিরব ও অপু বিশ্বাস। এ সিনেমাটিও মুক্তি পায় ১৬ ফেব্রুয়ারি। সিনেমাটির প্রচার জোরালো হলেও মুক্তির পর দর্শকশূন্যতায় ডুবেছে এটি। একই তারিখে মুক্তি পায় দীঘি অভিনীত সিনেমা ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’। আব্দুস সামাদ খোকন পরিচালিত সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটিতে দীঘির বিপরীতে রয়েছেন গাজী আবদুন নূর। কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে ছবিটি। মুক্তির এক সপ্তাহও চলেনি অধিকাংশ প্রেক্ষাগৃহে। কোনো কোনো সিনেমা হল থেকে মুক্তির দুদিন পরই নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মোট ৭ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ‘টালমাতাল’। হাবিব খানের পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন কাজী হায়াৎ, দেশ ইসলাম, জারা প্রমুখ। প্রচার ছাড়াই নীরবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে ছবিটি। দর্শক তো দূরের কথা, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিনেমাসংশ্লিষ্টরাও এ ছবি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না।

চলতি মাসে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশি পাঁচ সিনেমা নিয়ে কথা বলেছেন দেশের বিভিন্ন সিনেমা হল মালিক এবং ব্যবস্থাপকরা। এসব সিনেমা নিয়ে ব্যবসা প্রসঙ্গে খবরের কাগজকে তারা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শ্যামলী সিনেমা হলের ম্যানেজার আহসানুল্লাহ বলেন, ‘পেয়াবার সুবাস’, ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ সিনেমাগুলো তেমন চলেনি। আমাদের সিনেমায় দুদর্শা চলছে। ব্যবসায়িক সিনেমা এখন আসছে না। এখন শ্যামলীতে পুরাতন ছবি ‘প্রিয়তমা’ চালাচ্ছি। তবে পুরাতন ছবি আর কত রিপিট করা যায়? প্রথম কদিন ‘পেয়ারার সুবাস’ ভালোই চলেছে। তবে দ্বিতীয় সপ্তাহ টানতে পারেনি। আর ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ এক সপ্তাহও চালাতে পারিনি। দুদিন পর সেটি নামিয়ে ‘প্রিয়তমা’ চালাচ্ছি।’

খুলনা সংগীতা সিনেমা হলের ম্যানেজার বাবু বলেন, ‘ট্র্যাপ এক সপ্তাহ চালিয়েছি। সেল রিপোর্ট একদমই ভালো না। খবরে দেখেছি, অনেক হল থেকেও দু-তিনদিন পরই ছবিটা নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এই রকম ছবি দর্শক কেন দেখবে! একমাত্র অপু বিশ্বাস ছাড়া আর কোনো ভালো আর্টিস্ট নাই এখানে। আর যদি নায়ক ভালো না হয়, তাহলে দর্শক কীভাবে সিনেমা দেখবে? ‘প্রিয়তমা’ কিন্তু আমরা আট সপ্তাহ চালিয়েছি। ‘পরান’, ‘হাওয়া’ অনেক সপ্তাহ চালিয়েছি। ছবিতে আসলে জোর থাকতে হয়। সিনেমা যদি নাটক, টেলিফিল্মের মতো হয়, তাহলে সমস্যা। এসব ছবি দর্শক দেখতে চায় না। ‘ট্র্যাপ’ এক সপ্তাহ চালিয়ে মাত্র ২০ হাজার টাকা তুলেছি। বিদ্যুৎ বিলের খরচও ওঠেনি। ২০ হাজার টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে ছবির প্রযোজক, মাইকিং, পোস্টারিংয়ে খরচ হয়েছে ৩ হাজার। আটজন স্টাফ আছে, বাকি ৭ হাজার টাকায় কীভাবে খরচ ওঠে?  সিনেমা হল এ জন্যই বন্ধ করে দেই আমরা। খুব কষ্টে আছি। এগুলো জাতের কোনো ছবি না। সবচেয়ে বেশি খারাপ হচ্ছে, সরকারের কাছে অনুদান নিয়ে যে সিনেমা বানাচ্ছে এগুলো। সরকারের কাছে টাকা নিয়ে তাইরে-নাইরে করে আবোল-তাবোল দিয়ে ছবি বানিয়ে সিনেমা হলে রিলিজ করে। এসব ছবি কেউ দেখে না। দুই চারটা হলে চালিয়ে সরকারকে দেখায়।’

চট্টগ্রাম সুগন্ধা সিনেমা হলের কর্ণধার সাইফ বলেন, “আমার সিনেমা হলে এখন ‘মুজিব’ চলছে। এ মাসে ‘পেয়ারার সুবাস’ ও ‘ছায়াবৃক্ষ’ দুইটা নতুন সিনেমা চালিয়েছি। সিনেমা দুটি ভালো চলে নাই। ভালো চললে দুই সপ্তাহ চালাতাম। আমাদের খরচও ওঠেনি।”

কেরানীগঞ্জ লায়ন সিনেমাস কর্তৃপক্ষ বলেন, ‘ছায়াবৃক্ষ ও শ্রাবণ জ্যোৎস্নায় সিনেমা দুটি চলছে আমাদের এখানে। আমাদের কালেকশন ওভাবে কাউকে বলি না। তবে আনফরচুনেটলি যদি বলতে হয়, সিনেমা দুটি তেমন চলছে না। বাংলা সিনেমা নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অনেক, কিন্তু সিনেমা দুটি দাঁড়াতেই পারেনি। আমাদের আশা পূরণ হয়নি।’

চলতি মাসে মুক্তি পাওয়া দেশের এই সিনেমাগুলো দর্শক তো টানতেই পারেনি, বরং হতাশ হয়েছেন বাংলা সিনেমার দর্শকরা। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় সিনেমা একসময় স্মৃতি হয়ে যাবে।

জাহ্নবী

 

ঈদে মিউজিক‍্যাল ফিল্ম আত্মহারা

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০৪ পিএম
ঈদে মিউজিক‍্যাল ফিল্ম আত্মহারা
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে মিউজিক্যাল ফিল্ম আত্মহারা। মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে গানটির চিত্রায়ন হয়েছে। এতে মডেল হয়েছেন মোহাম্মদ আসফাক রানা, জেবা জান্নাত, সানি নভো ও রোমান হাসনাত।

গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ফাইকুজ্জামান, লিখেছেন লিটন ঘোষ জয়, সুর ও সঙ্গীত আয়োজনে ছিলেন পার্থ মজুমদার। গল্প, চিত্রনাট‍্য ও পরিচালনা করেছেন সূর্য আহমেদ মিঠুন।

আত্মহারা নিয়ে পরিচালক সূর্য আহমেদ মিঠুন বলেন, আমি সব সময় চেষ্টা করি দর্শকদের ভিন্ন কিছু উপহার দেওয়ার। সেই ধারাবাহিকতায় একটি মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্প নিয়ে নির্মাণ করেছি আত্মহারা মিউজিক্যাল ফিল্ম। আশা করি দর্শক গানটি দেখে মুগ্ধ হবে।

নির্মাতা জানান, বুধবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় টাইগার মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে গানটি অবমুক্ত করা হবে।

রাবেল/সালমান/

ক্যান্সার আক্রান্ত অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়ালেন ফারহান

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:১৯ পিএম
ক্যান্সার আক্রান্ত অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়ালেন ফারহান

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহান। কেবল অভিনয় নয়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর জন্যও তার সুনাম রয়েছে। সহকর্মী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি জায়গায় করে নিয়েছেন অসংখ্য মানুষের মনে। তার প্রমাণ পাওয়া গেল আরও একবার। ছোটপর্দার পরিচিত মুখ আফরোজা হোসেন গত দুই বছর ধরে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত। শুরু থেকে দেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে তাকে ভারতে নেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে ভারতের চিকিৎসক জানান তার ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মেরুদণ্ডর নার্ভের জরুরি একটি অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু আর্থিক সঙ্কটের কারণে নিজের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় তার পাশে দাঁড়ালেন ফারহান। আফরোজার চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন নগদ ২ লাখ টাকা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দীর্ঘ একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন আরেক অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। তিনি লিখেন, ফারহান-এর সঙ্গে শুটিং চলাকালীন আফরোজা আপার অসুস্থতার কথা কিছুটা বলি। এরপর তিনি আগেব প্রবণ হয়ে পড়েন। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন মিঠু আপা কত টাকা কম পরেছে?! আমি তাকে বলি সম্ভবত ২ লাখ রুপি। এরপর ফারহান ৩০ সেকেন্ডের মতো ভেবেই আমার হাতে ২ লাখ টাকা ক্যাশ দিয়ে দিলেন। তখন গ্রিনরুমে উপস্থিত আমাদের সবার চোখে পানি। সঙ্গে সঙ্গে আফরোজা আপার ছেলেকে ফোন করে ফারহানকে ধরিয়ে দিলাম, আপার ছেলে নাঈম হাউমাউ করে কাঁদছে। তখন ফারহান আপন ভাইয়ের মতো সান্ত্বনা দিচ্ছে। ফারহান এবং তার পরিবারের জন্য আমাদের কলিজার ভেতর থেকে দোয়া ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে। আফরোজা আপাও ভালো আছেন। আল্লাহ মহান, এভাবেই মানবতার জয় হোক।’

উল্লেখ্য, এর আগে মুশফিক আর ফারহান তার ম্যানেজার কাম সহকারী রওশন আলম রায়হানের মৃত্যুর পর তার দিশেহারা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তার প্রয়াত সহকারীর স্বপ্ন পূরণে ঈশ্বরদীর (পাবনা) চরকুরুলিয়া গ্রামে একতলা ছাদের চার রুমের একটি বাড়ি বানিয়েছেন দিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি ছোট পর্দার জ্যেষ্ঠ অভিনেতা আলাউদ্দিন লাল-এর চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছিলেন। এছাড়াও আড়ালে তিনি অসংখ্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক অভিনেতা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন।

ঈদে চারটি নাটক  ও দুটি গান নিয়ে এসেছে লেজার ভিশন

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১০ পিএম
ঈদে চারটি নাটক  ও দুটি গান নিয়ে এসেছে লেজার ভিশন

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বরাবরের মতো লেজার ভিশন এবারও চারটি নাটক ও দুটি গান প্রকাশ করতে যাচ্ছে।

এ আয়োজনে নাটকেগুলো হলো এল আর সোহেলের রচনা ও পরিচালনায় ’তুমিই শুরু তুমিই শেষ’ শিরোনামে নাটকটি অভিনয় করেছেন আরশ খান,তানিয়া বৃষ্টিসহ অনেকেই। জুয়েল এলিনের রচনায় ও সকাল আহমেদের পরিচালনায় ’ভাঙ্গা জামাই’ শিরোনামে নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, তানিয়া বৃষ্টিসহ অনেকেই। সোহেল আরমানের রচনা ও পরিচালনায় ’নয়নের পাখি’ শিরোনামের নাটকটিতে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা ,সামিরা খান মাহি, সুমুসহ অনেকেই। আহসান আলমগীর রচনায় জিয়াউদ্দিন আলম পরিচালনায় ’বিয়ে বাড়ির আবদার’ শিরোনামের নাটকটিতে অভিনয় করেছেন রশিদ সীমান্ত ,অহনাসহ অনেকে। 

এছাড়া এ সময়ের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ঐশীর গাওয়া ’স্টেশন’ শিরোনামের গানটি লিখেছেন সোমেশ্বে’র অলি সুর করেছেন বেলাল খান। আরেক জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী মাহতিম শাকিবের  গাওয়া ’তোমার এক কথায়’ শিরোনামে গানটি লিখেছেন ও সুর  আব্দুল কাদের , সংগীতায়োজন করেছেন আহমেদ সজিব।

কলি

ঈদে সাবরিনা বশিরের ' মনের কথা'

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩২ পিএম
ঈদে সাবরিনা বশিরের ' মনের কথা'

ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে কণ্ঠশিল্পী সাবরিনা বশিরের ‘মনের কথা’ শিরোনামের নতুন একটি গানের মিউজিক ভিডিও। রোমান্টিক ধাঁচের গানটিতে সাবরিনা বশিরের সঙ্গে রেপ করেছেন রিজান।

গীতিকার প্রশনজিতের কথায় গানটি সুর করছেন আপন খান। গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছেন সিমন আহমেদ। গানটির ভিডিও পরিচালনা করেছে সৌমিত্র ঘোষ ইমন।

সাবরিনা বশির বলেন, সবসময় চেষ্টা করি শ্রোতাদের ভালো গান উপহার দেয়ার। গান দিয়েই শ্রোতাদের মনে সারা জীবন বেঁচে থাকতে চাই। তাই শ্রোতাদের চিন্তা করে আমার নতুন এই গানটি করা। আশা করছি, আমার অন্য সব গানের মতোই নতুন গানটি সবার ভালো লাগবে।

জানা গেছে,  গানটি সাবরিনা বশিরের এসবি এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউবে ঈদ উপলক্ষে প্রকাশ পাবে।

জাহ্নবী

ঢালিউড হাতছাড়া হতে পারে কিং খানের

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৫ পিএম
ঢালিউড হাতছাড়া হতে পারে কিং খানের
শাকিব খান

পবিত্র ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খান অভিনীত ‘রাজকুমার’। এরই মধ্যে বেরিয়েছে ছবির তিনটি গান। সেসবের প্রতিক্রিয়া, গত ঈদের ‘প্রিয়তমা’ ও ঢালিউডের সাম্প্রতিক হালচাল বিবেচনায় পূর্বাভাসমূলক এ ফিচার। লিখেছেন রাসেল মাহ্‌মুদ

ঢাকার প্রেক্ষাপটে শাকিব খান একটা সোনার খনি। তবে এই খনি থেকে পরিপূর্ণ রূপে সোনা তুলে আনা নানান কারণে মুশকিল। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে, সম্ভবত সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পরিচালক জয়দেব মুখোপাধ্যায়। ‘শিকারি’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল, কীভাবে খনি থেকে তুলে আনা সোনায় নির্মাতা বুনেছেন একটি বিনোদনমূলক চলচ্চিত্র। এরপর, কী যে হলো শাকিবের!

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, প্রচার-প্রচারণা, ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা, আসছে – শাকিব খান অভিনীত নতুন সিনেমা! প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখা যায়, ফুট্টুস। শেষ সিনেমার থেকেও নিম্নমানের একটা কাজ প্রস্তুত করে বসে আছেন পরিচালক। যে ছবি না বানালেও কিছু হতো না। যে ছবি দেখতে গিয়ে সময় ও অর্থ দুইই নষ্ট। যে ছবি নিয়ে অযথাই বাক্যব্যয় অনলাইন ও অফলাইনে, সে ছবি বানিয়ে হলো কতগুলো অর্থের অপচয়। লাভ হলো কার? শাকিবের। ক্ষতি হলো কার? বিশ্বাসভঙ্গ কি আদৌ কোনো ক্ষতি? ধরা যাক ‘প্রিয়তমা’র কথা। এখানে আসলে কী দেখানো হয়েছে, এই ছবি নিয়ে এত শোরগোল হলো? ২০২৩-২৪ সালে এসেও কেন একে আমরা একটি চলচ্চিত্র বলব? মানুষের সময় কী এতই মূল্যহীন? কিংবা বারবার কেন আমরা প্রচার-প্রচারণায় বিশ্বাস করে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে প্রতারিত হয়ে ফিরব?

একটা ছবি মন্দ, সেই দোষ শাকিবের কাঁধে চাপানো যায় না। কারণ পরিচালকই হচ্ছেন সিনেমার মা-বাপ। তাকে বলতে ও জানতে হবে যে, শাকিব খান, হয়নি, শটটা আবারও দিতে হবে! তাকে বাছাই করতে হবে কাজ করিয়ে নেওয়ার মতো গল্প। গল্পই সিনেমাকে ‘সিনেমা’ করে তোলে। কিন্তু শাকিব খানের সিনেমার কোন গল্পটা আদতে নতুন? কোন আঙ্গিক থেকে নতুন? একটা নতুন গল্পের নায়ক হিসেবে তাকে দেখার ইচ্ছে কি ঢাকার দর্শকদের হয় না? সেই প্রেম, মারপিট, গান ও গ্ল্যামারের ফরমায়েশি ছবির দিনে এখনো আর আছে? মানুষের হাতে হাতে মুঠোফোন, বাড়িতে ব্রডব্যান্ড সংযোগ। এফটিপি সার্ভারে থরে থরে সাজানো সারা পৃথিবীর সিনেমা। সাবটাইটেল তো আছেই, কোনো কোনোটা আবার বাংলায় ডাব করা। ওটিটিগুলোতে বৈচিত্র্যপূর্ণ সব গল্পের সমাহার! আমরা আমাদের নায়ককে কেন ওরকম ব্যতিক্রম ছবিতে দেখতে পাই না? বলিউডের শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ বা ‘জওয়ান’ কিন্তু অনেকটাই ফর্মুলা সিনেমা। ওসব ছবিতেও নাচ-গান-মারপিট আছে। গতি-আবেগ-কমেডিরও কমতি নেই। কিন্তু চমৎকার একটা গল্প আছে সেখানে। গল্পের আড়ালে আছে গল্প, বার্তা, সতর্কতা, সাহসিকতা, রাষ্ট্রযন্ত্রকে চোখ রাঙিয়ে বলা হয়েছে যে, অমুক জায়গায় তুমি ব্যর্থ হচ্ছো! নায়ক বা প্রযোজক শাকিব খানকে কেন ওরকম জায়গায় দেখা যায় না?

দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই প্রশ্নগুলো দেশের ভেতর থেকে ওঠে না। আন্তর্জাতিক তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে নিয়েও নানান সমালোচনা করা যায়, তার কর্মকাণ্ড নিয়ে নানান প্রশ্ন তোলা যায়। কিন্তু জাতীয় তারকা শাকিব খানকে নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা করলে ‘খবর আছে’। অবশ্য গত মাসে ঢাকার বাইরে থেকে তোপ দেগেছেন এক প্রযোজক। শাকিবের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সর্বশেষ ও সর্বতীক্ষ্ণ তোপ। টালিউডের নামকরা প্রযোজক রানা সরকার গণমাধ্যমকে বলেছেন, জনপ্রিয় হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শাকিবের সিনেমার দর্শকপ্রিয়তা নেই। এই নায়ক যদি অভিনয়ের দিকে আরও মনোযোগ দিতেন, তা হলে ভালো হতো।

সরকার বাহাদুরকে ধন্যবাদ। টাকা লগ্নি করা লোকদের এভাবেই বলা উচিত। আমাদের দেশে এরকম হয় না। ঢালিউড এক প্রকার প্রযোজকশূন্য ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। আগের মতো সিনেমা অন্তপ্রাণ প্রযোজক এখন আর নেই। অনেকে বলেন, প্রযোজকদের বোকা বানিয়ে ঢালিউড থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এখন অন্য ব্যবসা করেন। যে দু-একজন এখনো আছেন, তারা নিজেদের মতো করে সিনেমা নিয়ে ভাবছেন। যেমন, নতুন করে শাকিবকে নিয়ে কাজ শুরু করেছেন মতিউর রহমান ও আরশাদ আদনান। তাদের প্রযোজনা সংস্থা চরকি ও ভার্সেটাইল মিডিয়া শাকিবকে নিয়ে বানাচ্ছে নতুন সিনেমা ‘তুফান’ ও ‘রাজকুমার’। এ দুই প্রযোজকের প্রচারযন্ত্র আরও শক্তিশালী। তারা ঢাকঢোল পেটালে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দর্শক নিজ গৃহে ও প্রেক্ষাগৃহে বসে সিনেমা দেখবেন। ব্যাপারটা অনেকটা বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খাওয়ার মতো। মুশকিল হলো, ছবি দেখা যাবে, কিন্তু কেমন হবে, সেটা বলা যাবে না। বিশেষ করে ‘প্রিয়তমা’র মতো সিনেমা নিয়ে কোথাও কোনো সরলরৈখিক রিভিউ চোখে পড়েনি। যা দেখা গেছে, তার বেশির ভাগই উচ্চকিত প্রশংসা।

শাকিবের কাঁধে অন্য একটা দোষ চাপানো যায়। সেটা হচ্ছে, নিজের সিনেমার গল্প তিনি নিজেই বাছাই করেন। গল্প বাছাইয়ে তাকে কি খুব বেশি দক্ষ বলা যাবে? কিংবা প্রযোজক হিসেবে তিনি কি ভালো কলাকুশলী নিয়ে কাজ করেছেন? তার সর্বশেষ ছবিগুলোর গল্প ও নির্মাণে তাকালে এসব প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে।

শাকিব খানের অগ্রগতিতে অন্যতম বাধা ঢালিউডের একশ্রেণির বিনোদন সাংবাদিক। যাদের দায়িত্ব ছিল শাকিবের চোখে আঙুল দিয়ে ভালো-মন্দ দেখিয়ে দেওয়া, তারা সেটা করেননি। গঠনমূলক সমালোচনার বদলে তারা শাকিব খানের নিন্দা ও ব্যক্তিগত দোষ-ত্রুটি নিয়ে মুখর হয়েছেন অন্ধকার গলিতে। কোনো আলোকোজ্জ্বল আসরেও নয়। অভিনয়ে শাকিব উত্তম কুমার না অধম কুমার, তারও চেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন তার স্ত্রীর সংখ্যা, প্রেম ও যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে। অন্যদিকে অনলাইন, পত্রিকা ও টিভিতে নায়কের জীবনকে নায়োকোচিত তোলাই যেন তাদের দায়িত্ব। তারা যেন এক একজন নায়কের ব্যক্তিগত প্রচারসচিব। এমন নগ্ন ও নির্লজ্জ প্রচার তারা করেছেন, যেন রাজ্জাক, সালমান শাহ, মান্নার চেয়েও বড় হিরো শাকিব খান!

সংখ্যার বিচারে শাকিব ঢালিউডের অন্য অনেক হিরোর চেয়ে এগিয়ে আছেন, তাতে সন্দেহ নেই। এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও অনেকটা এগোতে সাহায্য করবে। কিন্তু সে জন্য তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী হতে হবে, পরামর্শক বদলাতে হবে, অযৌক্তিক প্রশংসার লোভ সংবরণ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কেন তার চিরাচরিত ফ্যামিলি ড্রামা-মার্কা সিনেমা থেকে বেরিয়ে এলেন? তিনিই বলেছিলেন, ‘দর্শক আমাকে ছুড়ে ফেলার আগেই আমি নিজেকে বদলে ফেলেছি।’ ঢালিউডের শতাধিক সিনেমা করা শাকিব খানকেও এই উপলব্ধিতে পৌঁছাতে হবে। নয়তো, সামনে ব্যতিক্রম দিন অপেক্ষা করছে। পশ্চিমবঙ্গের অভিনয়শিল্পীদের বাজার হিসেবে পুরোপুরি প্রস্তুত ঢালিউড হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে কিং খানের।

জাহ্নবী