পেজো তাদের ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক বাহন ‘পেজো ১০৩’ আবারও বাজারে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। তবে যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার আর পেট্রল ইঞ্জিনে নয়, জনপ্রিয় এই দুই চাকার বাহনটি আসছে আধুনিক বৈদ্যুতিক সংস্করণে।
১৯৭১ সালে প্রথম বাজারে আসার পর ইউরোপে মোপেডটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর সহজ গঠন, সাশ্রয়ী দাম ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে এটি তরুণদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ফ্রান্সে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়ায় পেজো ১০৩ মডেলটি। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর সেই ঐতিহ্যকে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনছে ফরাসি অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন বৈদ্যুতিক পেজো ১০৩ মডেলটি মূলত শহরের রাস্তায় চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। এটি উচ্চগতির বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবে না। বরং এর মূল লক্ষ্য দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ ও আরামদায়ক করা। জানা গেছে, এতে ১.৬ অথবা ২.২ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি প্যাক ব্যবহার করা হতে পারে। ছোট আকারের এই ব্যাটারি খুলে আলাদাভাবে চার্জ দেওয়ার সুবিধা থাকবে, যা শহুরে চালকদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। একবার চার্জে এটি শহরের ভেতরে স্বল্পদূরত্বের পথ পাড়ি দেওয়ার মতো যথেষ্ট সক্ষম থাকবে। নকশার দিক থেকে পেজো পুরোনো মডেলের আদল ধরে রেখেছে। একে বলা হচ্ছে ‘রেট্রো লুক’। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক এলইডি লাইটিং ও উন্নত ইলেকট্রনিক ফিচার। বাহনটিতে কোনো প্যাডেল দেখা যায়নি। তাই এটি দেখতে মোপেড হলেও কাজ করবে অনেকটা স্কুটারের মতো। পেজোর ‘এসপিএক্স’ কনসেপ্টের প্রযুক্তির ব্যবহার এতে দেখা যেতে পারে।
শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব ও ছোট বাহনের চাহিদা এখন তুঙ্গে। এমন সময়ে পুরোনো নস্টালজিয়াকে কাজে লাগিয়ে পেজোর এই ফিরে আসা একটি চতুর ব্যবসায়িক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। নতুন প্রজন্মের চালকদের কাছেও এটি একটি আকর্ষণীয় বাহন হতে পারে।