একুশের বইমেলার জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার হাট নয়, এটা বড় আনন্দের জায়গা। বইমেলা অন্যান্য মেলার মতো নয়। বইমেলার সঙ্গে আমাদের জাতীয় চেতনা জড়িত। ভাষা আন্দোলনের সেই চেতনা ধরে রাখার জন্যই আমাদের এই বইমেলা।
কবিতার বাইরে এবার বইমেলায় আমার উপন্যাস ‘খুন হলো কালিদাস’ প্রকাশ হতে যাচ্ছে। মহাকবি কালিদাসকে ঘিরেই এই উপন্যাস। কালিদাসের জীবনী নিয়ে আস্থা রাখার মতো বাজারে তেমন বই নেই। কালিদাসকে নিয়ে সমৃদ্ধ ও তথ্যবহুল উপন্যাস হবে বলে দাবি করি।
আগের দিনে বাংলা একাডেমিতে ছোট পরিসরে মেলা হতো। এখন বইমেলার ব্যাপ্তিটা অনেক বেড়েছে। প্রকাশনা এবং বইয়ের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। কিন্তু বইয়ের মান ভালো হচ্ছে না। বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে লেখার মান ও বাঁধাই ভালো হচ্ছে না। বইগুলো একেবারেই সম্পাদনা ছাড়া প্রকাশ করা হচ্ছে। বইমেলায় মানবহির্ভূত অনেক বই বের হয়, যা উচিত নয়। পাঠকের রুচি তৈরি করতে লেখক ও প্রকাশকের দায় আছে। পাঠক কোন বই পড়লে তার মননের বিকাশ ঘটবে, সে ব্যাপারে লেখক ও প্রকাশকের সতর্ক থাকা দরকার। দু-চারটি বড় প্রকাশনা ছাড়া বেশির ভাগেরই সম্পাদনা পরিষদ নেই।
মুদ্রিত বই পড়ার মধ্যে অন্য রকম আনন্দ রয়েছে। সেই আনন্দ ডিজিটাল বইয়ে পাওয়া যাবে না। বইকে ডিজিটালাইজড করতে হলে তা বই থেকেই নিতে হবে। তার মানে মুদ্রিত বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। মুদ্রিত বই হয়তো বিভিন্ন ফর্মে আসবে এবং আরও আধুনিক হবে।
কবিতার বই মানুষ কম পড়ে, এই অভিযোগ পুরোনো। কবিতার বই প্রকাশ করতে প্রকাশকরাও অনীহা প্রকাশ করেন। তাই বলে কবিতার বই প্রকাশ তো থেমে নেই। হীরার দাম সব সময় বেশি থাকে। নামকরা কবির বইও দ্বিতীয় মুদ্রণ হয়েছে, এমন ইতিহাস কম। কিন্তু বইমেলায় একটি বিষয় লক্ষণীয়, তা হলো কবিতার বই বেশি প্রকাশ হয়। কবিতার বই যদি নাই-বা চলে, তাহলে এত কবিতার বই বের হয় কেন? সেটা ভাববার বিষয়। অর্থাৎ কবিতার বইয়ের অবশ্যই পাঠক আছে। কবিরা সব সময় তারুণ্যের প্রতীক। কবিরাই সাহিত্যকে আলোড়িত করে রাখেন।