শিশু-সাহিত্যে এক নতুন সংযোজন শিশুতোষ গল্পের বই ‘জ্যামিতি বক্সের জ্বর’। শিক্ষণীয় ও অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা একটি চমৎকার বই। আমি কবি ও শিশু-সাহিত্যিক জামসেদ ওয়াজেদের শিশু-সাহিত্যের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত। তার হাত দিয়ে এত ভালো গল্প আসবে—এটি অকল্পনীয় নয়। গল্পটি পড়তে পড়তে কখন যে ছোটবেলার হারিয়ে যাওয়া জ্যামিতি বক্সের স্মৃতিতে ডুবে গেলাম, বুঝতেই পারিনি। গল্পটি সম্পর্কে বলতে গেলে অল্প কথায় একটি সারমর্ম দাঁড়িয়ে যায়।
গল্পের শিশু-নায়ক অর্ণব স্কুলে ভর্তি হয়েছে মাত্র। সে আঁকতে খুব পছন্দ করে। তার দুই সহপাঠী সোহান ও জাফিয়াও তার মতো আঁকতে ভালোবাসে। একদিন অঙ্কন শিক্ষিকা এরিন ম্যাডাম ক্লাসে এসে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার কথা জানালেন। ম্যাডাম বললেন, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে শিশু একাডেমিতে। আর সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে অর্ণব, সোহান ও জাফিয়া। এ খবর শুনে তারা খুবই উৎফুল্ল হয়ে ওঠে।
এরই মধ্যে অর্ণব বাবার কাছ থেকে একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস জেনে নেয়। সে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং নানা জাতীয় উৎসব সম্পর্কেও জানতে পারে। অর্ণবের আছে একটি সুন্দর জ্যামিতি বক্স। বক্সটিতে যত্ন করে রাখা আছে তার আঁকাআঁকির সব রঙ পেন্সিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে অর্ণব প্রতিদিনই বিভিন্ন সৌধ ও বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি এঁকে নিজের হাত পাকা করে নিচ্ছিল।
কিন্তু একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে অর্ণব বৃষ্টিতে ভিজে যায়। সঙ্গে ভিজে যায় তার স্কুলব্যাগ, বই-খাতা এবং জ্যামিতি বক্সও। বাবা তাকে বৃষ্টিতে ভিজতে নিষেধ করেছিলেন। কারণ বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসে। যেহেতু সে বৃষ্টিতে ভিজেছে, তাই অর্ণবের মনে হয় তার জ্যামিতি বক্সেরও জ্বর হয়েছে। সে বুঝতে পারছে না, কীভাবে জ্যামিতি বক্সের জ্বর সারাবে। জ্যামিতি বক্সের জ্বর না সারাতে পারলে তো সে একুশে ফেব্রুয়ারির দিন চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। এ নিয়ে অর্ণব গভীর দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।
শিল্পী মামুন হোসাইনের চমৎকার প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণে বইটি প্রকাশ করেছে জ্ঞান বিতান প্রকাশনী। ঠিকানা—৩৮/৪ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০। মূল্য ২০০ টাকা। বইটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলার ৩৭৫ নম্বর স্টলে।