চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সম্মানীভাতা যথাসময়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), রোভার স্কাউটসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের সম্মানী দেওয়া হয় দেরি করে। সপ্তাহ কিংবা মাস নয়, সম্মানীভাতা পেতে প্রায় বছরখানেক অপেক্ষা করারও নজির রয়েছে।
গত ২০২৩ সালের ২৫ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথমবর্ষ ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়। তবে এ ভর্তি পরীক্ষায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা বিএনসিসি ক্যাডেটরা তাদের সম্মানী পান চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি। রোভার স্কাউটের সদস্যরা ভাতা পেয়েছেন ২৬ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের আংশিক সম্মানী চলতি বছর জানুয়ারিতে পেলেও পুরো ভাতা এখনো পাননি। সেই হিসাবে সম্মানী পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৭০ দিনেরও বেশি। এরই মধ্যে গত ৪ মার্চ শুরু হয়ে গেছে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। অথচ এখনো সম্পূর্ণ পরিশোধ হয়নি আগের ভর্তি পরীক্ষার ভাতা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি ক্যাডেটদের প্রতি শিফটে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিজনে ৩০০ টাকা সম্মানী দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মচারীদের প্রতি ডিউটির জন্য ১ হাজার ৩১০ টাকা করে সম্মানী দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরে এসব সম্মানী হাতে পান সংশ্লিষ্ট ক্যাডেট ও কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসির একাধিক ক্যাডেট বলেন, ‘আমরা গত বছরের ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য এ বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি সম্মানী পেয়েছি। দায়িত্ব পালনের প্রায় ৯ মাস পরে আমরা সম্মানী পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য এক ধরনের ভোগান্তি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘আমরা গত বছরের ভর্তি পরীক্ষার ডিউটির টাকা এ বছর জানুয়ারিতে পেয়েছি। তাও আংশিক দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৬টা ডিউটির টাকা পাইনি। এসব টাকা পাব কিনা তাও জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলা হয়েছে, এর বেশি বাজেট নেই। এটা আমাদের জন্য হয়রানি।’
বিএনসিসির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয় কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. বায়েজীদ মাহমুদ খান বলেন, ‘গত বছরের ভর্তি পরীক্ষায় ক্যাডেটদের সম্মানী দিতে দেরি হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি ভর্তি পরীক্ষার নিরাপত্তারক্ষার জন্য আমাদের কাছে ক্যাডেট চায়। সেই অনুযায়ী আমরা ক্যাডেট দিই। এরপরে দায়িত্ব পালন করার সময় এদের নাস্তা বা সম্মানীর বিষয়টা প্রক্টরিয়াল বডি দেখে। আমরা এ বিষয়ে কথাও বলেছি প্রশাসনের সঙ্গে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সম্মানী দ্রুত দেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নূরুল আজিম সিকদার বলেন, ‘অফিসের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার জন্য সম্মানী দিতে দেরি হতে পারে। এসব বিষয় অ্যাকাউন্টস সেকশন দেখে। তবে এ বছর ভর্তি পরীক্ষার সম্মানী দিতে দেরি হবে না।’