প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পেরোলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন পায় শিক্ষার্থীরা। ২০০৬ সালের ৯ মে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দ্বিতীয় সমাবর্তন চান তারা। এর মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হয় বলেই মনে করেন তারা। তাই বিদায়ের হলেও এই দিন হয়ে ওঠে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিলে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ৩২টি স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ২৯ শিক্ষার্থীসহ মোট ১ হাজার ৩৯৯ গ্রাজুয়েট নিয়ে হয় প্রথম সমাবর্তন। পাঁচটি ব্যাচ নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম সমাবর্তনের অর্ধযুগ পরে আরও অন্তত ৯টি ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটরা আশায় থাকলেও মিলছে না সমাবর্তন।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে সহকারী জজ হিসেবে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা যারা সাবেক হয়েছি, তারা সমাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছি। ভাবছি, এটা কখন হবে? শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং ডিপার্টমেন্ট ও ফ্যাকাল্টি থেকে মেধা স্বাক্ষরের যে প্রাপ্তি রয়েছে, সেটা এই সমাবর্তনের মাধ্যমেই দেওয়া হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়টির লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান সেতু বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করেছি প্রায় দুই বছর হয়ে গেছে। এখনো সমাবর্তন হয়নি। এমনকি ছাত্র থাকাকালেও কোনো সমাবর্তন হতে দেখিনি। অথচ এ সমাবর্তনই সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা মেলবন্ধন তৈরি করে।
এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় যে র্যাকিং করে, সেখানেও অ্যালামনাই একটা গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটর হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এ সমাবর্তন আয়োজন করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের।’
চারুকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জি.এম. মেহেদী হাসান বলেন, ‘সমাবর্তন একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি নির্দেশ করে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করে, যেখানে স্নাতকরা তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি লাভ করেন এবং গর্ব অনুভব করেন।
সমাবর্তন হওয়া উচিত একটি সুসংগঠিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অনুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং পরিবার একত্রিত হয়ে একাডেমিক সাফল্য উদযাপন করবে। এটি স্নাতকদের নিজেদের শিক্ষার দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ দেয়, তাদের পাওয়া সহায়তার স্বীকৃতি জানায় এবং পেশাগত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। পাশাপাশি এটি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ককে শক্তিশালী করে এবং ভবিষ্যতের স্নাতকদের অনুপ্রাণিত করে নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। উপাচার্য থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। তারা সমাবর্তনের একটা তারিখ জানালেই আমরা আয়োজন করব।’




