সিলেটের প্রথম বেরসকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির চারটি অনুষদের ১১টি বিভাগের ১৭টি প্রোগ্রামের সহস্রাধিক নতুন শিক্ষার্থীর নবীনবরণ অনষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিনভর নানা আনুষ্ঠানিকতায় উৎসব মুখর পরিবেশে নবীনবরণ অনুষ্ঠান হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক অভিভাবকও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ রাগীব আলী। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, জ্ঞান অর্জনের জায়গা হলো বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে রয়েছে বিশ্ব সম্পর্কে জানার এবং নিজের দেশকে উন্নয়নের লক্ষ্যে নেতৃত্বদানে নিজেকে তৈরি করার সুযোগ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রয়েছে পর্যাপ্ত বাসের ব্যবস্থা।
আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে ড. সৈয়দ রাগীব আলী আরও বলেন, তরুণদের মাধ্যমেই উন্নত আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে ওঠবে। তারা সুশিক্ষা না পেলে ভবিষ্যতে দেশ কঠিন অবস্থায় পড়বে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে অভিভাবকদেরও সচেতন থাকতে হবে। সে লক্ষ্যেই লিডিং ইউনিভার্সিটির কাজ করে যাচ্ছে। এদেশে এখন অনেক কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে তাই উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদেশ নয়, দেশে থেকে নিজের দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে সক্ষম শিক্ষার্থীরা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ আব্দুল হাই বলেন, লিডিং ইউনিভার্সিটি হলো সঠিক জায়গা যেখানে রয়েছে পড়াশোনার সুন্দর পরিবেশ। তিনি শিক্ষার্থীদের বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও প্রদান করেন। সেইসঙ্গে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কুতি চর্চা করার আহ্বান জানান।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভুঁইয়া। তিনি নবীনদের উদ্দেশে বলেন, লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ড. সৈয়দ রাগীব আলী প্রতিষ্ঠিত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ শিক্ষা ও সেবা পেয়ে যাচ্ছেন। যা আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, শিক্ষায় এ অঞ্চলের সুযোগ সুবিধা ছিল খুবই সীমিত, এখন আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সব সুযোগ এ অঞ্চলে রয়েছে এবং তাতে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর অবদান উল্লেখযোগ্য।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম ও দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকার অতিথি সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বাসন।
নবীন শিক্ষার্থীরা কেন পড়াশোনা করতে এ বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করেছে সেই অনুভূতি প্রকাশ করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার তালুকদার এবং কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফারদিন আহমেদ। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিজেদেরকে এই পরিবারের সঙ্গে বড় হয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নের অংশিদার হবার জন্য সবার সহযোগিতা এবং দোয়া কামনা করেন।
কালচারাল প্রোগ্রামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কালচারাল ক্লাবের উপদেষ্টা ফরহাদ হোসেন। কালচারাল ক্লাবের সদস্য মেহেক ও শাওনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সিলেটের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী আইডল ইমন, জেসমিন ঝুমা, বাউল বিরহী কালা মিয়া, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রহিমা আক্তার রাখী ও আকরাম।
বিজ্ঞপ্তি/মাহফুজ