ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে দর্শকদের দুয়োধ্বনি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি পাওনা টাকার বিরোধেই নিয়ে খুন হন আরিফ আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়ার শুভ সূচনা ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনি ধর্ষণ-হত্যার বর্ণনা দিলেন ৪ ধর্ষক গ্রাহক আস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাফল্যের চূড়ায় পূবালী ব্যাংক ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল? মেসি-দ্যুতিতে রঙিন বিশ্ব ভুল পরিকল্পনায় ঝুলে গেল মন্ত্রীদের জন্য মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প মেসিতে মাতাল বিশ্ব বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ বিশ্বকাপে অভিষেকেই বিরল ভৌগোলিক কৃতিত্ব উজবেকিস্তানের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন
Nagad desktop

রাবি বধ্যভূমি : ইতিহাসে বেদনার অধ্যায়

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৪, ১১:৫০ এএম
রাবি বধ্যভূমি : ইতিহাসে বেদনার অধ্যায়
১৯৭১ সালে তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলকে মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করে নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করে এই স্থানে গণকবর দেয় পাকিস্তানি বাহিনী। পরবর্তী সময়ে এখানে বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়। খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বেদনার অধ্যায়। পাকিস্তানি বাহিনী আর তাদের এ দেশীয় দোসরদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ভয়াল স্মৃতি। ১৯৭১ সালে যখন স্বাধীনতাকামী বাঙালি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রাণপণে লড়ছিল; তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই স্থানে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। জুলুম-নির্যাতন, ধর্ষণ, লুটপাট ও নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে তারা। এতে নাম না জানা অসংখ্য শহিদের আত্মত্যাগের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভটি। আজও এই স্থানটি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর হয়ে আছে ও স্বাধীনতার জন্য অর্পিত প্রাণের বেদনাদায়ক স্মৃতি বহন করছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শামসুজ্জোহা হলের সামনের রাস্তা দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পূর্ব দিকে হেঁটে গেলেই দেখা যায় ইটের তৈরি একটি লাল স্তম্ভ। স্তম্ভটির অবস্থান সমতল থেকে বেশ খানিকটা উঁচুতে। এটি দাঁড়িয়ে আছে গোলাকৃতি একটি কূপের মধ্যে। কূপের চারপাশে বানানো হয়েছে কংক্রিটের গোলাকার বেদি। এই স্তম্ভের বেদিতে উঠতে হলে প্রথমে জুতা খুলতে হয়। তারপর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। আর এই সিঁড়ির দুই ধারে রয়েছে হাজারও ফুলগাছ। বেদিতে উঠলেই দেখা যায় কূপের গভীর থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ৪২ ফুট উঁচু ইটের স্তম্ভ। এ স্তম্ভটিই বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের এক টুকরো ইতিহাস। 

জানা যায়, ১৯৭১ সালে রাজশাহী ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, যুবক-যুবতীসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষদের ধরে এনে নির্যাতন করত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সে সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলকে মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করেছিল তারা। অমানবিক ও পাশবিক নির্যাতন শেষে নিরপরাধ মানুষগুলোকে কখনো জীবিত বা মৃত অবস্থায় গণকবর দেওয়া হয়েছিল এই এলাকাজুড়ে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একে একে সন্ধান মিলতে থাকে এই গণকবর বা বধ্যভূমির। পচা, গলিত, অর্ধগলিত বিকৃত দেহাবশেষ থেকে স্বজনদের খুঁজে বের করেছেন অনেকেই। কেউ পরনের জামা, হাতের ঘড়ি-আংটি, শারীরিক গড়ন বা বৈশিষ্ট্য বা অন্য কোনো প্রমাণ দেখে খোঁজার চেষ্টা করেছেন প্রিয়জনদের। স্বাধীনতার পর রাবির বধ্যভূমির এই গণকবরে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের জন্য মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এসেছিল অসংখ্য মাথার খুলি ও শরীরে বিভিন্ন অঙ্গের হাড়গোড়। 

অজস্র বেদনার স্মৃতিতে ঘেরা এই স্থানে প্রতিদিন কয়েকশ দর্শনার্থী বেড়াতে আসেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রাজশাহী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজনরাও বেড়াতে আসেন এখানে। এ ছাড়া কেউ রাজশাহীতে ঘুরতে এলে এখানে বেড়াতে আসেন ও শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে যান। 

বন্ধুদের সঙ্গে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও বেড়াতে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদ আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা প্রথমে এখানে আড্ডা দিতে ও মজা করতে আসতাম। কিন্তু এই স্তম্ভের ইতিহাস সম্পর্কে জানার পর আমরা শহিদদের স্মরণ করতে এখানে আসি।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং সাংবাদিক ছিলেন আহমদ সফিউদ্দিন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বধ্যভূমি সংলগ্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালান তিনি। খবরের কাগজকে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে জোহা হলকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করেছিল। বিভিন্ন উপায়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় নারী-পুরুষ, যুবকদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিল। তারা হলের কয়েকটি কক্ষকে টর্চার সেল বানিয়েছিল। হলে তথাকথিত আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করত তারা। বিচার শেষে বিভিন্নভাবে নির্যাতন এবং হত্যা করা হতো বন্দিদের।’

গণহত্যার বিষয়ে এ সাংবাদিক আরও বলেন, ‘জোহা হলের পেছন দিকের এলাকায় ইটের ভাটা ছিল। প্রথমদিকে পাকিস্তানি বাহিনী মানুষকে হত্যা করে ইটের ভাটার মধ্যে ফেলে রাখত। পরে মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে তারা মানুষকে মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখতে শুরু করে। এমনও খবর পাওয়া গেছে, যাদের ওই খানে নিয়ে হত্যা করা হতো, তাদের দিয়েই আগে কবর খোঁড়া হতো। জোহা হলের পেছনের ওই পুরো এলাকায় ৩০টির বেশি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব কবর থেকে ঘড়ি, মেয়েদের কানের দুল, গলার হার, আংটিসহ বিভিন্ন জিনিস পাওয়া গেছে। এ থেকে ধারণা করা যায়, নারী-পুরুষ কেউ রক্ষা পায়নি পাকিস্তানি হানাদারদের অত্যাচার থেকে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য ১৯৯৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল খালেক সরকারের কাছে সুপারিশ করেন। তারপর পরবর্তী উপাচার্য অধ্যাপক এম. সাইদুর রহমান খান ১৯৯৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্থানটিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন।

আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার ভেন্নাতলা বাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাবুল মোল্লা (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু ও তিনজন আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডে বাজারের পাঁচটি দোকান পুড়ে গেছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানান, বাজারে আগুন লাগার পর বাবুল মোল্লা স্থানীয়দের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। এ সময় একটি দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে বাবুল মোল্লা, আলামিন বিশ্বাস ও নুর মিয়া শেখসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

পরে আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুল মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোরে ভেন্নাতলা বাজারের নুর মিয়ার মুদি দোকান থেকে প্রথমে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর সকালের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে বাজারের পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে, নুর মিয়ার মুদি দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, কেসমত আলীর সার ও কীটনাশকের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেকানিকের দোকান এবং জাকির মোল্লার কাপড়ের দোকান।

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ জানান, প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে একজন মারা গেছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন। এই অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এনকেবি নয়ন/আজহার/

বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু
বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত শহীদ।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ শহীদ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ পুঁইছড়ি ফুটখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে থানা পুলিশ শীলকূপ ইউনিয়নে মহল্লাপাড়া এলাকা থেকে দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।

দুর্ঘটনায় নিহত হন মোহাম্মদ শহীদ (২৭)। কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা। আহত হয়েছেন আরেক আরোহী আরিফ আবদুল্লাহ (২৫), তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী কালু ফকির পাড়া নাজির হোসেনের পুত্র। 

পুলিশ জানায়, চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা বাঁশখালী থানার এসআই জামাল হোসেন, কনস্টেবল ওয়াসিম ও কনস্টেবল রাসেলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে সেটি না থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

দায়িত্বরত এসআই জামাল হোসেন জানান, পালানোর সময় মোটরসাইকেল আরোহীরা একটি কমলা রঙের ব্যাগ ফেলে যায়। পরে ওই ব্যাগ তল্লাশি করে ২০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। 

তিনি আরও জানান, তারা মোটরসাইকেলটির পিছু নিলেও কিছুদূর যাওয়ার পর সেটি দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়। পরে মোটরসাইকেলটি শীলকূপ ইউনিয়নের মহল্লাপাড়া এলাকায় গিয়ে স্পিডব্রেকারে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদের মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করা হলেও ধাওয়া-পিছু নেওয়া নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ বলছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি রবিউল হক জানান, পুলিশ চেকপোস্টে ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

শফকত হোসাইন চাটগামী/অন্তরা

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বারইপাড়া নিজ গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ৩৪৯ জন সেবাগ্রহীতার হাতে ফ্যামিলি কার্ড ও তাল গাছের চারা তুলে দেন।

বুধবার (১৭জুন) বুধবার সারাদেশের ২০টি উপজেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন এর সভাপতিত্বে এ সময় জেলা পুলিশ সুপার আশিস বিন হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ  উপস্থিত ছিলেন। পরে আইনমন্ত্রী সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বারইপাড়া জিকে খালের পাড়ে বারইপাড়া থেকে বালিয়াডাঙ্গা মাঠ পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। 

আলমগীর অরণ্য/তামান্না রুপা/

শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলার কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে র্দীঘ সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমান। এ সময় শিশুদের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পড়াশোনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দুই উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় কাটান তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের কন্যা মেহভীন রহমান মুনিয়ার উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
আড্ডার শুরু থেকেই প্রাণবন্ত ছিলেন জাইমা রহমান। শিশুদের একজন একজন করে কাছে ডেকে স্বপ্ন, ইচ্ছা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চান। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও জীবনদক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তিনি নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা শিশুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন।

একপর্যায়ে শিশুদের কাছে জানতে চান, তারা রান্না করতে পারে কি না। কয়েকজন শিক্ষার্থী ইতিবাচক উত্তর দিলে তিনি মজা করে বলেন, একদিন তাদের এলাকায় গেলে কী খাওয়াবে। শিশুরা জানায়, তারা বিরিয়ানি রান্না করবে। উত্তরে জাইমা রহমান হাসিমুখে বলেন, বিরিয়ানির সঙ্গে ইলিশ মাছও হলে মন্দ হয় না।

রামধননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান ওসমান রাহিন বলে, ‘খুব ভালো লেগেছে। এত কাছ থেকে উনার সঙ্গে কথা বলব, ভাবিনি। তিনি আমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করতেও বলেছেন।’

সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বাবলী বলেন, ‘শিশুরা প্রধানমন্ত্রী কন্যার সঙ্গে অসাধারণ সময় কাটিয়েছে। তিনি প্রতিটি শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন। এতে শিশুরা অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছে।’

আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. দৌলত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা নিজেদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ পেয়েছে।’

ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘আমরা আশা করিনি তিনি এত দীর্ঘ সময় শিশুদের সঙ্গে কাটাবেন। প্রতিটি শিশুর কথা শুনে তাদের উৎসাহ দিয়েছেন। এটি শিশুদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।’

চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা
ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমারের নাগরিক তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী চট্টগ্রামে এইচআইভি এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চট্টগ্রামের সঙ্গে তাদের ভাষাগত মিল থাকায় তারা সহজেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলার মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। তাতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে চট্টগ্রামের মানুষ। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের উদ্যোগে ‘সাংবাদিকদের সাথে মানবাধিকার ও এইচআইভিবিষয়ক কর্মশালা: বাংলাদেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল এইচআইভি-সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করা।

কর্মশালায় রিসোর্স পারসন ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. জোনায়েদ মাহমুদ খান। তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে, অর্থাৎ গত বছর ২১৭ জন রোহিঙ্গা এইডস রোগী চমেক হাসপাতালে এসেছিল। তার আগের বছর এসেছিল ২১৫ জন। তাদের কক্সবাজারের উখিয়া এআরটি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামে অবাধে চলাফেরা করে। কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তখন আমরা চিকিৎসা দিয়ে উখিয়া সেন্টারে পাঠাই। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসে না এ রকম রোগী বাইরে কতজন ঘোরাফেরা করছে, আমাদের জানা নেই। এসব রোগী মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।’ 

তথ্য হিসাবে জানানো হয়, ২০২৫ সালে সারা দেশে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে ২১৭ জন ছিল রোহিঙ্গা। আর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে ৩ হাজার ৯৪২ জনকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে পজিটিভ ছিল ৮১ জন, নেগেটিভ ৩ হাজার ৮৬১ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী। এই রোগীদের মধ্যে ১৫ জন মারা যায়। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক জোনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, যে ব্যক্তি ১৫ বা ২০ বছর বয়সে আক্রান্ত হয়, তার শরীরে এইডস প্রকাশ পেতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির শরীরে এইডসের জীবাণু শনাক্ত হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে। যথাযথ চিকিৎসা নিলে এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি সুস্থভাবে ও স্বাভাবিকভাবে ঘরসংসার করতে পারে। এমনকি তারা সন্তানও জন্ম দিচ্ছে। সন্তানদের শরীরে এইচআইভির জীবাণু নেই। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষের ফল। এই ইতিবাচক দিকের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক তরুণ-তরুণী বেপরোয়া জীবনযাপন করে। কারণ তারা জানে এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে এখন সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা যায়। 

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এইচআইভি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদমাধ্যম জনগণের ধারণা ও মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ভূমিকা রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরা এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মিডিয়ার দায়িত্ব অপরিসীম। দায়িত্বশীলতার অভাবে গণমাধ্যম কখনো কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এ ছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন কিংবা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত ও চাঞ্চল্যকরভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই এইচআইভি-সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। 

কর্মশালায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নাহিদ), সহকারী অধ্যাপক ডা. বর্ণালী বড়ুয়া, ডা. অজয় কুমার ঘোষ, ডা. সামিরা জামাল, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সিফাত সায়মা প্রমুখ।