শারদীয় দুর্গাপূজা আর সাপ্তাহিক বন্ধে আগামী ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত টানা চার দিন ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আর এই ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটক বাড়ার সম্ভাবনা থেকে ব্যস্ত সময় পার করছে এ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে ৭০ শতাংশ হোটেল-মোটেল অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কুয়াকাটার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় দীর্ঘ পর্যটক-খরায় পড়েছিল কুয়াকাটা। এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে। ফলে দিনে দিনে পর্যটকদের চোখ এখন সাগরকন্যার দিকে। তবে গত ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তনের পর থেকে কুয়াকাটা পর্যটক হারাতে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকও বাড়তে থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে পর্যটকদের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হবে। এরই মধ্যে বিলাশবহুল প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলো শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলের অন্তত ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে।
হোটেল ওশান ভিউর এজিএম আল-আমিন আপন বলেন, ‘সামনে টানা চার দিনের ছুটি। এ উপলক্ষে আমাদের হোটেলের রুমগুলো দুই দিনের জন্য শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। বাকি দুই দিনেরও প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। এখনো অনেকে ফোন করছেন, কিন্তু আমরা বুকিং নিতে পারছি না।’
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, কুয়াকাটায় সর্বমোট ২০০টি আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১০ থেকে ১৩ তারিখের জন্য প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলো অনেক আগেই বুকিং হয়েছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে কিছু রুম ফাঁকা রয়েছে। পর্যটকদের উন্নত সেবা দিতে এরই মধ্যে হোটেল-রিসোর্টগুলো প্রস্তুতি নিয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন জানান, আগামী চার দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় অসংখ্য পর্যটকের আগমন হবে। এ কারণে আগে থেকেই ট্যুরিস্ট পুলিশের কয়েকটি টিম মোতায়েন রয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারি ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ গণমাধ্যমকে বলেছেন, দীর্ঘদিন পরে কুয়াকাটার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও মোটেলে অগ্রিম বুকিংয়ে সাড়া পড়ল। আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিতে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমরা চারদিকে খেয়াল রাখব একজন পর্যটকও যেন হয়রানির শিকার না হয়।