কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার শিদলাই আশরাফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির চারটি ভবনের মধ্যে একটি ভবন এরই মধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ভবনগুলোতে এতদিন ক্লাস চললেও দুইটি ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। ক্লাস চলার সময় প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও আতঙ্কে থাকেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকির মুখেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরই মধ্যে তাদের প্রতিনিধিদল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। উপজেলা প্রশাসন বলছে, শিক্ষা প্রকৌশল বরাবর চাহিদা পাঠানো হয়েছে। শিগগির সংস্কার কাজ শুরু হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৪৯ সালে শিদলাই আশরাফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে চারটি ভবন বানানো হয়। এসব ভবনের একটিকে আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর আরও দুইটি ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টিতে ১ হাজার ৫৬ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সাম্প্রতিক সময়ের বন্যা শেষে বিদ্যালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ওই দুই ভবনেই প্রায় ৬৫০ শিক্ষার্থী পাঠ নিচ্ছে। বাকিরা স্বাভাবিক ভবনে ক্লাস করে। তাদের সবার দায়িত্বে আছেন ২২ জন শিক্ষক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৯ সালে একটি ভবন নিয়ে স্কুলটি যাত্রা শুরু করে। পরে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে আরও তিনটি ভবন নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে চারটি ভবন শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হতে থাকে। বেশ কয়েক বছর আগে চারটি ভবনের মধ্যে একটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে তিনটি ভবনে কার্যক্রম চলে। সাম্প্রতিক সময়ের বন্যা পরিস্থিতির পর দেখা যায়, পরিত্যক্ত ভবনের পাশের আরও দুইটি ভবনের অনেক জায়গায় দেয়াল, ছাদ, বিম ও পিলারে ফাটল ধরেছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা ও দেয়ালের আস্তর।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ফাটলের কারণে ক্লাস করার সময় তারা আতঙ্কে থাকে। ক্লাস চলা অবস্থায় প্রায়ই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। তখন তাদের মধ্যে আতঙ্ক কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একাধিকবার তারা নতুন ভবন বানানোর দাবি জানিয়েছে, কিন্তু কোনো ফল পায়নি।
ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিজানুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের একটি ভবন আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি আরও দুইটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাই।
প্রধান শিক্ষক মমিনুল হক ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যালয়ের তিনটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্কুল চলাকালে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। বন্যার পর থেকে এসব ভবনের বিম, ছাদ ও দেয়ালে ফাটলসহ শ্রেণিকক্ষের মেঝে নিচের দিকে দেবে গেছে। প্রতিটি ভবনই পুরাতন হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ বছর ধরে আমরা নতুন একটি একাডেমিক ভবনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাদের নতুন ভবন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স ম আজহারুল ইসলাম বলেন, শিদলাই আশরাফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এরই মধ্যে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে প্রকৌশলী এসে এস্টিমেট (হিসাব) নিয়ে গেছে। কাজ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ভারী বর্ষণের কারণে কাজ আপাতত স্থগিত আছে। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, যেন তাদের কোনো ক্ষতি না হয়। সে লক্ষ্যে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিমুক্ত জায়গায় ক্লাস করাতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল বরাবর আমরা এটির জন্য চাহিদা চেয়েছি। জেলা প্রশাসকের কাছে আলাদা করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই নতুন ভবন ও মেরামতের জন্য বরাদ্দ পাব।