চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলীতে ১২০ টাকা ভর্তুকি মূল্যে প্রতি ডজন ডিম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ডিম ব্যবসায়ী সমিতি। ডিমের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির অফিসের সামনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রথমদিনে ৬ হাজার পিস ডিম বিক্রির আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন একই স্থানে ডিম বিক্রি হবে। এ সময় চট্টগ্রাম ডিম ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর লিটন বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, তরুণরা উদ্যোগ নিয়ে বিক্রি করছে ১৪০ টাকায়। তবে আমরা ১২০ টাকায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। সারাদেশে আমরাই কমদামে ডিম বিক্রি করছি। যতদিন বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসে ততদিন এ কার্যক্রম চলবে। পাশাপাশি চাহিদা বাড়লে ডিম বিক্রির পরিমাণও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, তিনটি বিষয় মাথায় রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমত- হতদরিদ্র, মেহনতি মানুষ যাতে কম দামে ডিম কিনতে পারে, দ্বিতীয়ত- চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে আমরা গরীব মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করি। আমরা সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছি এবং তৃতীয়ত- ডিম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করছে, অতি মুনাফা করছে- জনমনে এরকম একটা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে। সে ধারণার পরিবর্তনের জন্য আমরা উদ্যোগটা নিয়েছি।
উল্লেখ্য, বন্যার অজুহাতে গত আগস্ট মাসের শেষের দিক থেকে ডিমের দামে শুরু হয় নানা নাটকীয়তা। গত ৮ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৪০ পিস ডিম আমদানি হয়। তবে এর বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি বাজারে। ব্যবসায়ীরা অসাধুতার সীমা ছাড়িয়ে গেলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর পণ্যটির দাম বেঁধে দেয় সরকার। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান ব্যবসায়ীরা। এরপর বিভিন্ন পোলট্রি ফার্ম, আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীরা শুরু করেন নতুন খেলা। পাইকারের কাছে বিক্রি করার সময় রসিদে লেখা থাকে সরকার নির্ধারিত দর, অর্থাৎ ১১ টাকা ১ পয়সা। কিন্তু চট্টগ্রামের পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন মূলত ১১ টাকা ৮০ থেকে ১১ টাকা ৮৫ পয়সায়। এভাবে চলে কারসাজি, আর কোটি কোটি টাকা লুটপাট।
টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাড়তি দরে ডিম কিনতে হওয়ায় পাহাড়তলীতে গত আগস্ট থেকে গড়ে ১২ টাকার উপরে প্রতিটি ডিম বিক্রি হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এসে পাইকারি এই বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি হয় ১৩ টাকার উপরে। অপরদিকে খুচরা বাজারে একজন ক্রেতাকে প্রতিটি ডিম কিনতে গুণতে হয়েছে ১৫ টাকা। ডিমের এমন লাগামছাড়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের মনে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়।
এদিকে সরকারের নির্ধারিত দামে ডিম কিনতে না পারা, রসিদ না দেওয়া, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানার কারণে গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর ডিম বেচাকেনা বন্ধ রাখেন পাহাড়তলীর অন্তত ১৫ জন আড়তদার।
তারেক মাহমুদ/এমএ/